সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৩রা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশি দুই নারীর আকাশ জয়ের গল্প

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৭

45016044_1512447494.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুইজন নারী বৈমানিক প্রথমবারের মত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে নতুন এক মাইল ফলক যোগ হল।

আগামী ৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মিশন কঙ্গোতে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুতফী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে নারীরা আকাশ জয় করেছে অনেক আগেই। এবার ব্যতিক্রম, শান্তি প্রতিষ্ঠায় কঙ্গোতে যাবেন দুই জয়ীতা।

আকাশ জয়ের গল্পের দুই নক্ষত্র নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুতফী। সামরিক বৈমানিকের মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় এসে তাদের প্রথম উড্ডয়ন ছিলো ২০১৪ সালে। সেটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম নারী বৈমানিকদের সফলতা। এবার তারাই নিজেদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে যাচ্ছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কোনো সামরিক নারী বৈমানিক।

যশোরের মেয়ে তামান্নার ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিলো পাখির মতো উড়বার। স্বপ্নের পালে হাওয়া দিয়েছেন বাবা, বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। তামান্না বিএএফ শাহীন স্কুল থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি এবং বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুতফী বলেন, 'আমরা এক বছরের জন্য জাতিসংঘে যাচ্ছি, যেহেতু কঙ্গো একটি পাহাড়ি এলাকা আমরা চিটাগাং হিলট্র্যাকসে অপারেট করেছি। এজন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আমাদের সব ধরণের ট্রেনিং দিয়েছে। কেউ যদি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে চায় তাহলে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অনেক সাপোর্টিভ, তাই নিজেকে আগে এগিয়ে আসতে হবে।'  

অন্যদিকে ঢাকায় এক কৃষি কর্তকর্তা বাবা স্বপ্ন বুনে ছিলেন মেয়েকে নিয়ে। নিজের বাবার মতো আকাশে উড়বে সে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আরেক নক্ষত্র ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাইমার দাদা কাজ করতেন ইন্ডিয়ান রয়েল এয়ারফোর্সে। নাইমার পড়াশুনা হলিক্রস স্কুল এ্যান্ড কলেজে।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক বলেন, 'মেয়ে হিসেবে সুযোগ কম দেয়া হয়েছে- এমনটি পরিবারের পক্ষ থেকে কোনদিন অনুভব করিনি। আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করতে।'

নারীর ক্ষমতায়নের ধারায় সামরিক বৈমানিকের মতো এমন চ্যালেঞ্জিং কাজ শুধু বিমান বাহিনীর নয় এই গর্ব বাংলাদেশেরও। শান্তিরক্ষা মিশনে বিমানবাহিনীর সফলতার গল্প নতুন নয়, সেই সফলতার গল্পে আরও দুটি নতুন নাম তামান্না ও নাইমা।



ঢাকা, মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৫১৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন