সর্বশেষ
সোমবার ১লা আশ্বিন ১৪২৬ | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৭

308339046_1486747878.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বছরখানেক আগে যে পথ দিয়ে আপনি কাজে যেতেন, আজও হয়তো সে পথেই কাজে যাচ্ছেন। সকালের ব্যস্ততার কারণে আর কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার টানে যে পথে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন, তার চারপাশ তেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি আপনার কাছে। এক বছর আগেও যেভাবে চলছেন, এখনো হয়তো সেভাবেই চলছেন।

রিক্সা কিংবা সিএনজি চালিত গাড়িই আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসছে কর্মক্ষেত্রে। আপনার এই প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়েই আমাদের এই দেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

এখন আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পনের কথা ভাবছি। আমাদের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার হয়েছে। আপনার অজান্তেই নিরব বিপ্লব হয়ে যাচ্ছে দেশে। কিছু বিপ্লব নিরবেই হয়ে যায়, সহজে তা মানুষের চোখে পড়ে না। বিপ্লব যদি মানুষের জীবন যাত্রায় ধনাত্নক কিছু যোগ করতে পারে, তবে সে বিপ্লব নিয়ে আলোচনা সমালোচনা কমই হয়। কিন্তু বিপ্লব যদি, প্রাত্যহিক জীবনে ঋণাত্নক অনুভুতির সৃষ্টি করে, ঋণাত্নক চেতনার উম্মেষ ঘটায়, তখন তা নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়।

যেমন জনগণ যদি তাদের যুক্তিসংগত দাবী আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় মিছিল বা র‌্যালি বের করে, আর তার কারণে যদি আপনার কর্মক্ষেত্রে যেতে আধা ঘন্টা দেরী হয়ে যায়, তবে আপনি বিরক্ত বোধ করতেই পারেন।

বিপ্লবের সাথে মানুষের সুখের সম্পর্ক আছে। আবার সুখের সাথে, শান্তির সাথে, সুখের অনুভূতির সাথে অর্থের মূল্যের সম্পর্ক আছে। অর্থ ছাড়া যে সুখ একেবারেই হয় না, তা নয়। তবে, সুখের জন্য অর্থের প্রয়োজন আছে। আপনি যে রিক্সায় করে প্রতিদিন কর্মে যেতেন, সেই রিক্সাওয়ালাকে তার শ্রমের মূল্য হিসেবে হয়তো বিশ টাকা ভাড়া দিলে সে কোন কথাই বলেনি এতোদিন। কিন্তু, আজ হঠাৎ যদি সেই রিক্সাওয়ালা পঁচিশ টাকা দাবী করে বসে, তবে আপনি জিজ্ঞাসা করতেই পারেন, আজ সে বেশী ভাড়া নিতে চায় কেন? রিক্সাওয়ালার সাফ জবাব হলো, জিনিস পত্রের দাম বেশী, তাই ভাড়া বেশী দিতে হবে।

বাজার হতে তেল, মসলা এতদিন যে দরে কিনেছিলেন, কয়েকদিন হলে লক্ষ্য করছেন, এইসব নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, আপনি বিগত দিনগুলোতে যে রকম সুখে ছিলেন, অর্থ খরচ বেশী হওয়ায় আপনি আর সেই সুখানুভূতি পাচ্ছেন না। আপনি বুঝতে পারেন আর নাই পারেন, আপনার কিংবা রিক্সাওয়ালার সুখানুভূতির পরিবর্তনের পিছনে আসলে মূল্যস্ফীতি কাজ করছে।

বাজারে মূল্যস্ফীতি সহনশীল পর্যায়ে না থাকলে, আপনার অর্থ বেশী খরচ হবে। বাজার অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে, আপনার আয় বৃদ্ধি করতে হবে। আয় বৃদ্ধি যদি করতে না পারেন, তবে আপনি যেটুকু সঞ্চয় এতোদিন করেছিলেন, সেখানে হাত দিতে হবে। সঞ্চয় ভেঙ্গে আপনাকে খরচ করতে হবে। সঞ্চয় মানুষ ভবিষ্যতের জন্য করে থাকে। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত তহবিলে যখনই আপনাকে হাত দিতে হচ্ছে, তখনই আপনি চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। এভাবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সাধারণ জনগণকে বিপদের মধ্যে ফেলতে পারে।

মুদ্রার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মুদ্রাস্ফীতি এমনিতেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। বাংলাদেশে মুদ্রার এই গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের কাজটি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক করে থাকে। মুদ্রার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রনয়ণ করে থাকে। বাংলাদেশে এক অর্থ বছরে দুই বার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। অর্থ বছরের প্রথমার্ধের জন্য অর্থাৎ জুলাই হতে ডিসেম্বর এই ছয় মাসের জন্য একবার এবং অন্য ছয় মাসের জন্য আরেকবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়।

কেন্দ্রিয় ব্যাংক বৈশ্বিক, অভ্যন্তরীণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতি বিবেচনায় রেখেই জাতীয় মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে থাকে। মুদ্রানীতি প্রণয়ন কালে দারিদ্র বিমোচন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণের প্রবাহ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর মতো সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মুদ্রানীতির অন্যতম কাজগুলো হলো- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, ঋণের প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারী-বেসরকারী খাতে ঋণের যোগান ধার্য করা এবং মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণ করা।  

চলতি বছরের জানুয়ারী-জুন সময়ে অর্থাৎ চলতি অর্থ বছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের পক্ষ হতে বলা হয়েছে, এই মুদ্রানীতি বিনিয়োগ ও উৎপাদন সহায়ক সতর্ক মুদ্রানীতি। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সরকার কর্তৃক প্রক্ষেপিত হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। ইতোমধ্যে প্রবৃদ্ধি সাত দশমিক ১১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে জানুয়ারী-জুন সময়ের জন্য বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। গেল মুদ্রানীতিতেও বেসরকারী খাতে ঋণের যোগান ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর নভেম্বর পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১৫ শতাংশ।  

চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানে তা লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে মূল্যস্ফীতি দাড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রানীতি ঘোষণার পর ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।  তারা বলছেন, বর্তমানে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে, আবার মূলধনী যন্ত্রপাতিও আসছে। আগামী ছয় মাসে ঋণের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। তাদের মতে, বেসরকারী খাতে ঋণের যোগান ১৭ শতাংশ হলে ভালো হতো।

এফবিসিসিআই বলছে, বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হলো মুদ্রানীতি। বর্তমানে যেহেতু দেশে ঋণের সুদের হার অনেক কম এবং ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অলস অর্থ আছে, সেহেতু বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি আর একটু বেশী হলে ভালো হতো।

আবার অনেকের মতে, ঘোষিত মুদ্রানীতি সময়োপযগেী। তাদের মতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির এমন কোন উন্নতি ঘটেনি যে ঘোষিত প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়ে যাবে।

মুদ্রানীতির বিষয়ে যে কথাই আসুক না কেন, একটা বিষয়ে সবাই একমত যে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান না বাড়ালে কাঙ্খিত উন্নয়ন কোন মতেই সম্ভব নয়। কর্মসংস্থানের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা সম্পর্ক আছে। শিল্পায়নের সম্পর্ক আছে। শিল্পায়ন যত বেশী হয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তত বৃদ্ধি পায়। ফলে, বেকারত্বের হার কমতে থাকে। সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

উৎপাদনমুখী এবং বিনিয়োগ বান্ধব মুদ্রানীতি থাকলে শিল্পায়ন তথা বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়। ফলে, কর্মসংস্থানের পরিধি বেড়ে যায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং কৃষিখাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি করতে পারলে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সহজ হবে বলে আশা করা যায়।

ঘোষিত মুদ্রানীতি হতে আরো একটা বিষয় নিশ্চিত যে, সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরে, তা সীমিত অঙ্কের মধ্যে রাখতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে, প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নাই। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে, কর্মসংস্থান বাড়বে।

ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অধিক ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের জন্য যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি কিছু বাধাও রয়ে গেছে। ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো সুবিধা মতো জমির অভাব, অবকাঠামোগত বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার দূর্বলতা, বিদ্যুৎ তথা জ্বালানির সহজলভ্যতার অভাব ইত্যাদি।

ঢাকা-চট্ট্রগাম হাইওয়ে চার লেন হতে আট লেনে উন্নীত করার দাবী উঠছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার অবশ্যই উন্নয়ন দরকার। তবে তার সাথে সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকেও নজর দিতে হবে। দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারীজ এনে উৎপাদনে কাজে লাগানো হলো, কাঙ্খিত পণ্যও উৎপাদিত হলো। কিন্তু, সরবরাহ পর্যায়ে, দেশের সব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ার কারণে যাত্রা পথে যানজট লেগেই থাকে। ফলে পণ্য পরিবহনে একদিকে যেমন বেশি সময় লাগছে, তেমনি পণ্যের মূল্য সময় বিবেচনায় বেশী হচ্ছে। কারণ, উৎপাদিত পণ্য যখন বাজারে বিক্রির জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তখন পরিবহন সময় এবং পরিবহন খরচও হিসাবায়ন করা হবে।

সুতরাং দেশের ভিতরে সুষম উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। শিল্প কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, প্রধান প্রধান অফিস আদালত ঢাকা, চট্রগ্রাম, গাজীপুর আর তার আশেপাশে এলাকায় হওয়ায় সুষম উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। উন্নয়ন সুষম করতে হলে, শিল্প কারখানা বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার।

শিল্প কারখানা বিকেন্দ্রীকরণ করা সম্ভব হলে শিল্প পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। কারণ, ক্যাপিটাল মেশিনারিজের খরচ স্থির হওয়ায়, উৎপাদনের মূল উপাদান- শ্রম, যা কিনা একজন শ্রমিক বিক্রি করে থাকেন, তার মূল্য স্থানীয়ভাবে কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে আসবে। আবার স্থানীয় শ্রমিকের দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। বড় শিল্প কারখনার পাশাপাশি ছোট ছোট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরী হবে। ফলে এলাকা ভিত্তিক অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। আমরা যে উন্নয়নের কথা ভাবছি, তা অবশ্যই সমতা ভিত্তিক হতে হবে। সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন না হলে, সে উন্নয়ন টেকসই নাও হতে পারে। দেশে অঞ্চল ভিত্তিক গবীর মানুষের সংখ্যা কমাতে হবে। অবকাঠামোগত ব্যবস্থা বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে দারিদ্রের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বাজারে প্রবেশযোগ্যতা সহজ করে দেয়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ঢাকা, চট্টগ্রাম বা উন্নত অঞ্চলের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের মধ্যে দারিদ্রের হার, তুলনামূলকভাবে এসব শহর হতে দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দারিদ্রের হারের চেয়ে কম। সুতরাং যোগাযোগ বা অবকাঠামোগত খাতে যাতে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগ করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। আবার উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগও জরুরী।

একজন গ্রাহক ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় না খাটিয়ে, উৎপাদনে ব্যবহার না করে, ভোগে যেন ব্যবহার করতে না পারেন সেদিকে নজরদারী বৃদ্ধি করতে হবে।

অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ দেশের জন্য তেমন একটা উপকারে আসে না। শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী হয়। ইতোমধ্যে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। এখন আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে মোট জিডিপির প্রায় ৩৩ শতাংশের সমান বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে বলা হচ্ছে। যেখানে কিনা আমদের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে না। আবার কর্মসংস্থান শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক হলে হবে না। দেশের অনুন্নত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ইত্যাদিসহ উৎপাদনের জরুরী উপকরণের সহজলভ্যতা কিভাবে সৃষ্টি করা যায়, সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দেখা যাচ্ছে, দেশের এক অঞ্চল উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করলেও অন্য অঞ্চল সুবিধাবঞ্চিত হয়ে আসছে। অঞ্চল ভিত্তিক এই বৈষম্য হতে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। মুদ্রানীতি দ্বারা হয়তো এইসব বৈষম্য হ্রাস করা সম্ভব নয়। তবুও মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ এসে যায় বিধায়, বিকেন্দ্রীকরণ বা সুষম উন্নয়নের কথাগুলো বলা। ঘোষিত মুদ্রানীতির দ্বারা উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ অব্যাহত রাখতে পারলে, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগকারীগণ উৎসাহ পাবেন বলে আশা করা যায়।

আমাদের দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ, বিশেষ করে প্রাইভেট বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নাই। কারণ, আমাদের দেশের মোট অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সিংহভাগই বেসরকারী খাত কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা মনে না করে, বরং তাদেরকে যদি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট হিসাবে বিবেচনা করে, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা যায়, তবে, উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে, তা অর্জন করা যেতেই পারে।

আমরা আশা করি, ঘোষিত মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রনে রেখে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, মানুষের যাপিত জীবনে সুখের বাতাস বয়ে আনবে।

লেখক: খন্দকার রাহাত মাহমুদ,
সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার
রূপালী ব্যাংক লিমিটেড
champookgm@gmail.com




ঢাকা, শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১২২১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন