সর্বশেষ
বুধবার ৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৩ মে ২০১৮

কোন ঘর সাজবে কেমন রংয়ে

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

930676931_1505642431.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ঘর রং করাকে আমরা খুব সাধারণ একটি বিষয় হিসেবে দেখি। প্রায় বাড়িরই দেখা যায়, সব ঘরের রং একই। আলাদা রং করা হলেও আমরা রংয়ের ক্ষেত্রে শুধু বিবেচনা করি, দেখতে ভাল লাগছে কি না। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু চোখের সৌন্দর্য্যের বাইরেও ঘরের রং আপনার মনে এনে দিতে পারে শান্তি, প্রভাব ফেলতে পারে আপনার এবং আপনার পরিবারের মানসিক অবস্থার উপর।

রং ব্যবহারে এই সতর্কতাগুলো আপনার ঘরকে করবে একটি স্বাস্থ্যসচেতন ঘর। আসুন জেনে নিই কালার সাইকোলজি অনুযায়ী কোন ঘরের জন্য হওয়া চাই কেমন রং-

বসার ঘর:
বসার ঘরে নান্দনিকতার ছাপ আনতে লাইট পিংক, ফ্রেঞ্চ গ্রে, ভায়োলেট, ক্রিম কালার ভালো। এ রুমের দরজা দিয়ে ঢুকতেই যে দেয়াল চোখে পড়ে, সেখানে বিভিন্ন হালকা রং বা খুব গাঢ় রং দিয়ে নতুনত্ব আনা যায়। আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া হেরিটেইজ পাওয়া যায়। সেখানে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। বিভিন্ন পেপার ম্যাশা, হেরিটেজ, যেমন স্টেন, মাইক্রোস্টোন বা বাইরামিং ব্যবহার করে দেয়ালকে আকর্ষণীয় করা যায়। এ ঘরের রং নির্বাচনে তাই সতর্ক থাকতে হয়। এ ঘরের রং এমন হবে, যাতে রঙের মধ্যে একটা অভ্যর্থনার আমেজ ফুটে ওঠে।

খাবার ঘর:
ঘরে সবুজের ছোঁয়া রাখতে চাইলে খাবারের ঘরটা কাজে লাগানো যেতে পারে। ঘর ছোট হলে এখানে ব্যবহৃত জিনিসগুলো একটু সবুজ রঙের হলে সহজেই মানিয়ে যাবে। খাবারের বড় জায়গা থাকলে দেয়ালে হালকা সবুজ রঙের প্রলেপ দিতে পারেন।

রান্নাঘর:
রং বিশেষজ্ঞরা বলেন, রান্নাঘরে আপনার যদি কোন ছেলেবেলার আনন্দমূখর স্মৃতি থেকে থাকে তাহলে সেই রং টি আবার আপনার মনে আনন্দ দিতে পারে যদি রান্না ঘরে আবারো নিয়ে আসেন সেই রঙের আবেশ। যদি সেরকম কোন রং মনে না পড়ে তাহলে লাল এবং হলুদ রান্নাঘরের জন্য একেবারে উপযুক্ত রং। তবে আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে এসব রং এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। কারণ, এই রংগুলো ক্ষুধা বাড়ায়। এজন্যই বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট দেয়ালে ব্যবহার করে এই রঙগুলো। আপনাকে ডায়েটে সাহায্য করবে নীল রং।

শোবার ঘর:
বিশ্রামের জন্য আমরা এ ঘরকে বেছে নিই। হালকা, সতেজ, শান্তি ও স্নিগ্ধ আমেজ আনে এমন রং থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে হোয়াইট, অফ হোয়াইট, লাইট ভায়োলেট, গ্রিন, লেমন ইয়েলো, ফ্রেঞ্চ গ্রে, ক্রিম ইত্যাদি শীতল রং দেওয়া যায়। ঘরের ভেতর ফ্লোর, জানালা, দরজা, পর্দা, দেয়াল, বেড কাভার, ফার্নিচার সব কিছুর জন্য রং হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন। তবে শোবার ঘরে লাল রং ব্যবহার না করাই ভালো। লাল রং অনেক ক্ষেত্রে রাগ, বিরক্তি বা অস্থিরতা এনে দেয়।

শিশুর ঘর:
বাচ্চাদের ঘরে রং করার আগে তার সঙ্গে কথা বলে পছন্দ বুঝে নেওয়া যেতে পারে। শিশুর পছন্দের কোনো চরিত্র থাকলে সেটা আঁকিয়ে নিতে পারেন দেয়ালে। তবে এখানে এমন চরিত্রই আঁকা উচিত, যা শিশুর অন্তত পাঁচ-আট বছর পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে।

বাড়ির বাইরের রং:
পুরো বাড়ির বাইরের দিকটা রং করাতে চাইলে আশপাশের পরিবেশটা বুঝে নিয়ে রং বাছাই করতে পারেন। পুরো বাড়িতে হালকা কোনো রং ব্যবহার করে বর্ডারে দিতে পারেন গাঢ় রং। বাড়িতে যদি থাই কাচ ব্যবহার করা হয়, তাহলে কালচে বা নীল রং না দেওয়াই ভালো।

বাথরুম:
বাথরুমের জন্য সাদাই ভাল। সাদা বা এমন রং পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি দেয়। এখনকার সময়ে বাথরুম আর শুধু গোসলের জায়গা নয়। বরং সেখানে বেশ খানিকটা একান্ত সময় কাটান আপনি। স্পা করেন, নিজেকে রিল্যাক্স করেন। তাই সাদা, টারকুইশ নীল, সবুজ এই রং গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

খেয়াল রাখুন

* হালকা রঙে ঘর বড় দেখায়। গাঢ় রঙে ঘর ছোট মনে হয়। নীল, সবুজ, বেগুনি স্নিগ্ধ রঙের তালিকায় পড়ে।

* কম আলোর ঘরে হালকা রং ব্যবহার করুন।

* ঘরের সিলিংয়ের রং নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। সিলিংয়ে সাদা বা দেয়ালের রং থেকে আরো হালকা রং ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখায়।

ঢাকা, রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৭৫৮ বার পড়া হয়েছে