সর্বশেষ
শুক্রবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৬ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাকরির ক্ষেত্র: যোগ্যতা নাকি সমঝোতা

বুধবার, মার্চ ১৫, ২০১৭

975319168_1489575348.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
বাংলাদেশে হু হু করে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। এর চেয়ে অনেক গুনে বাড়ছে অযোগ্য লোকের চাকরির সংখ্যা। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে কর্মসংস্থান। সৃষ্টি হচ্ছেনা নতুনত্ব। সেইসাথে ধ্বংস হচ্ছে দেশ, ধ্বংস হচ্ছেন মালিক সমাজ, ধ্বংস হচ্ছে আগামীর ভবিষ্যৎ শিক্ষিত ব্যক্তিরা, ধ্বংস হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আজকাল সমঝোতা বা লবিংয়ের ফলে যে সব মানুষ চাকরি করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এতে একজন শিক্ষিত যোগ্য মানুষের স্থলে দুই বা ততোধিক অযোগ্য ব্যক্তির প্রয়োজন পড়ছে। তাতে করেও সঠিক কাঠামো তৈরী করা যাচ্ছেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, আজ থেকে আট বছর আগে আমি একটি ভাইভা পরীক্ষা দিয়েছিলাম যেখানে আমি লিখিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারীর তুলনায় ২৪ নম্বরে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় তখন তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করে। আর আমার স্থলে ঐ দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ব্যক্তিকেও না নিয়ে তারা সেখানে কথিত একজনকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়।

কিন্তু শিক্ষক হওয়ার জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। ৬-৮ মাস যেতে না যেতে তারা আবার আমাকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার জন্য অনুরোধ করে। অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত না থাকায় আমি তাদের ডাকে সাড়া দেই। পরে জানলাম ঐ কথিত শিক্ষকের পাঁচ মাসের কাহিনী, যিনি ছাত্রদের শিক্ষাদানে অক্ষম ছিলেন। এতে করে নষ্ট হল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, নষ্ট হল ঐ ছাত্রদের অর্জন আর নষ্ট হল আমার ৬-৮ মাস।

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি যোগ্যতার বিচার না করে সমঝোতা বা লবিংয়ে হয় তাহলে ভবিষ্যতে কোন শিক্ষর্থী শিক্ষক না হয়ে হবে লবিংবাজ। সুতরাং শিক্ষা ক্ষেত্রে সমঝোতা পরিহার করা একান্ত জরুরি।’

একইভাবে বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়াগুলোতেও এখন সমঝোতার ছড়াছড়ি। যার ফলে সমঝোতার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি রিপোর্টার হলেও সমস্যা ছাড়েনা। ঠিক থাকে না নিউজের মান, মেনে চলে না কোন নিয়ম-নীতি।

সমঝোতার ফলে কাউকে নিয়োগ দিতে গেলে নূন্যতম ২-৩ মাস প্রথমে তাকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তাছাড়া সে নিউজের সূচনাটাও ঠিকভাবে শুরু করতে পারে না। তাতে করে কমতে থাকে পাঠক সংখ্যা, ক্ষতিগ্রস্থ হয় মালিক শ্রেণি আর বেকার থেকে যায় যোগ্য ব্যক্তি। যে কিনা চার বছর ব্যায় করেছেন সাংবাদিকতায়। অপুরণ থেকে যায় তার স্বপ্নের পথ চলা।

কাজের বাজারে চাহিদার সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ না হলে দেশ কখনো এগোতে পারেনা। যে কৃষি নিয়ে পড়াশুনা করেছে সে কৃষি ক্ষেত্রে যেমনি ভালো করবে, ঠিক একইভাবে যে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়েছে সে সাংবাদিকতায় ভালো করবে।

কর্মসংস্থানের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার সংগতিপূর্ণ হলে উন্নত দেশ গুলোর মত বাংলাদেশও একদিন উন্নতির শিখরে আসন গ্রহণ করবে। তবে অবশ্যই স্ব-স্ব কাজে পারদর্শী ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিতে হবে। এতে করে এগিয়ে যাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এগিয়ে যাবে সংবাদের মাধ্যমগুলো। বেড়ে যাবে নিজেদের মান, পাঠকও জানতে পারবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ।

লেখক: মুজাহিদুল ইসলাম (জিহাদ)

শিক্ষার্থী- সাংবাদিকতা বিভাগ
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ঢাকা, বুধবার, মার্চ ১৫, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এ এই লেখাটি ১৫৬৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন