সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসনীয় ভূমিকা

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭

851848953_1505403639.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার এখন বেশ বিপদেই পড়েছে। সারাবিশ্ব একসাথে নিন্দা জানাচ্ছে। জাতিসংঘে মিয়ানমার সদস্য হওয়ার পর গত ৯ বছরে এই প্রথম তাদের বিরুদ্ধে পুরো নিরাপত্তা কাউন্সিল বিবৃতি দিতে সম্মত হলো। তারা অফিসিয়ালি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাজ্য প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে। জাতিসংঘে আজকের এই বিবৃতিতে তাদের ব্যাপক ভূমিকা আছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা এখানে খুবই প্রশংসনীয়। তারা প্রথম থেকেই রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিউজ ছেপেছে ক্রমাগত যা পৃথিবীবাসিকে এই নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে জানাতে সাহায্য করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাথে যে আচরণ করছে 'এথনিক ক্লিনসিং' ছাড়া এটাকে আর ছোট কিছু বলার নেই। জাতিসংঘের মহাসচিব যখন একথা বলেন তখন রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার কিছু দিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের একটা সমাধান দিতে বাধ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সমমনা দেশগুলো মিয়ানমারের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু জাতিসংঘের বিবৃতি দেয়ার সময় থেকে তারাও বলছে মিয়ানমারের সহিংসতা বন্ধ হওয়া উচিত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি কয়েকদিন আগেই রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করতে মিয়ানমারের সাথে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভারত সরকার বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। তারাও বুঝে গেছে মিয়ানমারের পক্ষ নিলে কূটনৈতিকভাবে বিরাট সমস্যায় পড়বে! কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চিকে ফোন দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এরকম আন্তর্জাতিক চাপে মিয়ানমার মাথা নত করে একটা সমাধানে আসতে বাধ্য হবে। বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ আসছে।

কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ এক্ষেত্রে সবার চেয়ে আলাদা। যিনি প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছেন, তাদের সাথে মানবিক আচরণ করতে বলেছেন, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার মানবিকতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি প্রশংসা করছেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তিনি মানবতার এক অনন্য উদাহরণ এখন। দেশের এতসব অনিশ্চয়তার মধ্যে, এতো রিস্ক নিয়েও তিনি সীমান্ত বন্ধ করেননি। ঠান্ডা মাথায় কাজ করে গেছেন। বর্তমানে যে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে সেটাও এতটা প্রকট হতো না বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে না দিলে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও মানবিক বোধের উপর চোখ বন্ধ করে আস্থা রাখা যায়। এটাই তাকে ইতিহাসে অবিস্মরণীয় করে রাখবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত: আমাদের পিছনে টানছে কারা?
ডা. কামরুল ইসলাম শিপু
চিকিৎসক ও শিক্ষক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ৩০৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন