সর্বশেষ
সোমবার ১১ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২৫ জুন ২০১৮

২০১৭ সালে বিমা খাতের উন্নতি

বুধবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৮

7_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সদ্য বিদায়ী বছরে নতুন ভাবে উড্ডয়ন করেছে দেশের বিমা খাত। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে পরিবর্তনের হওয়া লেগেছে উদীয়মান এই খাতটিতে। সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন পদ্ধতি হাতে নিয়েছে এখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আমাদের এই খাতের সম্ভাবনা অনেক। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সদিচ্ছা। তাহলেই এই খাত থেকে দেশের প্রবৃদ্ধিতে আরও অবদান রাখতে পারবে। কেমন ছিল ২০১৭ সালের বিমা খাত।

পুরনোদের বিদায়:
বিশৃঙ্খলায় ভরপুর খাতকে টেনে ওঠাতে উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু খাতটি সামনে দিকে এগিয়ে নিতে চাইলেও বার বার হোঁচট খাচ্ছে। ২০১৭ সালে সংস্থাটির ৪ জন সদস্য ও চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তারই বিদায় নিয়েছিল। তবে এই শূন্যতায় কাটাতে হয়েছে কয়েক মাস। ওই বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মেয়াদ শেষ হয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কুদ্দুস খানের। আর মার্চ মাসের ৩ তারিখ মেয়াদ শেষ হয় লাইফ ও নন-লাইফের দায়িত্বে থাকা সুলতান আবেদীন মোল্লা ও জুবের আহমেদ খানের। তবে ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় ২ মার্চ হবে শেষ হয় তাদের মেয়াদ। আর ৮ এপ্রিল শেষ হয় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদের মেয়াদ। আইন বিভাগের সদস্য মুরশিদ আলমের মেয়াদ শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর।

নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ আইডিআর:
বিমা খাতের আধুনিকায়ন ও রূপ পরিবর্তন করতে কুদ্দুস খানের জায়গায় আসে সাবেক অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস। তিনি ২০১৭ সালের ১লা মার্চ সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর চেয়ারম্যান ও আইন বিভাগের সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কয়েক মাস আইডিআরএ একাই চালান তিনি। পরে ২৩ আগস্ট চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক সচিব মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী। আর ২ অক্টোবর আইন বিভাগের সদস্য হিসেবে আসেন বোরহান উদ্দিন আহমেদ।

জনবল সংকট সামলাতে মন্ত্রণালয় থেকে আইডিআরএ ডেপুটেশন:
এই খাতটিতে স্থবিরতা আনতে এবং সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য যে জনবল প্রয়োজন তার তুলনায় খুবই সীমিত সংখ্যক লোক রয়েছে আইডিআরও। এই সংকট দূর করার জন্য গত বছর মন্ত্রণালয় থেকে আইডিআরএ’র জন্য ৩ জন নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) এবং ৫ জন পরিচালক (উপ-সচিব) পদে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে নিয়ে ভালোই চলছে বিমা খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য জনবল সংকট দূর করার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, অনেক সম্ভাবনাময় ও বিশাল এ খাতের জন্য যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন, তার তুলনায় খুবই নগণ্য লোক রয়েছে। তবে এই সমস্যার সমাধানের জন্য সিলেটের বিমা মেলায় অর্থমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

লাইফ ও নন-লাইফের দুই সদস্য নেই:
আইডিআরএ’র গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সদস্যের পদ হলো লাইফ ও নন-লাইফ। এ পদের সদস্যদের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ৩ মার্চ। এরপর থেকে এখনো শূন্য আছে এ দুটি পদ। তবে সদস্যদের কাজ বাকিরাই করে নিচ্ছেন। সদস্যদের তুলনায় ডেস্ক অফিসারের প্রয়োজন বেশি বলে মনে করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। বিমা কোম্পানির তুলনায় অনেক কম জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে আইডিআরএ।

এমডিদের সঙ্গে বসার সিদ্ধান্ত:
আইডিআরএ’র শীর্ষ ব্যক্তিরা আসার পর কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে নিয়মিত বসার সংস্কৃতি চালু করেছেন। তারা মনে করেন এখাতের এমন কিছু সমস্যা আছে, যেগুলো তাদের সঙ্গে বসলেই সমাধান হয়ে যাবে। এই চিন্তা থেকেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে বালে জানিছেন গোকুল চাঁদ দাস।

দাবি পরিশোধে নতুন পদ্ধতি চালু:
নতুন এই কর্মকর্তারা আসার পর বিমা খাতের সুনাম ফেরাতে অভিনব এক পদ্ধতি হাতে নিয়েছেন। তারা মনে করেন কোম্পানিগুলো দাবির চেক পরিশোধ করলেও জনগণ সেভাবে জানে না। এই জানান দিতেই আইডিআরও সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা দাবি পরিশোধ করছেন। ২০১৭ সালে তাদের হাতেই প্রায় ১১৮ কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করা হয়েছে।

সচেতনতায় মেলা:
বিমা নিয়ে মানুষের মাঝে ভুল ধারণা দূর করতে ও সচেতনতা বাড়াতে দ্বিতীয় বারের মত সিলেটে বিমা মেলার আয়োজন করে আইডিআরএ। সচেতনতা বাড়িয়ে নতুন নতুন মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে বিমার আওতায় নিয়ে আসতে পারলে দেশের প্রবৃদ্ধিতে এ খাতের অবদান বাড়বে বলে মনে করে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে গত ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর সিলেটে দুই দিন ব্যাপী বিমা মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় ১৮ কোটি টাকার বিমা দাবিও পরিশোধ করা হয়।

আগামীর প্রত্যাশা:
আমাদের বিমা খাত দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। এ খাতে এক সময় কোনো রেগুলেশন ছিল না। এ খাতটি নিয়ে অভিযোগও আছে। তবে এর ভবিষ্যত অনেক ভালো।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বিমা খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কার অব্যাহত আছে। দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিমার আওতায় আনতে ১০০ টাকার মাসিক প্রিমিয়ামে সামাজিক নিরাপত্তা বিমা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিমা খাতের উন্নয়ন চায়। অতীতে বিমা খাতে রেগুলেশনের অভাব ছিল। এখন রেগুলেশনের অধীনে আসছে, এটা ভালো। তবে এখনও বিমা খাত পরিপক্ক নয়। অনেক অভিযোগ আছে- বিমা পায় না, ক্লেইম ঠিক মত দেওয়া হয় না। তবে বিমা খাতের ভবিষ্যৎ ভালো।

বিমা খাতের আগামীর দিন ভালো উল্লেখ করে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, আমাদের দেশে বিমা খাতের ইমেজ সংকটের কারণে প্রসারিত হচ্ছে না। তাই নতুন কর্তৃপক্ষ আসার পর থেকেই এই ইমেজ সংকট দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সংস্থাটির সদস্য ও মুখপাত্র গকুল চাঁদ দাস বলেন, বিমা খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট আগ্রহ আছে। এ খাতে বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পও চালু হবে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের অটোমেশনের কাজ হবে।

তিনি বলেন, আমরা আসার পর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বসার সংস্কৃতি চালু করেছি। আমরা বিশ্বাস করি সবার সহযোগিতার মাধ্যমে এই খাতটিকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য ২০১১ সালে সরকার বিমাকারীদের অধিকার রক্ষা, নতুন কোম্পানির অনুমোদন দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য বিমা বিভাগের পরিবর্তে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ চালু করে। সূত্র: অর্থসূচক


ঢাকা, বুধবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ২০৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন