সর্বশেষ
শনিবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৬ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সৌম্যর রিভিউ: ভারতের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবেদন কতটা যৌক্তিক?

রবিবার, মার্চ ১২, ২০১৭

1113491968_1489338626.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
যতই বলা হোক 'মানুষ মাত্রই ভুল করে', কিন্তু জরুরি সিদ্ধান্তে ভুল হলে এ আপ্তবাক্য মানা কঠিন। সিদ্ধান্ত 'নির্ভুল' করতেই মূলত ক্রিকেটে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের (ডিআরএস) আবির্ভাব।

যদিও আবির্ভাবের পর থেকেই এই সিস্টেম নানান বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের সমাধানও দিয়েছে। এই যেমন বোলারের আবেদনের ভিত্তিতে আম্পায়ার যখন একজন ব্যাটসম্যানকে আউট দেন। রিপ্লে না দেখা পর্যন্ত বোঝাই যায় না এটি ভুল নাকি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এ ফাঁকেই ব্যাটসম্যানও নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে রিভিউ চেয়ে বসেন। অনেক সময় সেটি ব্যাটসম্যানের পক্ষেও যায় আবার বিপক্ষেও যায়।

বিশেষ করে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত নিয়েই যত বিতর্ক। যেখানে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন টেলিভিশন আম্পায়ার। যেমন এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার আউট দিয়েছেন, কিন্তু রিভিউয়ে টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল সামান্য হলেও বল স্টাম্পে লাগত। এমন পরিস্থিতিতে থার্ড আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই রেখে দেন। একই সিস্টেমে আবার আম্পায়ার আউট না দিলে টিভি আম্পায়ারও সেটিকে নট আউট বলে ঘোষণা দেন।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই যদি রাখা হয়, তবে ডিআরএসের কাজ কী? এমন প্রশ্নও আইসিসির কাছে রেখেছিলেন সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা।

অতএব যেখানে এই সিস্টেম নিয়েই এত বিতর্ক সেখানে খেলোয়াড়দের দোষ কী? ব্যাটসম্যান, বোলার কিংবা আম্পায়ার কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। ক্রিকেটে যে কারোরই ভুল হতে পারে। রিভিউ নিয়ে তেমনই একটি ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন সৌম্য সরকার। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একটু বেশিই মাতামাতি করছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। এর মধ্যে সৌম্যর রিভিউটি নিয়ে রীতিমতো ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবেদনও করেছে দেশটির স্থানীয় একটি পত্রিকা।

ঘটনাটি গল টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের। বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তামিম-সৌম্য। কিন্তু আগের দিন ওয়ানডে গতিতে অর্ধশতক করা সৌম্য দিনের দ্বিতীয় বলেই ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ। দিলরুয়ান পেরেরার বলে বোল্ড হলেও রিভিউ চান তিনি।

আউট হওয়ার পর বোলারের আবেদন ও উইকেটকিপারের উদযাপন দেখেই সৌম্যর মনে হলো, তাকে ক্যাচ আউটই দেওয়া হয়েছে। ব্যাটে তো লাগেনি- এমন বিশ্বাস থেকেই চেয়ে বসলেন রিভিউ। ক্ষণিকের মধ্যেই অবশ্য বিভ্রান্তি কেটে যায়। বোল্ড হয়েছেন জানতে পেরে প্যাভিলিয়নের দিকেই ফিরে যান।

ভুলটা কোথায় সেটি অনেকেই তখন বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ওই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন দেখলে মনে হবে যে, সৌম্য শুধু ভুল করেননি মহা অন্যায়ও করে ফেলেছেন।

নিম্নে সেই প্রতিবেদনটি হুবহু তুলে ধরা হল......

"এ রকমটা বোধহয় বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাই পারেন। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আজব কাণ্ড কারখানা গোটা বিশ্বেই পরিচিত। কখনও ম্যাচ জয়ের আগেই সেলিব্রেশনে মেতে উঠে ম্যাচ হাতছাড়া করেন, কখনও আবার আম্পায়ারের ওভার বাউন্ডারির নির্দেশ গ্রাহ্য না করেই বোলার মেতে ওঠেন উইকেট প্রাপ্তির আনন্দে।

তবে এ বার যা ঘটল, তা সম্ভবত আগের সমস্ত কাজকর্মকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। ব্যাটসম্যান বোল্ড হয়ে গেলেন, তা সত্ত্বেও ডিআরএসের সাহায্য চাইলেন। এমনটাই ঘটল বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা গল টেস্টে।

ডিআরএসের উদ্ভাবনের পর থেকে কোনও ব্যাটসম্যানই বোল্ড হয়ে ডিআরএস নেওয়ার 'সাহস' দেখাননি। তবে সৌম্য সরকার প্রথমবার এই 'ঐতিহাসিক' কাণ্ডটি ঘটালেন।

দিনের শুরুতে গুণরত্নের বলে বোল্ড হয়ে যান সৌম্য। আম্পায়ারও আউটের সিগন্যাল দিয়ে দেন। তবে নিজের উইকেট বাঁচাতে সৌম্য এতটাই মরিয়া ছিলেন যে, সঙ্গে সঙ্গেই ডিআরএস নিয়ে নেন।

এই টেস্টেই বাংলাদেশি বোলার শুভাশিস রায় ব্যাটসম্যানের কাছে ছক্কা হজম করেও সেলিব্রেশনে মেতে উঠে ট্রোলড হয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। গত বছর বিশ্বকাপেও ম্যাচ জেতার আগেই মুশফিকুর রহিমের সেলিব্রেশনের স্মৃতি এখনও টাটকা। যদিও বাংলাদেশ পরে ৪ বলে ২ রান না তুলতে পেরে হেরে যায়। এমন বিস্ময় বোধহয় বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাই উদ্রেক করতে পারেন।"

সৌম্যর ওই ঘটনার পর বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের যদি এই প্রতিবেদন হয় তাহলে প্রতিনিয়ত ভারতীয় ক্রিকেটাররা যেসব বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন সেটি নিয়ে কী রকম প্রতিবেদন হওয়া উচিৎ সেই প্রশ্ন থাকছে ক্রিকেট বোদ্ধাদের কাছে?

মো. আতিকুর রহমান
ক্রিকেট অনুরাগী ও শিক্ষার্থী

ঢাকা, রবিবার, মার্চ ১২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ৯৩০০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন