সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

মৃতের হৃৎপিণ্ড বুকে নিয়ে নতুন জীবন

রবিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৭

665332436_1510484741.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
ইংল্যান্ডের সুইনটন অঞ্চলের ৫৮ বছর বয়সী অ্যান্থনি অ্যান্ডারসন বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন ম্যানচেস্টারের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশির রোগে (কার্ডিওমায়োপ্যাথি) জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠা অ্যান্ডারসনকে বাঁচাতে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ ছিল না। তাই অ্যান্ডারসন একটি সুস্থ-সবল হৃৎপিণ্ড খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। একসময় তিনি সেটা পেলেন ঠিকই- তবে জীবিত নয়, মৃত মানুষের হৃৎপিণ্ড।

প্রযুক্তির কল্যাণে হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসায় এত দিনে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। ওয়েদেনশ হাসপাতালের হার্ট সার্জনরা অ্যান্ডারসনের চিকিৎসায় ‘হার্ট ইন আ বক্স’ নামক প্রযুক্তির সাহায্য নিলেন। যুগান্তকারী এই প্রযুক্তির সাহায্যে মৃত ব্যক্তির হৃৎপিণ্ডও প্রায় আট ঘণ্টা সময় সচল রাখা যায়। চিকিৎসকেরা এই প্রযুক্তির সাহায্য নিলেন। যার ফলে প্রায় ১৫ বছর ‘কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ রোগে ভোগার পর হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করার সপ্তাহ খানেক পরই অ্যান্ডারসন এখন দিব্যি সুস্থ-সবল মানুষ।

ম্যানচেস্টার ইভিনিং নিউজ জানিয়েছে, খুব কমসংখ্যক মানুষই এই যুগান্তকারী প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করাতে পেরেছে। প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জনই হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করতে না পেরে মারা যান।

উল্লেখ্য, ‘হার্ট ইন আ বক্স’—প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্বের মাত্র চারটি হাসপাতালে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়। ওয়েদনশ হাসপাতাল তার মধ্যে অন্যতম।

‘হার্ট ইন আ বক্স’ প্রযুক্তিটি আলোর মুখ দেখেছে কয়েক বছর আগে। প্রথমে চিকিৎসকেরা মৃত কোনো ব্যক্তির হৃৎপিণ্ড ‘ট্রান্সমিডিয়া অর্গান কেয়ার সিস্টেম’-এর মাধ্যমে সচল করেন। এই প্রক্রিয়ায় হৃৎপিণ্ডের মধ্যে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত প্রবেশ করানো হয়। তারপর পুনরায় পরীক্ষা করে তা প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

এই প্রযুক্তি আরও সহজলভ্য হলে অ্যান্ডারসনের মতো বিশ্বের কোটি কোটি হৃদ্‌রোগীর মুখে হাসি ফিরে আসবে- একথা জোর দিয়েই বলা যায়। সূত্র: মেইল অনলাইন।

ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি ৪৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন