সর্বশেষ
রবিবার ৭ই মাঘ ১৪২৪ | ২১ জানুয়ারি ২০১৮

মেসি-আলবার ‘ভালোবাসার কথোপকথন’

শনিবার ১৩ই জানুয়ারী ২০১৮

0019ef72857297b31bfbdc120b8c1483-5a5a19f972dc5.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

‘নীরব সৈনিক’ কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ফুলব্যাকদের সান্ত্বনা। ফুটবলে তাঁরা প্রতিটি ম্যাচেই দৌড়ে যান মাইলের পর মাইল। কিন্তু সমর্থকদের কাছ থেকে কৃতিত্বটা জোটে সামান্যই। ম্যাচ শেষে হয়তো কোচ পিঠ চাপড়ে বলেন, ‘দারুণ পরিশ্রম করে খেলেছ। চালিয়ে যাও।’ এতেই তাঁরা খুশি। আবার কখনো গোল করে পাদপ্রদীপের আলো পাওয়া খেলোয়াড়টি কৃতজ্ঞতাবশত বল বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘দারুণ একটা বল বাড়িয়েছিলেন বলেই তো গোলটা করতে পারলাম।’ ফুলব্যাকদের প্রাপ্তির ঝুলি তো এতটুকুই।

কিন্তু কোনো ফুটবল দলের কোচের নোটবুক ঘাঁটলে বা ভিডিও ক্লাসে বসলে বোঝা যায়, দলে ফুলব্যাকদের গুরুত্বটা কত বেশি। ন্যু ক্যাম্পে গত বৃহস্পতিবার রাতে কোপা ডেল রের ম্যাচে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে দেখা গেল এক ফুলব্যাকের মাস্তানি। তিনি আর কেউই নন, বার্সার লেফট ফুলব্যাক জরডি আলবা। কী দারুণ খেলাটাই না খেললেন। মনে হচ্ছিল তিনি ফুটবল নয়, মোটর রেসিংয়ে খেলতে নেমেছিলেন। একেবারে ‘টাচলাইন টু টাচলাইন’। মেসির সঙ্গে আলবার মাঠের সম্পর্কটা দারুণ। চোখের ইশারায় একজন অন্যজনকে পড়ে ফেলেন। আলবার কাছ থেকে বলটা যখন মেসির কাছে চলে যায়, তখন মনে হয় কোনো এক অশ্রুত কথোপকথনে তাঁরা কাজ সেরে ফেলেন। মুখে কিছু না বলেও পায়ের বল দিয়ে বুঝে ওঠা সারা কার কখন কী করতে হবে।

সেল্টার বিপক্ষে ম্যাচে জিততে কোনো অসুবিধা হয়নি বার্সার। ৫-০ গোলে জেতা ম্যাচে আলবা মেসিকে দিয়ে করিয়েছেন দুটি গোল। আর মেসি আলবাকে দিয়ে একটি। গোল তিনটিতেই ছিল সেই অশ্রুত কথোপকথনের ছোঁয়া।

প্রথম গোলটির কথাই ধরুন। আলতো করে ইনিয়েস্তার তুলে দেওয়া বলটি যেন আলবা সরাসরি ঠিকানা লিখে ডাকবাক্সে ফেললেন। ঠিকানা ওই মেসির পা। পৌঁছালও একেবারে ঠিক জায়গায়। মেসি দৌড়ে এসে সাইডভলিতে জড়িয়ে দিলেন জালে। বোঝাপড়া দেখে মনে হলো, চিত্রনাট্যটা লেখা ছিল আগে থেকেই। দুই মিনিটও পেরোল না। এর মধ্যেই আবার আর্জেন্টাইন-স্প্যানিশ যুগলের কথোপকথন। ডান প্রান্তে আন্দ্রে গোমেজের কাছ থেকে পাওয়া বলটি নিয়ন্ত্রণে নিলেন মেসি। তখনই আলবা অ্যাটাকিং থার্ড থেকে দৌড় শুরু করেছিলেন। এর পরপরই মেসি বল নিয়ে আড়াআড়ি ভেতরে ঢুকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সের মধ্যে থ্রু দেন। এক টাচে আলবা আলতোভাবে কাট ব্যাক করলে আর্জেন্টাইন তারকার প্লেসিং—গোল। একই রকম চিত্রনাট্য।

এরপর এল মেসির ‘ঋণ শোধে’র পালা। মাঝমাঠের একটু ওপর থেকে বক্সের ওপরে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন বল। উঠে এসে সেই বলটিতে স্লাইড করে জালে জড়িয়ে দিলেন আলবা। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা যে কত নিখুঁত হতে পারে, সেটির দারুণ একটা ছবি। অনেকটা বাঁধাই বরে রাখার মতোই।

এ মৌসুমে মেসির আট গোলের সাতটিতেই জড়িয়ে আছে আলবার নাম। আলবার দুটি গোলেও আছে মেসিরই ছোঁয়া। পরিসংখ্যানই এই দুজনের যোগের কথা বলে দিচ্ছে। এই দুজনের যোগটা যেন ‘ভালোবাসার কথোপকথন’ই। সূত্র:প্রথমআলো


ঢাকা, শনিবার ১৩ই জানুয়ারী ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি 1237 বার পড়া হয়েছে