সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি পরিশ্রমী: অ্যাকশন এইড

রবিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭

Worker_Woman_Orissa-1024x682-438x306.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

বাংলাদেশের পুরুষের তুলনায় বেশি কাজ করেন নারীরা। কোন রকম স্বীকৃতি নেই এরকম গৃহস্থলি কাজ করেন একজন নারী প্রতিদনি গড়ে ৬ ঘন্টারও বেশি। বিপরীতে একজন পুরুষ এ ধরনের কাজ করেন মাত্র এক ঘণ্টা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে 'দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ: নীতি পর্যালোচনা' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন।

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানে নীতি ও আইনে নারীর সেবামূলক কাজের বিষয়টি কিভাবে আছে সেটি দেখা হয়েছে।

নারীরা যখন মজুরী ভিত্তিক শ্রমে প্রবেশ করে তখন কাজের চাপ দ্বিগুণ বাড়ে। একদিকে গৃহস্থালির কাজ অন্যদিকে চাকরিতে দায়িত্বের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ঘরে বাইরে কাজের চাপের কারণে  নারীর উন্নয়ন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অ্যাকশন এইডের প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থার বাংলাদেশে ব্যবস্থাপক মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আইএলও-এর মানদণ্ড অনুযায়ী একজন ব্যক্তির সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টা কাজ করার কথা।

কিন্তু এই জরিপ বলছে, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি সময় কাজ করছে, এজন্য তারা সময় সংকুলান করতে চাপে পড়ছে। এ কারণে নারীরা ঘুম, বিশ্রাম বা ব্যক্তিগত সেবার জন্য কম সময় পাচ্ছে। ঘরের কাজের পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন কেন হচ্ছে না। যেহেতু একটি দেশের যে কোন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের নীতি ও আইনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণাটি করতে গিয়ে অ্যাকশন এইড দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের বিভিন্ন নীতির পর্যালোচনা করেছে। এতে দেখা যায়, নেপালের নারীরা গৃহস্থালি কাজে দৈনিক সাড়ে ৬ ঘন্টা সময় ব্যয় করেন। বাংলাদেশের নারীদের প্রতিদিন ৬.৩ ঘন্টা সময় দিতে হয়। আর ভারতের নারীরা ব্যয় করেন দৈনিক ৫.১ ঘন্টা। যেখানে এই কাজে পুরুষরা সময় দেন যথাত্রক্রমে নেপাল ২.২ ঘন্টা, বাংলাদেশ ১.১ ঘন্টা এবং ভারতে মাত্র ০.৪ ঘন্টা।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আইন ও নীতি কাঠামোতে যুক্ত করা দরকার। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন নিরোধ, চলাফেরা ও অংশগ্রহণে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।


ঢাকা, রবিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৫৮১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন