সর্বশেষ
বুধবার ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

পর্যটকে সরগরম চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল

শনিবার, জানুয়ারী ৬, ২০১৮

20.jpg
তোফায়েল পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :

চলছে শীতকালীন ছুটি। রোদ-কুয়াশার লুকোচুরি খেলায় আবহাওয়াটাও দারুণ উপভোগ্য। এ সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছেন ইট-পাথরের ঘিঞ্জিতে থাকা মানুষেরা। তাই ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের স্বনামধন্য পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল।

ভিড় বেড়েছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা-বাগানসহ শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় দর্শনীয় স্থানসমূহে। পর্যটনে রাতের শহরে এবারো বাড়তি আনন্দ হয়ে যোগ হয়েছে বিজয় মেলা। ট্রেন-নৌকা রাইড, শিশুদের গেইমসহ শতাধিক স্টলও রয়েছে মেলায়।

দিনের বেলায় পর্যটন স্থানসমূহ ঘুরে দেখে রাতে শহরের বিপণি কেন্দ্র ও মেলায় প্রাণচঞ্চল সময় পার করছেন পর্যটকরা। বছরের শেষ সময়ে পর্যটক সমাগম বাড়ায় তারকা হোটেল, পর্যটন মোটেল, গেস্ট হাউসসহ আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা পূর্ণ বুকিংসহ রেঁস্তোরা এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের গাড়ি রয়েছে প্রায় শতাধিক। বাস, মাইক্রো বাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি লক্ষ করা যায়। লাউয়াছড়ার ট্যুর গাইডরা জানান প্রতিদিন প্রায় তিনশ এরও বেশি পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন।

শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলোতে শ্রীমঙ্গলের বধ্যভূমি-৭১ (মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ) গিয়ে দেখা যায় প্রায় দুই শতাধিক পর্যটকে সরগম। তাছাড়াও চা বাগানের আশে পাশে পর্যটকদের বেশ সমাগম লক্ষণীয়।

শ্রীমঙ্গল হবিগঞ্জ রোডস্থ টি হ্যাভেন রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপক ও পরিচালক আবু সিদ্দীক মুসা জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত ও প্রকৃতি অনুকূল থাকায় এবারের মৌসুমটা ভালই কাটছে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের। সব বয়সের মানুষ বেড়াতে আসছেন শ্রীমঙ্গলে। আমার হোটেলে ডিসেম্বর এর পূর্ব থেকেই আগাম বুকিং রয়েছে। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতেও আগাম বুকিং রয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকদের সংখ্যা বেশি। এছাড়াও আমাদের কনফারেন্স হলে বিভিন্ন কোম্পানির বার্ষিক সভার জন্য আগাম বুকিং রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থেকে পরিচালিত হোমল্যান্ড ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তোফায়েল পাপ্পু বলেন, বিজয় দিবসের ছুটির পর থেকে শহর ও আশে পাশের সকল হোটেলের প্রায় সমস্ত কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যায়।

চলতি সপ্তায় শহরের অনেক হোটেল পূর্ণ বুকিং হয়ে আছে। যেসব গেস্ট হাউস আগাম বুকিং হয়নি তারাও ওয়াকিং গেস্ট নিয়ে ভালই ব্যবসা ঘরে তুলছেন। ভ্রমণ পিপাসুরা সমান তালে শীত উপেক্ষা করেও মাধবকুণ্ড ও হাম হাম জলপ্রপাতেও বেড়াতে যান।

এদিকে আগের সময়ের চেয়েও পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সার্বক্ষণিক টুরিস্ট পুলিশ পর্যটন এলাকায় টহলে রয়েছে।

পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় টুরিস্ট পুলিশের মৌলভীবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মোশারফ হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্থানসমূহের নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ। গত বছরের তুলনায় এবছর পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।


ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৯১৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন