সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

কতজন রূপার প্রাণের বিনিময়ে জেগে উঠবো আমরা

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭

1509687245_1504249767.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট জেতা, মায়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা, দেশের অভ্যন্তরে বন্যা পরিস্থিতি- এরকম হাজারো ইস্যুর মাঝে চলন্ত বাসে রুপার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি যেনো হারিয়ে না যায়। জাস্টিস ফর তনুর কথা মনে আছে? কিংবা তারও আগে অন্য করো ধর্ষণের বিচার চেয়ে 'জাস্টিস ফর' অনেক লিখা হয়েছে। এসব ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অনেক আসামিই গ্রেফতার হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া চলছে অনেকের। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে একটুও?

কেন এই পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না সেটা চিন্তা করে দেখুন। ধর্ষণ একটি সামাজিক ক্যান্সার। একটার পর একটা ভয়ঙ্কর ধর্ষণের খবর পড়ে আমরা যখন চরম নির্লিপ্ততায় পরের পৃষ্টা উল্টাচ্ছি তখনই আমরা ক্যান্সারটা আরো দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করছি।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন নারীর সংখ্যা পৃথিবীর উন্নততর দেশগুলোর চেয়েও বেশি। আমেরিকাও এখনো নারী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারে নি। আমরা অনেক আগেই সেটা করেছি। কিন্তু এরপরও এরকম ভয়ঙ্কর সব ঘটনা ঘটছে। প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনের এই মহামারী কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আমরা হয়তো চিন্তাও করতে পারছি না। নারীর ক্ষমতায়ন, নারী শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য রীতিমত ইর্ষনীয় কিন্তু নারীর নিরাপত্তায় আমরা কোথায় আছি সেটা ভেবে দেখার সময় এখনি।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের অনেক পুরনো ঐতিহ্য। পত্রিকার পাতায় যেরকম নিয়মিত ধর্ষণের খবর শোনা যায় সেভাবে বিচারের খবর আমরা পাই না। মাঝে মাঝে খবর পাওয়া যায় ২০০৮ বা ২০১০ সালের কোনো ধর্ষণের বা হত্যার ঘটনার রায় আজ হয়েছে! এরকম ঘটনা ধর্ষকদের মনে এই ধারনাই দেয় যে ধর্ষণ করলে বিচার হবে না বা হলেও জীবনের শেষদিকে হবে। এসব অপরাধীরা এখন আবার মনে করছে, ধর্ষণ করে ভিক্টিমকে মেরে ফেললে তো আর কোনো সাক্ষী থাকলো না, বিচারও হবে না।

এই সমস্যা দেশের কোনো সরকারই একা সমাধান করতে পারবে না। সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প এখানে নেই। মিডল-ইস্টের দেশগুলোর মতো ভয়ঙ্কর সব শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে হয়তো ধর্ষণ এমনিতেই কমে যেতো কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপের কারণে মনে হয়না বাংলাদেশ সেদিকে হাঁটতে পারবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করা যায় অনেক কারণে কিন্তু একইরকম বাসে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মানুষ সারা দেশজুড়ে যে আন্দোলনের আগুন জ্বালিয়েছিলো সেটা কি কখনো বাংলাদেশের মানুষরা পারবে? আমরা কি চেষ্টা করেছি দেশব্যাপী ধর্ষণ বিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার? আমাদের দেশের নারীদের অধিকার রক্ষায় যে সংগঠনগুলো কাজ করছে তারাও খুব যুগান্তকারী কিছু করছে না। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এনজিওগুলো যাদের প্রধান গ্রাহকই দেশের নারীরা, তারা এসব নারীদের নিরাপত্তায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করতে কোনো কাজ কি করেছে নাকি তাদের নারীবাদিতা শুধুমাত্র ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

রুপার ধর্ষক ও হত্যাকারীদের পরিবারের মানুষ বলছে এসব অপরাধী সাধারণ মানুষই ছিলো। অবশ্যই তারা দেখতে সাধারণ মানুষের মতোই ছিলো, কিন্তু তারা ভিতরে বন্য পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট ছিলো। সমাজের সবক্ষেত্রে এসব পশুদের দমন করতে হলে আপনার আশেপাশে আপাতদৃষ্টিতে যে 'ছোটখাটো' নারী নিগ্রহের ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলোর প্রতিবাদ করুন। এসব ‘ছোট’ নিগ্রহকারীরাই ক্রমে ধর্ষণ ও ঘাড় ভেঙ্গে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত: আমাদের পিছনে টানছে কারা?
ডা. কামরুল ইসলাম শিপু
চিকিৎসক ও শিক্ষক

ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ২৫১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন