সর্বশেষ
রবিবার ৪ঠা ভাদ্র ১৪২৫ | ১৯ আগস্ট ২০১৮

জেলে খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে দায় সরকারের: বিএনপি

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৮

image-16279-1518273679_0.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

জেলকোড অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মর্যাদা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে গণমাধ্যমের কাছে এই অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল বলেন, ‘জেল কোডের মধ্যে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রী, তাদের সঙ্গে কোনো অনুমতির দরকার নেই। অর্থাৎ জেল কোডেই বলা হচ্ছে, তারা ডিভিশন পাবে। কিন্তু তাকে (খালেদা জিয়া) এখন পর্যন্ত ডিভিশন দেওয়া হয়নি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্যাঁতসেঁতে ও পরিত্যক্ত জায়গায় একা কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একজন সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে। তাই জেলে তার কোনো ক্ষতি হলে সরকারকেই দায়ভার বহন করতে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের বৈঠকের ফাঁকে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ বৈঠক শুরু হয়। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সভাপতির আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও যুগ্ম মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারারুদ্ধ হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে প্রথমবারের মতো এ জরুরি বৈঠক করেন দলের সিনিয়র নেতারা। খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার ব্যাপারে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের পাঁচজন আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা যা জানিয়েছেন তা শুনে আপনারা বিস্মিত হবেন, পরিত্যক্ত ও স্যাঁতসেঁতে কক্ষে সাধারণ কয়েদি হিসেবে খালেদা জিয়াকে একা রাখা হয়েছে। তাকে কোনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি এবং চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। গৃহপরিচারিকা দেওয়ার কথা ছিল, তাও দেওয়া হয়নি। সাবেক প্রধানমত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এসব সঙ্গে সঙ্গে পাওয়ার কথা। তারা অবিলম্বে তাকে ডিভিশন ও যথাযথ মর্যাদাসহ সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। অন্যথায় জেলকোড ভঙ্গের জন্য সরকার দায়ী থাকবে।

বৈঠক শুরুর এক ঘণ্টা পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বৈঠকে বলা হয় খালেদা জিয়াকে অন্যায় ও মিথ্যাভাবে বর্তমান অনৈতিক সরকার তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার জন্য এবং তাকে (খালেদা জিয়া) রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েছে। এ সভায় সেটার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সভায় খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন ও গ্রেফতারের নিন্দা জানানো হয়েছে। কয়েক দিনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সভায় গ্রেফতার নেতাদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, এম এ কাইয়ুম, আবদুল হাই শিকদার, ড. সুকোমল বড়ুয়া, মো. শাহজাহান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমদ আযম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শুরুর ৫ মিনিট পরই রফিকুল ইসলাম মিয়া চলে যান।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্যে যেন অভিন্নতা থাকে, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বক্তব্য দিয়ে দলের ঐক্যে যেন কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সেটিও গুরুত্ব পায় বৈঠকে।


ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৭৪৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন