সর্বশেষ
রবিবার ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৭ মে ২০১৮

ঢাকার এক তৃতীয়াংশ মানুষের শ্রবণশক্তি কমে যাবে!

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮

4_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

পুরো ঢাকা শহরই এখন শব্দ দূষণের শিকার৷ শহরের প্রায় সব এলাকাতেই শব্দ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি৷ এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো ধরনের বধিরতায় আক্রান্ত হবেন৷

শব্দের মাত্রার একককে বলা হয় ডেসিবেল৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলা ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল হওয়া উচিত; বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬৫ ডেসিবেল, রাতে ৫৫ ডেসিবেল; শিল্পাঞ্চলে দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৬৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দমাত্রা থাকা উচিত৷ আর হাসপাতালে সাইলেন্স জোন বা নীরব এলাকায় দিনে ৫০, রাতে ৪০ ডেসিবেল শব্দ মাত্রা থাকা উচিত৷

বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ঢাকা শহরের ১০টি স্থানের শব্দ পরিমাপ করে দেখেছে, ঢাকায় নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুন শব্দ সৃষ্টি হয়৷

জরিপে দেখা গেছে, উত্তরার শাহজালাল অ্যাভিনিউতে শব্দমাত্রা সর্বোচ্চ ৯৩.৫ ডেসিবেল, মিরপুর-১ এ সর্বোচ্চ ৯৬ ডেসিবেল, পল্লবীতে সর্বোচ্চ ৯১.৫ ডেসিবেল, ধানমন্ডি বালক বিদ্যালয়ের সামনে সর্বোচ্চ ১০৭.১, ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কে সর্বোচ্চ ৯৫.৫, নিউমার্কেটের সামনে সর্বোচ্চ ১০৪.১, শাহবাগে সর্বোচ্চ ৯৭.৩ এবং সচিবালয়ের সামনে সর্বোচ্চ ৮৮ ডেসিবেল৷

আর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, 'এক গবেষণায় দেখা গেছে এইভাবে শব্দদূষণ অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ কানে কম শুনবে৷ একটি অংশ পুরোপুরি বধির হয়ে যাবে৷'

তিনি বলেন, 'ঢাকার শাহবাগ, মহাখালী বা ফার্মগেট এলাকার শব্দের মাত্রা ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত হয়ে থাকে৷ কিন্তু ওইসব এলাকায় ৬০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের মাত্রা গ্রহণযোগ্য নয়৷ পুরো ঢাকা শহরে এমন কোনো জায়গা পাওয়া যাবে না, যেখানে শব্দের মাত্রা স্বাভাবিক আছে৷'

ঢাকায় সাধারণভাবে যানবাহন ও হর্নের শব্দই শব্দদূষণের মূল কারণ৷ তবে এর বাইরে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার আরেকটি বড় কারণ৷ আর রাস্তা ছাড়া বাড়ি বা আবাসিক এলকায় বিয়েসহ নানা সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চমাত্রার শব্দযন্ত্র ব্যবহার এবং গানবাজনাই প্রধান কারণ৷ কেউ কেউ নিজের বাসায় উচ্চশব্দে গান শোনেন বা অন্য কোনো সাউন্ড ডিভাইস ব্যবহার করেন৷ এর বাইরে ঢাকাসহ সারাদেশে শিল্পকারখানা এবং যানবাহনকে শব্দ দূষণের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷

অথচ অনেকে নিজের বাসায়, কমিউনিটি সেন্টারে সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কোনো অপরাধই মনে করেন না৷ এর প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাইতে গেলে উলটো হেনস্থার শিকার হতে হয়৷ এমনকি প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারপিটের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে রাজধানীতে৷

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ক্ষমতাবলে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়৷ বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে৷ এদিকে আইন অমান্য করলে প্রথমবারের অপরাধের জন্য এক মাস কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী অপরাধের জন্য ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবে এই আইনের তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না৷ আইনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ আরো কিছু বিষয়ে ব্যাতিক্রম আছে৷ তবে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা এবং রাত ১০টার পর কোনোভাবেই উচ্চ শব্দের কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে


ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৩৭৪ বার পড়া হয়েছে