সর্বশেষ
সোমবার ১৪ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৮ মে ২০১৮

অচলাবস্থার মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

শনিবার, জানুয়ারী ২০, ২০১৮

9_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় বসার এ বছর পূর্তিতে নতুন বাজেট নিয়ে সিনেটে ঐকমত্য না হওয়ায় ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সেবা এক এক করে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করেছে।

আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফেডারেল সরকারের অর্থায়নের একটি বিল সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না পাওয়াতেই এ সংকট। এর কারণ হলো সিনেটরদের মধ্যে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চলমান তিক্ত বিবাদ।

এর ফলে শনিবার দিনের প্রথম প্রহর থেকে বহু সরকারি বিভাগ, যেমন গৃহায়ন, পরিবেশ, শিক্ষা এবং বাণিজ্য দফতরের বেশিরভাগ কর্মকর্তাই কাজে যাচ্ছেন না। এছাড়া অর্থ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ- এই বিভাগগুলোর অর্ধেক কর্মচারী সোমবার কাজ করবেন না। জাতীয় উদ্যান এবং স্মৃতিসৌধগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, ভিসা এবং পাসপোর্টের কাজ বিলম্বিত হবে।

তবে জরুরি সেবাগুলো যেগুলো মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা দেয়, সেগুলো কাজ করা অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে আছে জাতীয় নিরাপত্তা, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, কারাগার, ডাক বিভাগ ইত্যাদি।

এই সরকারি সেবা বন্ধের ঘটনা এমন এক সময় ঘটছে, যখন মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে এবং প্রেসিডেন্টও একজন রিপাবলিকান। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আগে কখনো এমন হয়নি।

শেষবার যুক্তরাষ্ট্রে এরকম সরকারি সেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ২০১৩ সালে যখন বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট ছিলেন, চলেছিল ১৬ দিন। এতে প্রায় সাড়ে আট লাখ কর্মচারি কাজে যাননি, এবং সরকারের ২০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতার ক্ষতি হয়। বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ১৯৯৫ ও ৯৬ সালে দু’বার এমন হয়েছিল।

ফেডারেল কর্মচারীরা এ সময়াকে বিনাবেতনে ছুটি হিসেবে পেয়ে থাকেন। মূল সমস্যা হলো, যে যে ৭ লাখেরও বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসী শিশু বয়সে আমেরিকায় ঢুকেছেন, ডেমোক্র্যাটরা চাইছেন তাদের বহিষ্কারের হাত থেকে রক্ষা করতে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এক কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সাময়িক আইনি বৈধতা দিয়েছিলেন।

কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন তিনি এ কর্মসূচি বন্ধ করে দেবেন এবং কংগ্রেসকে একটা নতুন পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় দেন।

এরপর শুরু হয় দ’দলের মধ্যে দরকষাকষি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান চাইছিলেন ডেমোক্র্যাটদের এ প্রস্তাব মেনে নেবার বিনিময়ে তাদেরকে আবার রিপাবলিকানদের দুটি প্রকল্প মেনে নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি, যা ডেমোক্র্যাটরা বন্ধ করে দেবার পক্ষে।

কিন্তু ট্রাম্প উভয় দলের সম্মতি আছে এমন দুটি আপোসরফার প্রস্তাব প্র্যাখ্যান করেন। কিছু অভিবাসীদের দেশ নিয়ে তার করা ‘শিটহোল’ (বিষ্ঠার গর্ত) মন্তব্য সারা দুনিয়ার আলোচনা বিষয় হয়।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, প্রেসিডেন্ট তার দলের ওপর কোন চাপ প্রয়োগ করেননি। তবে হোয়াইট হাউস ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ নিয়ে আগামী দিনগুলোতে দু’দলের দ্বন্দ্ব আরো তীব্র রূপ নিতে পারে। তবে কোন দলই ফেডারেল সেবা বন্ধ হয়ে যাবার দায় নিতে না চাইলেও রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের নেতারাই বলেছেন যে তারা আলোচনা অব্যাহত রাখবেন।


ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ২০, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৭৯১ বার পড়া হয়েছে