সর্বশেষ
শুক্রবার ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬ | ১৯ জুলাই ২০১৯

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে থেরেসার ভোট প্রস্তাব পাস

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৭

382826195_1492687258.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ৮ জুন সাধারণ নির্বাচন করার প্রস্তাব বুধবার দেশটির পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে অনুমোদন পেয়েছে।

আগাম ভোটের পক্ষে থেরেসার যুক্তি ছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হওয়ার প্রক্রিয়া (ব্রেক্সিট) মসৃণ করতে পার্লামেন্টে শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির অবস্থান আরও মজবুত করা প্রয়োজন।

পার্লামেন্টে এ দিন ৬৫০ এমপি-র মধ্যে ৫২২ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৩ জন। পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সে নামমাত্র গরিষ্ঠতা রয়েছে থেরেসার দলের। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে সরকার যেভাবে এগোতে চাইছে, তাতে জনমানসে থেরেসার কনজারভেটিভ পার্টির গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে বলে দাবি করছে দেটির দেশের সংবাদমাধ্যমের সমীক্ষা। আর সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চাইছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সমীক্ষা বলছে, জুনে বিপুল ভোট পেয়ে জয়ী হতে পারেন থেরেসা। গত কয়েক দশকে সবচেয়ে কোণঠাসা অবস্থা হতে পারে লেবার পার্টির। সমীক্ষা মতে, জনপ্রিয়তার নিরিখে কনজারভেটিভরা যেখানে ৪৪ শতাংশ ভোট পাচ্ছে, লেবার পার্টি পেতে যাচ্ছে মাত্র ২৩ শতাংশ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আকস্মিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

তার সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এক ঘোষণায় বুধবার তিনি পার্লামেন্টে ৮ জুন নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপন করে এর পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটির আহ্বান জানানোর কথা বলেন। তবে প্রস্তাব পাশের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন ছিল।

ব্রিটেনের পরবর্তী নির্বাচন ২০২০ সালে হওয়ার কথা ছিল। গত জুন মাসে ব্রেক্সিট অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রশ্নে ব্রিটেনে গণভোটের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করায় থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হন।

গত কয়েক মাসে প্রধানমন্ত্রী মে একাধিকবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। ফলে হঠাৎ তার এই ঘোষণা অনেককেই অবাক করে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থেই এই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের স্থিতিশীলতার নিশ্চিত করতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচন ডাকছেন।

তার মতে, ব্রেক্সিটের পর ‘জাতি ঐক্যবদ্ধা হলেও সংসদ দ্বিধাবিভক্ত’। উদাহরণ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী লেবার পার্টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে চূড়ান্ত বোঝাপড়ার চুক্তির বিরোধিতার হুমকি দিয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা সরকারকে অচল করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অবস্থায় নতুন নির্বাচন না দিলে তাদের রাজনৈতিক খেলা অব্যাহত থাকবে। তবে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, থেরেসা মে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে বিরোধী লেবার পার্টির বর্তমান বেহাল অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছেন।

সর্ব-সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে লেবার পার্টি অনেক পিছিয়ে আছে। ভোটারদের কাছে কনজারভেটিভ পার্টির গ্রহণযোগ্যতা যেখানে ৪২ শতাংশ, সেখানে লেবারের মাত্র ২৭ শতাংশ।
একটি প্রথম সারির পত্রিকা জানিয়েছে, পার্লামেন্টে কনজারভেটিভদের এখন নামমাত্র গরিষ্ঠতা থাকলেও তারা এবার অন্তত ৩৮২টি আসন পেতে পারে। আর লেবার পাবে ১৭৯টি আসন। যার ফলে ১১৪ আসনে এগিয়ে থাকবে শাসক দল।

আগামী মাসগুলোয় ইউরোপের তিনটি শক্তিশালী দেশই ভোটের মুখে ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স। গোটা ইউরোপে তাই জোর অনিশ্চয়তার বার্তাবরণ।

তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট করতে গিয়ে ব্রেক্সিট আলোচনায় আবার কিছুটা দেরি হয়ে যাবে। কারণ ইউরোপীয় কমিশন ও থেরেসা দু’জনেই বলেছেন, ব্রেক্সিট মীমাংসা হবে ভোট শেষ হওয়ার পরে। এর মধ্যে আবার টেরেসা টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন না বলায় আরো প্রস্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাউস অব কমন্সে আজ বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘উনি যখন উনার ভোট- রেকর্ড নিয়ে এত গর্বিত, তখন তিনি টিভি বিতর্কে আসবেন না কেন?’

আগামী ৩ মে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হবে। এর পরে ব্রিটিশ রাজনীতি কোন পথে এগোয় তা জানার আপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাসী।

সূত্র: বাসস।

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস এইচ এই লেখাটি ৮৩৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন