সর্বশেষ
রবিবার ৭ই মাঘ ১৪২৪ | ২১ জানুয়ারি ২০১৮

আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

শুক্রবার ১২ই জানুয়ারী ২০১৮

2.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

তাবলীগ জামাতের বৃহত্তম সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব টঙ্গীর তুরাগ নদ তীরে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে।

৩ দিনব্যাপী এ ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি। চারদিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব এবং শেষ হবে ২১ জানুয়ারি।

ইজতেমায় মুসলিম জাতির সুখ, শান্তি, কল্যাণ, অগ্রগতি ও ঐক্য কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটি।

এদিকে ইজতেমা ময়দানে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্রোত এখন টঙ্গী মুখি। প্রয়োজনীয় মালপত্র সঙ্গে নিয়ে দলে দলে মুসল্লিরা ময়দানে এসে যার যার খিত্তা ও কামরায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

ইজতেমার মুরুব্বি মো: গিয়াস উদ্দিন জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দুই ধাপে অংশ নেবেন দেশের ৩২ জেলার মুসল্লি। প্রথম ধাপে অংশ নিচ্ছেন বিদেশি মুসল্লিসহ দেশের ১৬ জেলার মুসল্লিরা।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্যান্ডেল, মঞ্চ, মুসল্লিদের পারাপারে তুরাগ নদের উপর ভাসমান সেতু, টয়লেট, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব প্রস্তুতি সমন্ন হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি পৃথক ৫টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ওযু, পয়ঃনিষ্কাষণ ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্য ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১৩টি গভীর নলকূপ দিয়ে ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালীন ২১টি গার্বেজ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্স) মেজর এ.কে.এম শাকিল নেওয়াজ আজ বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উদ্ধার, রোগী পরিবহন (এ্যাম্বুলেন্স), তুরাগ নদে দমকল বাহিনীর ডুবুরি টহলসহ বিভিন্ন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশের ৭ হাজার সদস্য ও র‌্যাবের ২৫০ থেকে ৩০০জন সদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে। এ বছর গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য ও ৫টি ওয়াচ টাওয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি সিসি ক্যামেরা ইজতেমা মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে।

ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ৬ জন করে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ওয়ার্চ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, চেকপোস্টে, মেটাল ডিটেক্টর, নৌ টহল ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। ময়দানে পুলিশের পক্ষে থেকে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠ জুড়ে থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি।

বিদেশি মেহমানদের জন্য এবার তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস। ইজতেমায় যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭টি ভাসমান পল্টুন ব্রিজ তৈরি করেছে। ইজতেমায় মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৫০টি মেডিকেল টিম ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। প্রস্তুত থাকবে ১৪টি অ্যাম্বুল্যান্স।

প্রথম পর্বের ১৬ জেলা হচ্ছে:
ঢাকার একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও বগুড়া। এ বছর ১৬০ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে চটের প্যান্ডেল।


ঢাকা, শুক্রবার ১২ই জানুয়ারী ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি 210 বার পড়া হয়েছে