সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই ভাদ্র ১৪২৫ | ২১ আগস্ট ২০১৮

নিজেকে কর্মদক্ষ করার উপায়

রবিবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭

running_daily_habits.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

১, বন্ধ করতে হবে অন্যের সাথে নিজের তুলনা:

আমরা নিজেরা নিজেদের যতোই উদারমনা মনে করি না কেন, প্রকৃতক্ষেত্রে অপরের সাফল্য মেনে নিতে আমাদের সবারই কষ্ট হয়।

আমাদের কোনো একজন বন্ধু অনেক ভালো একটা ফলাফল কিংবা চাকরি পেল কিন্তু তাদের এই সাফল্য উদযাপন না করে উল্টো আমরা মনঃক্ষুণ্ণ হই এবং মনে মনে বলা শুরু করে দেই 'ও কেন এই চাকরী পেলো, ও কেন ভালো ফলাফল করলো? আমি কেন পেলাম না'?

এই সমস্যাটা আমাদের অনেকের জীবনেই আছে। তাতে করে আমরা আরো বেশি ডিপ্রেসড হয়ে পড়ি। আর ডিপ্রেশন সবার আগে আঘাত করে আমাদের আত্মবিশ্বাসে, আশাবাদ কমিয়ে দেয় গোড়া থেকেই। তাই সবার আগে অন্যদের সাথে তুলনা বন্ধ করে নিজেকে নিয়ে ভাবা শুরু করতে হবে, শুরু করতে হবে নিজের কাজটিকে নিয়ে ভাবা।

২। যা আছে তা নিয়ে লেগে পড়া:

একজন সফল ও অসফল ব্যক্তির মৌলিক পার্থক্য হল যদি তুমি কোনো অসফল ব্যক্তির কাছে যাও তাহলে দেখবে তার কাছে তার অসফলতার হাজারখানেক বাহানা তথা অজুহাতের লিস্ট তৈরি আছে। অপরদিকে কোনো সফল মানুষের কাছে হাজারটা অসুবিধার কারণ থাকা সত্ত্বেও অন্তত একটি কারণ থাকে কোনো কাজ করার, যার জন্য তিনি সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সফল হন।

৩. ব্যর্থতার গল্প হয়ে উঠতে পারে অনুপ্রেরণা:
সফলতা সোনার হরিণ। এই সোনার হরিণের পেছনে ছুটছি আমরা প্রতিনিয়ত। সফলতার সংজ্ঞা এক এক জনের কাছে এক এক রকম। তবে সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেন, ব্যর্থতাই সফলতার পেছনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন: নিক উডম্যান – প্রতিষ্ঠাতাঃ বিল গেটস – সহ–প্রতিষ্ঠাতা, মাইক্রোসফট। স্টিভ জবস – সহ–প্রতিষ্ঠাতা: অ্যাপল। রিচার্ড ব্রানসন – প্রতিষ্ঠাতা: ভার্জিন গ্রুপ। জ্যাক মা- প্রতিষ্ঠাতা: আলিবাবা গ্রুপ।

আজ এই সফল ব্যক্তিদের পেছনে রয়েছে অনেক ব্যর্থতার গল্প তবে তারা সবাই তাদের ব্যর্থতা, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেছেন লক্ষ্যে। সফলতা জাদুর কাঠি নয় যে, তুমি ছুঁয়ে দিলেই সব সমাধান হয়ে যাবে। তোমাকে নিরন্তর চেষ্টা করেই এগিয়ে যেতে হবে তোমার কাঙ্ক্ষিত পথে।

৪. খুঁজে বের করা নিজের ভালো লাগার কাজটি কে:

অন্য কারো ইচ্ছেমতো নয়, নিজের ভালো লাগার কাজটি করো। জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করো এবং বিশ্বাস করো যে, তুমি ব্যতিক্রম কিছু করতে সক্ষম।

তুমি যখন গভীর মনোযোগের সঙ্গে কোনো উদ্দেশ্যে কাজ করবে তখন সেটা অসাধারণ হয়েই তোমার হাতে ধরা দিবে। ভিক্টর ফ্রেঙ্ক বলেছিলেন 'সফলতা সুখের মতন, যার পিছনে দৌড়ে পাওয়া যায় না এবং এটি কেবল সম্ভব যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে একজনের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়'। যখন তুমি বুঝতে পারবে তোমার জীবনের কাজ কী তখন তোমার জগৎ জীবন্ত হয়ে উঠবে।

তখন প্রতিদিন ভোরে অগাধ ক্ষমতা ও বিপুল উৎসাহ নিয়ে জেগে উঠবে। তখন তোমার সকল চিন্তা একটি কেন্দ্রে, একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীভূত হবে। আর তোমার তখন নষ্ট করার মত সময় থাকবে না। আর একবার যদি নিজের ভালো লাগার কাজটি পেয়ে যাও তাহলে সফলতাও আর বেশি দূরে নয়।

৫. নিজ গন্ডির বাইরে কাজ করা:

গণ্ডির বাইরে যাবার প্রচণ্ড ইচ্ছে থাকলেও বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই ভাষা, পেশা কিংবা সীমান্তের গণ্ডির বাইরে যাওয়া সম্ভব হয় না। নিজে যে পেশায় থাকি দিন-রাত শুধু সেটার ভালো মন্দ ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না বা চাইও না। গণ্ডির বাইরের কিছু দেখলে বা শুনলে আমাদের অনেকেরই প্রথম প্রতিক্রিয়াটা হয় নেতিবাচক। যা আমরা দেখে বা শুনে অভ্যস্ত নই সেখানে প্রথম কাজ হলো বুঝতে চেষ্টা করা।

অন্য গণ্ডির কাছাকাছি যাওয়া মানেই নিজের স্বকীয়তা বিসর্জন দেয়া নয়। যার বাক্স যত ছোট তার চিন্তা করার শক্তি ততটাই কম। নিজেকে কর্মদক্ষ করে তুলতে হলে নিজ গণ্ডির বাইরে গিয়ে কাজ করা এবং ভাবার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নিজের চারপাশে দেয়াল থাকলে থাকতে দাও কিন্তু সেই দেয়াল জুড়ে যেন অনেক জানালা আর বড় বড় দরজা থাকে।


ঢাকা, রবিবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ৮৮৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন