সর্বশেষ
বুধবার ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

নাশকতার পরিকল্পনা করছে জেএমবি: র‌্যাব

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮

9_0.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

রাজধানীর তেজগাঁও থেকে জেএমবি দুই সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। দেশের মধ্যে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্যই তারা একত্রিত হচ্ছিল বলে জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কাওরানবাজারের র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান।

এর আগে, গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সোনালী ব্যাংকের মোড় থেকে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের  জেএমবি) দুই সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. নুরুজ্জামান লাবু (৩৯) এবং নাজমুল ইসলাম শাওন (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত লাবু র‌্যাবকে জানিয়েছে, তিনি প্রথম জীবনে বাস, ট্রাকের চালকের সহকারী এবং লন্ডিতে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি একজন দিনমজুর এবং রিকশা চালক হিসেবে জীবনযাপন করছেন। তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও তার পক্ষে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ইতোপূর্বে জামায়াত ইসলামের রাজনীতির সঙে সম্পৃক্ত ছিলেন।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, ২০১৫ সালে সাইফ ওরফে রুবেল ওরফে রবিন, এবং সাগর ওরফে মারুফ ওরফে সোহাগ ওরফে শিহাবের মাধ্যমে লাবু ধর্মীয় উগ্রবাদীতে প্রবেশ করেন। সাইফ তাকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে বিধর্মীদের হত্যা ও আক্রমণ করতে অনুপ্রাণিত করত।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি ঝিনাইদহ এলাকার স্কুল মাঠে এবং একটি রিকশার গ্যারেজে সমমনাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করতেন। লাবুকে জেএমবির পক্ষ থেকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয়েছিল। ওই রিকশা চালানোর অজুহাতে তিনি বিভিন্ন এলাকায় রেকি করতেন এবং মুসলমান থেকে ধর্মান্তরিত খৃষ্টানদের অনুসরণ করতেন। গ্রেপ্তারকৃত নুরুজ্জামান লাবু বর্তমানে ঝিনাইদহ এলাকার জেএমবির আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা। এছাড়াও তিনি বোমা বানাতে বিশেষভাবে পারদর্শী।

লে. কর্নেল আনোয়ারুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল ইসলাম শাওন র‌্যাবকে জানায় তিনি  ৪৬তম ব্যাচের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। ২০১৫ সালের মধ্যে উগ্রবাদী ধর্মীয় মতাদর্শের প্রতি আসক্তি সৃষ্টি হয়। তিনি উগ্রবাদী সংক্রান্ত বিভিন্ন বই যেমন ব্লাক ফ্লাগ ফ্রম সিরিয়া পড়ার মাধ্যমে শাওনের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী শেয়ার এবং পোষ্ট করতেন।

২০১৫ সালের মার্চ মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবু আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই আবদুল্লাহই তাকে জেএমবিতে প্রবেশ করান। ওই বছরেই আবদুল্লাহর মাধ্যমে জেএমবির অপর সদস্য মো. সুলায়মান ওরফে আজাহারের সঙে পরিচয় হয়। সুলায়মানের নির্দেশেই তিনি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে অন্তর্ভুক্ত করতেন।  গ্রেপ্তারকৃত লাবু এবং শাওনের দেওয়া তথ্যমতে তারা দেশের বিভিন্নস্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন সমমনা উগ্রবাদীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।


ঢাকা, মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৪০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন