সর্বশেষ
সোমবার ১১ই ভাদ্র ১৪২৬ | ২৬ আগস্ট ২০১৯

বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয় এবং সন্দিগ্ধ ভারত

শতফুল ফুটতে দাও

বুধবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৬

1665421168_1481113615.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বাংলাদেশের ৪৫ বছরের ইতিহাসে যে ঘটনা ঘটেনি, তা-ই ঘটেছে এবার। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। ইতিহাসের নিরিখে এই সফরটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেটা অনেকেই অনেকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও ভারতের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ থেকে অনেকেই ভেবেছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ইতিহাস নির্ধারিত সম্পর্ক গড়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে সেই ধরনের টেকসই এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তাই বলে একথা বলা যাবে না, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কোনো আদান-প্রদান নেই। বাংলাদেশের সামরিক অফিসাররা ভারতের সামরিক একাডেমিগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য যান। একইভাবে ভারতের সামরিক অফিসাররা বাংলাদেশেও প্রশিক্ষণের জন্য এসে থাকেন।

ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদ অলংকৃত করেছিলেন। পরবর্তীকালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানও হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ নয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেসব সেনা কর্মকর্তা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করেছিলেন এবং যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন তারা অনেকেই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ছিলেন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যুক্ত থাকার ফলে দৈনন্দিন জীবনে যেসব তিক্ত অভিজ্ঞতা তারা অর্জন করেছিলেন, সেগুলোই তাদের শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী হতে অনুপ্রাণিত করেছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধিকারের সংগ্রাম তাদের বিদ্রোহী হতে অধিকতর মনোবল জুগিয়েছিল।

এসব সত্ত্বেও একথা সত্য যে, প্রতিটি সামরিক বাহিনী একটি মোটিভেশনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এর ব্যতিক্রম ছিল না। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে মোটিভেশনের প্রধান বিষয়টি ছিল ভারতকে দুশমন রাষ্ট্র হিসেবে মনে করা। মনোজগতের গভীরে থাকা এ বিষয়টি নবীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে যে সামরিক বাহিনী গড়ে উঠেছিল, তাকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বোধ করতে কিছুটা হলেও পিছুটান সৃষ্টি করেছিল। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বহু অনিষ্পন্ন সমস্যাও বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে কিঞ্চিত হলেও আস্থার অভাব সৃষ্টি করেছিল। মনস্তাত্ত্বিক কারণে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তা অপসারণের জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের অতি সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর সেই দূরত্ব অপসারণে কতটা সফল হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একথা বলা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী চীন থেকে দুটি সাবমেরিনের প্রথমটি হাতে পাওয়ার পর ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে ভ্রুকুঞ্চন দেখা দেয়। ভারতীয় প্রতিরক্ষাবিশারদরা কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। জনসংখ্যার দিক থেকে বড় হলেও বাংলাদেশ ভূখণ্ডগতভাবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। এমন একটি রাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিনের কিই বা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে, ‘সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি শত্রুতা নয়।’ এমনটি যে রাষ্ট্রের লক্ষ্য, সেই রাষ্ট্রের সমরসজ্জা বৃদ্ধির কি প্রয়োজন আছে? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য সম্পর্কে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের বক্তব্য হল, এটি কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল প্রতিপাদ্য হতে পারে না। কারণ রাষ্ট্রমাত্রই ভিন্ন সত্তা, পৃথক অস্তিত্ব এবং সার্বভৌম পরিচয়। রাষ্ট্রের এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এমনকি বৈরিতাও সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণেই প্রতিটি রাষ্ট্রই আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে চায়।

একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বড় রাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয় না। এই ঘাটতি তাকে পূরণ করতে হয় পররাষ্ট্রনীতি এবং অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে। বাংলাদেশের তিন দিক ঘিরে আছে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র অর্থাৎ ভারত, সেই ভারত রাষ্ট্র ও রাষ্ট্ররক্ষা দর্শনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র এবং মনুসংহিতা। মনুসংহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্রমাত্রই শত্রু। এজন্যই আমরা দেখতে পাই ভারতের সঙ্গে তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক কখনই সুখদায়ক হয় না। এটাও একটি বড় কারণ যে, ভারত শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার কাজে সর্বাধিক মনোযোগ দিয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমরা শংকিত বোধ করব না, যতক্ষণ এই সমরশক্তি আমাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ না করা হয়। অথবা এই সমরশক্তিকে রক্তচক্ষু হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না করা হয়। বাস্তবতা হল এখনও দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়ে গেছে। এগুলো কবে নাগাদ মীমাংসার আলো দেখবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা করা অত্যন্ত কঠিন।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশ। এরকম একটি দরিদ্র দেশের জন্য সামরিক সাজ-সরঞ্জাম ক্রয় করার ক্ষেত্রে খুব হিসেবি হতে হয়। খরচের বিবেচনায় চীন থেকে ক্রয় করা সামরিক সাজ-সরঞ্জাম অন্য দেশের তুলনায় সাশ্রয়ী। সম্ভবত এ কারণে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর চীন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্রশস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা।

তার মানে এই নয়, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশ থেকে তার সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করে না। তবে একথাও সত্য, নিছক অস্ত্রবলে কোনো দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না। ভারতের লক্ষ্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া। অর্থাৎ ভারত পরাশক্তির পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার মনোবাসনা লালন করে।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারত নিরক্ষরতা ও স্বাস্থ্যহীনতার বোঝা কাঁধে নিয়ে বড় শক্তি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছে, যা কখনই পূরণ হওয়ার নয়। পৃথিবীর কোনো উন্নত রাষ্ট্রই এমন উল্টো পথে হেঁটে উন্নয়ন ও শক্তি-সামর্থ্যরে শিখরে উঠতে পারেনি। একথা তো অনস্বীকার্য সমরশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার জন্য জ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে যেমন তার ন্যূনতম নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সমরশক্তিতে বলীয়ান হতে হবে, তারও চেয়ে শতগুণ বলীয়ান হতে হবে জ্ঞান প্রযুক্তি ও মেধার শক্তিতে। এ ব্যাপারে আমরা কতটুকু করতে পেরেছি সে ব্যাপারে আত্মজিজ্ঞাসার প্রয়োজন আছে।

বাংলাদেশ চীন থেকে প্রথম সাবমেরিনটি সংগ্রহ করেছে। আরও একটি সাবমেরিন চীন থেকেই সংগ্রহ করা হবে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের যে সমুদ্রসম্পদ রয়েছে সেগুলো পাহারা দেয়ার জন্য মাত্র দুটি সাবমেরিন যথেষ্ট কিনা সে প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরা যদি আমাদের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা করে দেশের কাজে লাগাতে পারি তাহলে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যেতে পারব। এই এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য অর্জনের প্রতি ভারতের কোনো ধরনের সন্দেহ পোষণ সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিচায়ক হতে পারে না।

ভারতের বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক এমকে ভদ্রকুমার ৪ ডিসেম্বর তার এক লেখায় লিখেছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে অতি সম্প্রতি চীনের সাবমেরিন হস্তান্তর নয়াদিল্লিতে বিপদের ঘণ্টাধ্বনি তুলেছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার আশা পোষণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া অস্ত্র কেনাবেচার মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও জোরদার করতে চান।

ভদ্রকুমারের লেখা থেকে আরও জানা যায়, বাংলাদেশে চীনের সাবমেরিন হস্তান্তর অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কাজ। পারিকর তার তিন বাহিনীর উপপ্রধানদের নিয়ে চীনকেন্দ্রিক সফরে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় বিশ্লেষকরা এমন একটি উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, সাবমেরিন বিক্রয় ভারতকে ঘেরাও করে ফেলার একটি চীনা কৌশল। ভদ্রকুমার স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ক্রেতা এবং চীন বিক্রেতা, দাতা নন। ৪০৬ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনায় অনেক বিশাল অংকের টাকা। অথচ চীনের জন্য এটা একটি লাভজনক ব্যবসায়িক কারবার। ভদ্রকুমারের মতে, বাংলাদেশ এ রকম একটি সিদ্ধান্ত সুচিন্তিতভাবেই নিয়েছে এবং এর ভবিষ্যৎমুখী তাৎপর্যও রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ তার নৌবাহিনীর জন্য প্রথমবারের মতো সাবমেরিন সংগ্রহ করল। মজার ব্যাপার হল, ২০১৩ সালে যখন চুক্তিটি নিয়ে দেনদরবার চলছিল তখন রাশিয়া বাংলাদেশকে তার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার জন্য এক বিলিয়ন ডলার রফতানি ঋণ দিতে চেয়েছিল। কার্যত বাংলাদেশ চীনে তৈরি সাবমেরিনই পছন্দ করেছিল। ভদ্রকুমার মূল ইস্যুটির প্রতি আলোকপাত করতে চান। যে বাংলাদেশ তিনদিকে ‘বন্ধু ভারত’ দ্বারা ঘেরাও হয়ে আছে, সেদেশের কেন সাবমেরিনের প্রয়োজন? এই অস্ত্র সমুদ্রে অন্যদের প্রবেশ রুদ্ধ করতেই ব্যবহৃত হবে। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। বাংলাদেশ তো মিয়ানমার অথবা থাইল্যান্ড দ্বারা ভীতিবোধ করছে না। ভদ্রকুমারের পরামর্শ হল, পারিকরের উচিত বাংলাদেশের আসল উদ্দেশ্য কী তা বোঝার চেষ্টা করা। নরেন্দ্র মোদির সরকার এতকাল দাবি করে এসেছে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি সাফল্যের কাহিনী। আসল কথা হল, ভারত প্রায়ই তার প্রতি প্রতিবেশীদের ধারণার রূপটি এড়িয়ে যেতে চায়। ভারত তার মনসই বিশ্বাসে নিমগ্ন থাকতে চায়।

ভদ্রকুমার মনে করেন, বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনাটি মূল প্রতিপাদ্যের একটি ভিন্নরূপ মাত্র। বাংলাদেশ মনে করে কিছু না থাকার চেয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি হলে দুটি সাবমেরিন বাংলাদেশের জন্য বেহেতার হবে। বাংলাদেশ অবশ্যই চাইবে বঙ্গোপসাগরে তার নৌচালনার অধিকার এবং বাংলাদেশ এটিকে তার সার্বভৌম অধিকার মনে করে। ধারণা করা যায় বেইজিং বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জিজ্ঞাসা করেনি সাবমেরিন দিয়ে বাংলাদেশ কী করবে? যেমনটি ভারতও শ্রীলংকাকে প্রশ্ন করেনি কী কারণে শ্রীলংকা ভারতের সাহায্যে হাম্বানটোটা বন্দরের উন্নয়ন করতে চায়।

সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, চীন বিশ্ব অস্ত্রবাজারে তার অবস্থান সৃষ্টি করতে চায়। এতে চীন একদিকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, অন্যদিকে তেমনি একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবী সম্পর্কে চীনের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে। চীনের এই স্বপ্ন স্থিতিশীলতা ও শান্তির স্বপ্ন। চীন তার রাষ্ট্রীয় সীমান্তের বাইরে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়নি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে চীনা নেতা দেং শিয়াও পিং তার ভাষণে বলেছিলেন, চীন আধিপত্যকামী নয়। যদি কখনও চীন সে পথে পা বাড়ায়, তাহলে বিশ্বের শান্তিকামী জনগণের কর্তব্য হবে তা প্রতিরোধ করা। মনে হচ্ছে, ভারত চীন সম্পর্কে অকারণ সন্দেহ বাতিকে ভুগছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় চীন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায় না। ভারত যেদিন এই সত্যটি আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করবে সেদিন থেকেই ইতিহাসবিদ আর্নল্ড টয়েনবির উক্তি, একবিংশ শতাব্দী হবে এশিয়ার শতাব্দী- এই ভবিষ্যদ্বাণীটি সত্য প্রমাণিত হবে।

পুনশ্চ: বিদেশে ছিলাম বলে জানতে পারিনি সাংবাদিক মাসুদুর রহমান মামুন মারা গেছেন। দেশে ফিরে যুগান্তরের মাহবুব কামালের মুখে শুনলাম যখন, বেদনাপ্লুত হয়ে পড়েছি। সাপ্তাহিক রোববারের পক্ষ থেকে মাঝেমাঝেই আসতেন লেখা নিতে, কখনও বা অনুলিখন করতেন। সুদর্শন, অমায়িক, বুদ্ধিদীপ্ত মানুষটি এত দ্রুত, এত সহজেই চলে গেলেন!

লেখক: ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ।

সূত্র: যুগান্তর

ঢাকা, বুধবার, ডিসেম্বর ৭, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১৮৬১২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন