সর্বশেষ
বুধবার ৯ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৩ মে ২০১৮

ফের শাটডাউনের শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রে

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৮

8_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের নিয়ে দেশটির বড় দুই দলের মতবিরোধের জেরে দেশজুড়ে শাটডাউনের এক মাসের মধ্যেই নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে প্রায় তিন দিনের শাটডাউন চলার পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা এ নিয়ে সমঝোতা উপনীত হয়। তবে এখনও পর্যন্ত তরুণ অভিবাসীদের সুরক্ষায় ওবামা প্রশাসন ঘোষিত 'ড্রিমার কর্মসূচি' পরিচালনা নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। এ নিয়ে উল্লেযোগ্য কোনও অগ্রগতিও পরিলক্ষিত হয়নি।

আজ শনিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

৭ লাখ ড্রিমার বা তরুণ অভিবাসীর বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে এ সপ্তাহেও একমত হতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান পার্টি ও বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা। এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিকে সামনে রেখে দুই দলের মতবিরোধের বিষয়টি আবারও সামনে আসছে।

এ চুক্তি নিয়ে বড় দুই দল একমত হতে না পারলে বা তাদের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আগামী সপ্তাহেই আরেকটি শাটডাউনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শাটডাউনের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না হলেও অস্বস্তিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তরুণ অভিবাসীরা। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ছোটবেলায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ড্রিমারদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

ওবামা প্রশাসনের ড্রিমার কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৮ সালের ৫ মার্চ। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গতকাল শুক্রবার ভার্জিনিয়ায় এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা একটি চুক্তি করতে চাই। তবে ডেমোক্র্যাটরা এটিকে ভোট পাওয়ার জন্য রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে। তাদের এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমি সত্যিই খুশি নই।

শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন।

ড্রিমারদের বেশিরভাগই ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে এদের মধ্যে ৪৯০ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এ ইস্যুতে সর্বশেষ প্রায় তিন দিন শাটডাউন চলার পর অভিবাসন নিয়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক স্কুমার ও রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এরপর সরকারের জন্য তিন সপ্তাহের তহবিল বরাদ্দের ব্যাপারে সিনেটে ভোটাভুটি হয়।

গত জানুয়ারির শাটডাউনের সময় জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক ছুটি বা অস্থায়ী বিনা বেতনের ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ৮ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছিলেন।


ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৩৭৭ বার পড়া হয়েছে