সর্বশেষ
বুধবার ৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৩ মে ২০১৮

শরীরে ছড়ানোর আগেই ধরা পড়বে ক্যান্সার

শনিবার, জানুয়ারী ২৭, ২০১৮

2_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেবার আগেই রোগনির্ণয় করা যাবে। মার্কিন গবেষকরা বলছেন, একটি রক্তপরীক্ষা থেকেই নাকি আট ধরনের ক্যান্সার ধরা পড়বে৷

ডিম্বকোষ, যকৃৎ, পাকস্থলী, প্যানক্রিয়াস, খাদ্যনালী, মলাশয় ও স্তনের ক্যানসারের টিউমার নাকি ভবিষ্যতে শুধুমাত্র একটি রক্তপরীক্ষা থেকেই ধরা পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন৷ আরও বড় কথা হলো, এই রক্তপরীক্ষায় যখন ক্যান্সার ধরা পড়বে, তখনও তা ছড়ায়নি বা বিশেষ বড় হয়নি, অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷ এর ফলে কেমোথেরাপির দরকার পড়বে না, একটি ছোট অপারেশনেই টিউমার বাদ দেওয়া চলবে, তা ছড়ানোর আগেই৷

বহুবছর ধরে বিজ্ঞানীরা তথাকথিত ‘লিকুইড বায়োপ্সি'-র খোঁজে আছেন। যার অর্থ, শরীরের কোষসমষ্টি পরীক্ষা না করে রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে টিউমারের উপস্থিতি নির্ধারণ করা৷ এমনকি এ ধরণের স্ক্রিনিং নিয়মিত হেল্থ চেক-এর অংশ হতে পারে৷ বালটি মোরের জন হপকিন্স স্কুল অফ মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণার ফলাফল ‘সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশ করেছেন ও সংশ্লিষ্ট রক্তপরীক্ষাটির নাম দিয়েছেন ‘ক্যান্সার-সিক' (ক্যান্সারএসইইকে)৷

রক্তে ক্যান্সারের ডিএনএ:
শরীরের কোষ যখন ক্যান্সারগ্রস্ত হয়, তখন সেই কোষের জেনেটিক পরিবর্তন ঘটে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোষটি এমনভাবে বদলে যায় যে, সেই কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে৷ একটি টিউমার সেল মরলে, তার অবশিষ্টাংশ প্রায়ই রক্ত গিয়ে পড়ে। তখন সেই রক্ত পরীক্ষা করে ক্যান্সার-সংক্রান্ত জিন ও প্রোটিনের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব হয়৷ ‘ক্যান্সার-সিক' পরীক্ষায় ক্যান্সার সেলের আটটি প্রোটিন ও ১৬টি জেনেটিক মিউটেশন বা পরিবর্তন ধরা পড়ে৷

শুধু আট ধরনের ক্যান্সার কেন? এ প্রশ্নের জবাবে ‘সায়েন্স' পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধটির মূল রচয়িতা জোশুয়া কোহেন জানিয়েছেন যে, তথাকথিত ‘টিউমার মার্কার'-দের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কারণ, এর ফলে টেস্টে ভুল ‘পজিটিভ' ফলাফল দেখানোর সম্ভাবনা হ্রাস পাবে ও টেস্টটির দামও কম থাকবে। শেষমেশ এই স্ক্রিনিংয়ের খরচ ৫০০ ডলারের কম করার আশা রাখেন বিজ্ঞানীরা৷ তবে এই টেস্ট রুটিন চেক-আপের অঙ্গ হয়ে উঠতে এখনও বেশ কিছু সময় লাগবে৷

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সাফল্য বেশি, স্তন ক্যান্সারে কম:
বিভিন্ন পর্যায়ের ক্যান্সারযুক্ত মোট ১,০০৫ জন রোগীর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেন গবেষকরা৷ এর মধ্যে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে আস্থাজনকভাবে ক্যান্সার ধরতে সমর্থ হয় ‘ক্যান্সার-সিক'। অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই টেস্ট ক্যান্সার নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়৷

বিশেষ করে স্তনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রতি তিনজন রোগীর মধ্যে মাত্র একজনের ক্ষেত্রে ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব হয়৷ অপরদিকে ডিম্বাশয় ও যকৃতের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শতকরা ৯৮ ভাগ টিউমার নির্ণয় করে ‘ক্যান্সার-সিক' টেস্ট৷

আরও বড় কথা, ‘ক্যান্সার-সিক' যে আট ধরনের ক্যান্সার নির্ণয় করতে সক্ষম, তার মধ্যে পাঁচ ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে ক্রিনিং করা, অর্থাৎ ক্যান্সার ধরা বর্তমানে সম্ভব নয়৷ তবে কোলন বা মলাশয়ের ক্ষেত্রে প্রথাগত কোলোনোস্কপিতেই আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ের কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ে৷

বিজ্ঞানীরা সেই সঙ্গে ৮০০ জনের বেশি সুস্থ মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে দেখেছেন, কেননা টেস্টে কতবার বা কী পরিমাণ ভুল ফলাফল দেখানো হচ্ছে, সেটাও জানা দরকার৷ সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে মাত্র সাত জনের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ মাত্র এক শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল ‘পজিটিভ' ফলাফল দেখিয়েছে ‘ক্যান্সার-সিক৷'

তবুও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা এই টেস্ট থেকে বেশি প্রত্যাশা করা সম্পর্কে সাবধান করে দিয়েছেন৷ বিশেষ করে গোড়ার দিকের টিউমার ধরার ক্ষেত্রে ‘ক্যান্সার-সিক' অর্ধেকের কম টিউমার ধরতে পেরেছে৷ ক্যান্সার পর্যাপ্ত পরিমাণ বাড়ার পরেই যদি শুধু ‘ক্যান্সার-সিক' স্ক্রিনিংয়ে তা ধরা পড়ে, যখন রোগের অন্যান্য লক্ষণ ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে, তাহলে এই পরীক্ষার উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বৈকি৷

‘ক্যান্সার-সিক' টেস্টে ভুল ‘পজিটিভ' ফল দেখানোর সম্ভাবনা বাস্তবে আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কেননা, ক্রনিক বা দীর্ঘকাল ধরে অপরাপর রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হয়৷ অথচ ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহের রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে প্রায়ই এমন একটি প্রোটিন পাওয়া যা যা ‘ক্যান্সার-সিক' টেস্টেও ধরা পড়ে৷

কাজেই আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন ও তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে৷ ৬৫ থেকে ৭৫ বছরের ৫০,০০০ মহিলা, যারা কোনোদিন ক্যান্সারে ভোগেননি, তাদের নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছেন পেনসিলভানিয়ার গেইজিঙ্গার হেল্থ সিস্টেম ও জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকরা৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে


ঢাকা, শনিবার, জানুয়ারী ২৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে