সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মার্গারিটা কি বাংলাদেশি না রাশান?

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬

453654918_1471926961.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সম্প্রতি অলিম্পিকের মত বিশ্ব আসরে বাংলাদেশি বাবার এক রুশ তরুণী রিদমিক জিমন্যাস্টিকে সোনা জিতে আলোড়ন তুলেছে। তার কীর্তিতে 'উজ্জল' বাংলাদেশের মুখ। তবে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এই হিজাব-বোরকার দেশে মার্গারিটা মামুনকে ‘বাংলাদেশি কন্যা’ বা ‘বাংলাদেশের গৌরব’ বলে যখন কিছু বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি মিডিয়া আত্মতৃপ্তিতে ভুগেছে, তখন স্বভাবতঃই একটা প্রশ্ন এসে যায়, আসলে সে কি আদতে বাংলাদেশি হবার কারণে অলিম্পিকের রিদমিক জিমন্যাস্টিক-এর শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে?

যে দেশে নারীদের বিভিন্ন খেলাধূলায় অংশ নিতে এখনো পারিবারিক বা সামাজিকভাবে অকথিত অবরোধ কাজ করে, সেখানে রিদমিক জিমন্যাস্টিকের মত একটা ইভেন্টে খাটো কাপড় পরে, মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের ক’জন মেয়ে মাঠে নামতে সাহস করবে? জঙ্গি এবং হেফাজত-মার্কা ইসলামী কট্টর মৌলবাদীদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করার মত ক’জন বাংলদেশি পরিবার এবং কন্যা সন্তান এইসব শারীরিক কসরতে নিমগ্ন হবার চেষ্টা করবে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তির কথা না হয় বাদই দিলাম। তাছাড়া সংবাদপত্রের বদৌলতে কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম, মেয়েদের ফুটবল খেলাতেও এই ধরণের মৌলবাদীদের প্রতিবাদ বা উৎপাত।

নারীকে নিয়ন্ত্রণে থাকতে হয় পুরুষের। আর তা নাহলে পুরুষের পৌরুষত্বে বা ইগো-তে বাধে। এমনকি নারী নিজেও তার সত্ত্বার মুক্তি বা স্বাধীনতায় সচেতন নয়। ছোট্ট একটা ঘটনার কথা বলি। অনেক আগে বিটিভিতে মগ্ন হয়ে রাশান এক ব্যালেরিনার ব্যালে দেখছিলাম। এসময় পাশে বসা দু’জন অতিথির একজন, এক বয়সী মহিলা বলে ফেললেন, এদের কি বেহেশতে জায়গা হবে? অন্যজন তিরিশোর্ধ্ব যুবক মহিলার সাথে কন্ঠ মেলালেন। বর্তমান বাস্তবতা তো সেই আগের চেয়ে সঙ্গীন। এখন বাংলাদেশে যেখানে হিজাব এবং বোরকার প্রচলন দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে বেড়েই চলেছে, সেখানে মার্গারিটার ছান্দিক জিমন্যাস্ট নিয়ে আগামী ১০০ বছর কেন ১০০০ বছরেও বাংলাদেশ থেকে নতুন একজনের তৈরি হওয়া তো দূরে থাক, এইসব জিমন্যাস্টিক নিয়ে মাঠে নামার প্রশ্নই আসবে না।

যতই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলা হোক না কেন, মার্গারিটা বংশগতভাবে এই গুণটা অর্জন করেছে তার মার রাশান জিন থেকে। “তার মা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট, তার হাত ধরেই এই খেলায় হাতেখড়ি রিটার। পরে সেখান থেকে এ বছর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন তিনি।” শুধু হাতেখড়িই নয়, এর পুরো লালন-পালন হয়েছে রাশিয়ায় থাকার কারণেই। কারণ রাশানদের এই ঐতিহ্য আজকের নয়, যুগ যুগ ধরে।

আর বাংলাদেশের আদৌ কি কোন রিদমিক জিমন্যাস্টিক ঐতিহ্য তৈরি হয়েছে, যার কারণে রিটা-কে নিয়ে আমরা গর্ব করবো? আর যে পোষাক-আশাকে এই ধরণের রিদমিক জিমন্যাস্টিকে অংশ নেয়া প্রয়োজন, সেরকম বাস্তবতা কি বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছে? ক্রীড়াবিদ না হয়েও বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিবের স্ত্রী-র পোষাক-আশাক কীভাবে জঙ্গি ছাগুদের আক্রমণের স্বীকার হয়েছে-হচ্ছে, সেটা কী ফেসবুকের কল্যাণে আমরা কম জানি!

কালো আফ্রিকান, জ্যামাইকানরা ইউরোপ, এমেরিকায় এসে, সেসব দেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠে, এবং সে সাথে ওসব দেশে অনুশীলন করে ঐ দেশের একজন হয়েই অলিম্পিক বা অন্য ধরণের বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সে হিসেবে, মার্গারিটা মামুনের তার বাবার বাংলাদেশি পরিচয় ছাড়া জিমন্যাস্টিকের ক্ষেত্রে আদৌ কোন ‘বাংলাদেশি’ ইতিহাস বা ঐতিহ্য নেই।

সুতরাং আত্মতৃপ্তির ক্ষেত্র বাংলাদেশিদের এতটুকুই – রিটা আমাদের আত্মীয়, শুধুই চাচাতো বা মামাতো বোন অথবা ভাতিজী বা নাতনী!



লেখক: শামান সাত্ত্বিক


ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ৩৬৭৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন