সর্বশেষ
শুক্রবার ১০ই ফাল্গুন ১৪২৪ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কানে শোঁ শোঁ শব্দ হলে

রবিবার ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ears-ringing.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

'টিনিটাস' বা 'কানে শোঁ শোঁ শব্দ' হলো একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ হলো 'রিং'। টিনিটাস কানের বা শরীরের অন্য কোনো রোগের উপসর্গ মাত্র, যা রোগী তার নিজ কানে অনুভব করে। বাইরের কোনো কোলাহল ছাড়া নিজ কানে অস্বাভাবিক এক রকম শব্দ শোনাই হলো 'টিনিটাস'। এ শব্দটি নানারকম হতে পারে। যেমন-বাঁশির শব্দ, ঘণ্টার শব্দ, বাতাসের প্রবাহের শব্দ, গুন গুন শব্দ, অথবা সাপের শোঁ শোঁ শব্দ। এ শব্দ সচরাচর এক কানে অনুভূত হয়, তবে দুই কানেও হতে পারে।

টিনিটাস তিন রকম হতে পারে-

সাবজেকটিভ: বাইরের কোনো কোলাহল ছাড়া রোগী যখন কোনো অর্থহীন শব্দ শুনতে পায়। এ শব্দটির তীব্রতা নানা রকম হতে পারে, ২৪ ঘণ্টা একটানা অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর। যেমন- ঘণ্টার শব্দ, সাপের শোঁ শোঁ শব্দ অথবা গুন গুন শব্দ। এটি রোগীর ঘুমে অসুবিধা করে এবং রোগী মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে না। দীর্ঘদিন টিনিটাসে ভুগলে রোগীর মধ্যে এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়।

অবজেকটিভ: এক ধরনের অস্বাভাবিক শব্দ যেটা রোগীর নিজের শরীর থেকে অনুভূত হয়। যেমন- বাতাস প্রবাহের শব্দ। ঘূর্ণায়মান রক্তের প্রবাহ, মাথার মাংসপেশির সঙ্কোচন, কানের ভেতর মাংসপেশির সঙ্কোচন। অবজেকটিভ টিনিটাস চিকিৎসক স্টেথোস্কোপের সাহায্যে শুনতে পান।

অডিটরি হ্যালুসিনেশন: অনেক সময় রোগী নির্দিষ্ট সময় পরপর কথা বলার শব্দ অথবা কোলাহল শুনতে পায়। যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এটাই হলো অডিটরি হ্যালুসিনেশন। এ ধরনের টিনিটাস সাধারণত ব্রেনের স্নায়ুকোষ থেকে উৎপন্ন হয়। এটি সাধারণত মানসিক রোগীদের (সিজোফ্রেনিয়া) বেশি হয়ে থাকে। যেমন- কথা বলার শব্দ, গানের শব্দ।

যে কারণে হয়ে থাকে

কর্ণজনিত কারণ: বহিঃকর্ণ বা এক্সটার্নাল ইয়ার : কানের ময়লা বা খৈল

মধ্যকর্ণ বামিডল ইয়ার: অটোস্কেরোসিস, মধ্যকর্ণে পানি জমা

টেমপোরো: ম্যান্ডিবুলার অস্থিসন্ধির সমস্যা

অন্তঃকর্ণের রোগগুলো: মিনিয়ার্স ডিজিজ, শব্দ দূষণজনিত বধিরতা, অটোটক্সি সিটি (কিছু ওষুধ যা কানের শ্রবণশক্তি হ্রাস করে বা কানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়) এবং অন্তঃকর্ণের প্রদাহ।

নিউরো

অটোলজিকবা স্নায়ুবিক কারণ: গ্লোমাস টিউমার, একসটিক নিউরোমা।

কানে আঘাতজনিত কারণ

সাধারণ কারণ: উচ্চ রক্তচাপ, নিম্ন রক্তচাপ, হাইপো গ্লাইসেমিয়া এবং মাইগ্রেন।

কানের কিছু কিছু অপারেশনে (টিমপেনোপ্লাস্টি, টিমপেনোটোমি) টিনিটাস হতে পারে। আবার কিছু কিছু ওষুধের কারণেও (কেটামিন, হেরোইন, মারিযুয়ানা) এর টিনিটাস হতে পারে।

রোগের উপসর্গ
 
- রোগী মাঝে মাঝে অথবা সব সময় কানে ঝিঁ-ঝিঁ পোকার শব্দ শুনতে পায়।
 
- কানে কম শোনা, মাথা ঘোরানো, ঘুম কম হওয়া।
 
- এক কান অথবা দুই কানেও হতে পারে।
 
- একটানা অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর বেশি অথবা কম।
 
- কোন ধরনের শব্দ- বাঁশির শব্দ, ঘণ্টার শব্দ, বাতাসের শব্দ, সাপের শোঁ শোঁ শব্দ, গুনগুন শব্দ।
 
- কানের শোঁ শোঁ শব্দ রোগীর দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় কি-না?
 
- কোনো প্রকার ওষুধ ব্যবহার করছেন কি-না?

রোগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা: টিউনিংফর্ক টেস্ট, পিউর- টোন অডিও মেট্রি, টিম্‌প্যানোমেট্রি, এসআরটি, টোনডিকে, ইঊজঅ, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এক্স-রে অব ইন্টারনাল অডিটরি ক্যানেল, এক্স-রেমাস্টয়েড, রুটিন রক্ত পরীক্ষা, ব্লাড সুগার, রিউমাটয়েডফ্যাক্টর, অ্যান্টিনিউক্লিয়ার অ্যান্টিবডি।

চিকিৎসা:

প্রথমে রোগীকে বোঝাতে হবে এটা কোনো জীবন সংহারি সমস্যা নয়। রোগীকে সুন্দরভাবে রোগের বিস্তারিত জানাতে হবে এবং সব সময় চিন্তামুক্ত থাকতে বলতে হবে।
 
- শোঁ শোঁ শব্দের কারণ বের করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।
 
- প্রয়োজনে কানে যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। যেমন- হেয়ারিং এইড বা কানে শোনার যন্ত্র, টিনিটাস মাস্কার।
 
- বালিশের পাশে অ্যালার্ম ঘড়ি অথবা বালিশের নিচে হালকা শব্দে রেডিও-মিউজিক ছেড়ে ঘুমাতে পারে।
 
- রোগীকে কাত হয়ে কানের নিচে হাত রেখে ঘুমাতে নিষেধ করতে হবে।

ডা. এম আলমগীর চৌধুরী
অধ্যাপক নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ধানমণ্ডি, ঢাকা


ঢাকা, রবিবার ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি 1272 বার পড়া হয়েছে