সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২রা আশ্বিন ১৪২৬ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আ. লীগের কাউন্সিল

মুনতাসীর মামুন

সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬

662560438_1477286067.jpg
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শেষ হয়েছে। এই লেখা যখন লিখছি, তখন দলটির নেতৃত্ব নির্বাচন চলছিল। বর্তমান কাউন্সিল সফল হবে নিঃসন্দেহে। শেখ হাসিনাই সভাপতি হবেন, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। কারণ তাঁর কোনো বিকল্প নেই। তবে পরবর্তী নেতৃত্ব গঠন করে যাওয়া তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। আমরা আশা করব, দলের নেতৃত্ব দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকবে না; আশা করব নেতৃত্ব হবে লিবারেল, প্রগতিবাদী। কথায় কথায় ধর্মব্যবসায়ীদের হুমকিতে কাবু হয়ে সমঝোতা করবে না।

নতুন নেতৃত্বকে অবশ্যই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে বিশ্বাস করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অব্যাহত রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। অর্থনৈতিক জিডিপির মতো শিক্ষা-সংস্কৃতির জিডিপি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগে থেকেই নানা গুজব ছিল। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে কি না, এলে তা কেমন হবে। নতুন নেতৃত্ব প্রবীণ-নবীন মিশিয়ে করাই বাঞ্ছনীয়—তাতে ভারসাম্য থাকে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে। কারণ বিএনপি-জামায়াত রেখে শুভ রাজনীতির সূচনা করা যাবে না। আওয়ামী লীগের বিকাশ, বাংলাদেশের সম্ভাবনা, আমাদের ভবিষ্যতের অনেক কিছুই নির্ভর করবে কাউন্সিলরদের ওপর, শেখ হাসিনার ওপর। বর্তমান সভাপতি তৃণমূলের কথা শোনেন না—এ কথা সমালোচকরাও বলবেন না। তিনি অবশ্যই শোনেন কিন্তু কী করবেন সেটি তাঁর এখতিয়ার। এখন অন্তত এটি বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা যখন আছেন দলের নীতিগত অবস্থানের খুব একটা পরিবর্তন হবে না। আর আওয়ামী লীগে সমষ্টিগত নেতৃত্বে থাকলেও কর্তৃত্ব সভাপতির হাতেই থেকেছে।

সব দলই কমবেশি কাউন্সিল করে। আওয়ামী লীগ সব সময়ই তা করেছে; একেবারে নির্দিষ্ট সময়ে না হলেও। নির্বাচনের ব্যাপার আছে। তবে কাউন্সিলররা সব দায়িত্ব সভাপতির ওপরই ন্যস্ত করেন। কাউন্সিলে বিতর্ক হয় না বা কার্যনির্বাহী সভায় প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় না তা-ও নয়। তবে শেষ কথা সভাপতিরই। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের ঐতিহ্য।

আওয়ামী লীগ কালক্রমে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়েছে। এই অঞ্চলে কোনো রাজনৈতিক দলের ৬৭ বছর টিকে থাকাই বিশাল এক অর্জন। এর একটি কারণ, আওয়ামী লীগে যে কেউ সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, মানুষ তা বিশ্বাস করেছিল। শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের মূল আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, সেটি বিস্তৃত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে।

৬৭ বছরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন একটি দেশের স্বাধীনতা। ১৯৪৯ সালে যখন আওয়ামী মুসলিম লীগ হয় তখনই তাদের ম্যানিফেস্টোতে স্বায়ত্তশাসনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু ধারণাটিকে আরো সুস্পষ্ট, তীক্ষ্ন করে বাঙালির প্রাণের দাবিতে পরিণত করেছিলেন। ছয় দফাকে এক দফায় নিয়ে গিয়েছিলেন ধাপে ধাপে।

১৯৬৪ সালের কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণের কথা বলেছিলেন। স্বাধীনতার পর যমুনা সেতু নিয়ে প্রথমেই তিনি জাপানের সঙ্গে কথা বলেন। সে সেতু পরে সম্পন্ন করা হয়েছে শেখ হাসিনার সময়। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিভিন্ন সময় তার বড় অংশ পূরণ করেছে বা পূরণ করতে সচেষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের আর কোনো দল এমন দাবি করতে পারবে না।

আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় গেছে তখনই সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন হয়েছে। ১৯৫৪, ১৯৫৬, এমনকি ১৯৭২-৭৫ সাল ধরলেও তা পরিলক্ষিত হবে। এটি আলটপকা কোনো মন্তব্য নয়। স্ট্যাটিসটিকসই এর প্রমাণ। শেখ হাসিনাকে যত অপছন্দই করেন, তাঁর আমলে উন্নয়ন হয়নি কেউ কি বলতে পারবেন সংখ্যা তাত্ত্বিক হিসাব দিয়ে? ২০০৮ ও ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার আমল বিবেচনা করুন। সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের গ্রাফ বাড়ছে।

জিয়া, এরশাদ বা খালেদার আমলে এমনটি দেখানো যাবে না। আসলে আওয়ামী লীগ আমলেই গরিবরা কিছু পায়। এখানে গরিবদের জন্য বর্তমান আমলে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, তার ফিরিস্তি আমি দেব না। এই দেশ স্বাধীন করেছিল গরিবরা, এ রাষ্ট্রে গরিবদেরই প্রাধান্য পাওয়ার কথা। ১৯৭৫ সাল-পরবর্তী শাসকরা গরিবদের পক্ষে ছিলেন না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার করার সময় শুধু এ বিষয়টি মনে রাখে না, কার্যকর করারও চেষ্টা করে।

শেখ হাসিনার এ আমলে এত সাফল্য আছে যে হিসাব রাখা মুশকিল। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সরকারের প্রধান এজেন্ডা এখন জঙ্গি দমন। দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি দমনে শেখ হাসিনা নিঃসন্দেহে এগিয়ে আছেন। এ সাফল্য দলে ও সরকারে অতীব সন্তুষ্টির সৃষ্টি করেছে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, শুধু নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে কোথাও জঙ্গি দমন করা যায়নি। সাময়িকভাবে হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। জঙ্গিত্বের বিষয়টি মূলত আদর্শের লড়াই, মনোজগৎ জয় করার লড়াই। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ঘোষণা করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের দলে নেবে না। এটি শুভ সংবাদ। তবে এর সঙ্গে যদি যুক্ত হতো জামায়াত ও জঙ্গি পিতার সন্তানদেরও দলে নেবে না তাহলে তা আরো সম্পূর্ণ হতো।

গত কয়েক দশকে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সেক্টরে অসংখ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনার আমলেই দেশের সার্বভৌমত্ব চিহ্নিত হয়েছে; অর্থাৎ সীমান্ত চুক্তি হয়েছে, ছিটমহল সমস্যা মিটেছে, যা ১৯৪৭ সাল থেকে মেটানো যায়নি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে ১৯৭২ থেকে সমুদ্রসীমা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব, তার সমাধান হয়েছে, অবকাঠামোর প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে, গ্রামগুলো টাউনশিপে পরিণত হয়েছে, মানুষের আয়-রোজগার বেড়েছে, জিডিপি বেড়েছে। তবে ৫০ বছর পর মানুষ এগুলো ভুলে যাবে। কারণ তখন তারা উন্নত দেশের বাসিন্দা, পূর্বসূরিদের কথা মনে থাকবে না—এটি স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে। কিন্তু ইতিহাসে থাকবে যে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছিলেন প্রচলিত ধারায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ায়, এমনকি চীন, জাপান, কোরিয়াও যা পারেনি, বাংলাদেশ তা পেরেছে এবং এ কৃতিত্ব আমি বলব, সম্পূর্ণই শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আর যাই হোক বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি বড় অংশ এ বিচার চায়নি। এখন এটি অনেকেই অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু ঘটনা সত্য।

আওয়ামী লীগের ও শেখ হাসিনার আরেকটি বড় কৃতিত্ব পাকিস্তানীকরণ প্রতিরোধ। জিয়া-এরশাদ, খালেদা-নিজামীরা বাংলাদেশের যে পাকিস্তানীকরণ চেয়েছিলেন তা প্রতিরোধ করা হয়েছে।

বর্তমানে যেসব রাজনৈতিক দলকে গণনার মধ্যে আনা হয়, যেমন আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ—এর মধ্যে একমাত্র আওয়ামী লীগই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিকশিত হয়েছে। ফলে এ দলের মৌল ওরিয়েন্টেশন নিরস্ত্রদের ক্ষমতায়ন। অন্যদিকে বিএনপি পাকিস্তানমনস্ক। দলটি পাকিস্তানের ছায়া থেকে সরে আসতে পারেনি। বিএনপি-জামায়াত একই দলের দুটি দিক।

আওয়ামী লীগ অধিক গণতন্ত্রায়ণ ও মৌলভাবে সামরিক শাসনবিরোধী। বিএনপি-জামায়াত জোট যে আওয়ামীবিরোধী, তার মূল কারণ এটি। আওয়ামী লীগের একটি বৈশিষ্ট্য সজীবতা। ১৯৪৯ সাল থেকে প্রায় সময়ই ছিল তাদের জন্য দুঃসময়। আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা কম করে দুই-তিন বছর জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু ১১ বছর। কয়েকবার এ দল বিলুপ্ত করা হয়েছে। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতোই তা আবার জেগে উঠে ডানা ঝাপটাচ্ছে। বিরোধী দলে থাকতে হয়েছে বহু দিন। তাতেও নেতাকর্মীরা ভেঙে পড়েনি। এই সজীবতা খুব কম দলেই আছে। আওয়ামী লীগ থেকে অনেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল গড়েছেন। কিন্তু তাঁদের সেসব দল বিলীন হয়ে গেছে। মূল আওয়ামী লীগ যেমনটি ছিল তেমনটিই আছে।

আওয়ামী লীগ মধ্যপন্থী দল। তবে মৃদু বামের সঙ্গে এ দলের ঘনিষ্ঠতা সব সময়ই ছিল। বঙ্গবন্ধু সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। তাঁর আত্মজীবনীতে এর উল্লেখ আছে; ১৯৭২ সালের সংবিধানেও মূলনীতি হিসেবে তা যুক্ত করেছিলেন। স্বাধীনতার পর দুটি বাম দলের সঙ্গে জোটও করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মধ্যপন্থা অবলম্বন করলেও বামের প্রতি তাঁর দুর্বলতা ছিল। ১৯৭০-৭৫ সালে এ কারণে আওয়ামী লীগে ডান, রক্ষণশীল, প্রতিক্রিয়াশীল অংশটি তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ব্যক্তিগতভাবে হয়তো পদ পেয়েছেন, যেমন খন্দকার মোশতাক। হয়তো এ কারণে সরকার প্রতিক্রিয়ার পক্ষে যায়নি।

অনেকে বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে না, তখন দলে সংহতি থাকে, পরস্পরের বিরোধিতা কম থাকে। নেতারা কর্মীদের প্রতি অশেষ মনোযোগ দেন। দল সাহসী থাকে। কথাটি হয়তো অনেকাংশে সত্য; যদিও দলীয় নেতৃত্ব কখনো প্রকাশ্যে তা স্বীকার করে না।

দলে যারা সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছে বা নিচ্ছে তাদের মতে, সরকার ও দল ঠিকঠাক চলছে, কোনো সংকট নেই। তবে ভেতর থেকে দেখলে বোঝা যাবে, আওয়ামী লীগ সেই দল আর নেই। একেকটি এলাকায় নতুন এমপিরা নতুনভাবে দল সাজিয়েছেন। যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তাঁরা পাশে নেই, অথবা আউট। অনেক এলাকায় টাকার বিনিময়ে জামায়াত-বিএনপি থেকে দলে লোক আনা হয়েছে, স্থানীয় সরকারে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নতুন নবাবরাই দলের সব নিয়ন্ত্রণ করে। স্থানীয় নেতার কোনো ক্ষমতা নেই। এভাবে অগোচরে আওয়ামী লীগে একটা পরিবর্তন এসেছে, যা কেন্দ্র অবগত নয়। কেন্দ্রে যাঁরা আছেন, শোনা যায়, তাঁদের অনেকেও নমিনেশন বাণিজ্যে যুক্ত। সম্পাদক, যুগ্ম, সাংগঠনিক বা বিভিন্ন সম্পাদক গত তিন বছরে কয়টি জেলা সফর করে খোঁজখবর নিয়েছেন? দলীয় প্রধানও এসব খবর পান। কিন্তু তাঁর করার কিছু নেই। কারণ দলের নেতাদের মানসিকতা বদলে যাচ্ছে।

নতুন নেতৃত্ব আসছে। তবে ওপরে যাঁদের কথা বললাম, নতুন কাউন্সিলে তাঁদের মধ্য থেকেই যদি অধিকাংশ মুখ নির্বাচিত হন তাহলে বর্তমান আওয়ামী লীগও এ রকম থাকবে না। আদর্শ ও নীতি বদলে যাবে। শেখ হাসিনার আমলে লিবারেল বা মধ্যবামের সমর্থকরা যে সমর্থন-ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ক্ষেত্রে দলনেত্রী জঙ্গিদের ক্ষেত্রে যে রকম ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন সে রকম করলে দল একরকম হবে। যদি সেটি না করেন তাহলে দলে টানাপড়েন বাড়বে বই কমবে না।

সবশেষে এক কথায় বলতে পারি, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সামগ্রিক রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দলকে সজীব করে তুলেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দল ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে। কাউন্সিলে যেসব বিদেশি প্রতিনিধি এসেছিলেন তাঁরা একবাক্যে বলেছেন, শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশ না, এশিয়াসহ বিশ্বে জননেত্রী হিসেবে স্বীকৃত; বালাদেশের ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান প্রভূত। এত পাওয়া এই সময়ের আর কোনো রাজনীতিবিদের ভাগ্যে ঘটেনি।

এই সময়টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে সুসময়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি স্বীকৃত, দেশে তো বটেই। তাই এখনই সময় দলকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার। যে দল সব সময় জনগণের পক্ষে থাকবে। লিবারেল ভাবধারা এগিয়ে নেবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে। শেখ হাসিনা মানুষের মুক্তির যে কথা বলছেন, সেই মুক্তি যেন সম্পন্ন হয়। আমরা তা না দেখে যেতে পারি, শেখ হাসিনাও তা না দেখে যেতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করে যান, তাহলে তারাই তাঁর স্বপ্ন অটুট রাখবে। আমাদের স্বপ্নও সফল হবে। একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তা-ই। আমরা মনে করি, শেখ হাসিনা অন্যান্যবারের মতো এবারও ব্যর্থ হবেন না।

লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // আর কে এই লেখাটি ১৪৯৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন