সর্বশেষ
রবিবার ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৭ মে ২০১৮

পোড়াদহ মেলায় ১০০ কেজির বাঘাইর মাছ

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৮

image-23398-1518620295.jpg
বগুড়া প্রতিনিধি :

বগুড়ায় পোড়াদহ মেলা এবার অন্য স্থানে বসলেও উৎসবের রঙ একটুও কমেনি। মেলাকে কেন্দ্র করে এবারও এলাকায় ঘরে ঘরে আনন্দময় পরিবেশ ছিল। বুধবার অনুষ্ঠিত এ মেলায় এবার ওঠে সবচেয়ে বড় সাইজের বাঘাইর মাছ। যার ওজন আড়াই মণ বা ১০০ কেজি। বিক্রি করা হয় এক হাজার টাকা কেজি দরে।

প্রতি বছর ওই মেলা যে স্থানে বসতো এবার জায়গার অভাবে সেখানে মেলা বসেনি। আর প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার মেলার আয়োজন করা হলেও এবার মাঘ মাস পেরিয়ে ফাগুন মাসের ২ তারিখে এ মেলা বসে।

জেলার গাবতলী উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় চারশ' বছর আগে থেকে এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। আগে এর নাম ছিল সন্ন্যাসী মেলা এখন পোড়াদহ মেলা হিসেবে অধিক পরিচিত। বংশ পরম্পরায় প্রতি বছর মেলা উপলক্ষে স্থানীয়রা জামাই-মেয়ে, স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন। তবে তালিকার শীর্ষে থাকে নতুন জামাই-বউ। মেলা করতে শ্বশুর-শাশুরির পক্ষ থেকে জামাইবাবুদের সেলামি দেওয়ার প্রচলন এখনও অটুট রয়েছে। যে যার মত সাধ্যানুযায়ী জামাইয়ের হাতে মেলায় যাওয়ার জন্য সেলামির টাকা তুলে দেন।

মাছ আর মিষ্টির মেলা হিসেবে পরিচিতি মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে মানুষ ছুটছেন মেলার মাছপট্টির দিকে। দরদাম করে সাধ্যের মধ্যে কিনছেন নিজের পছন্দের মাছটি। তবে সবার নজরই থাকছে বড় মাছের দিকে। কেনার সামর্থ্য সবার না হলেও একবার দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। একইভাবে মাছ কেনার পর সবাই ছুটছেন মিষ্টি পট্টির দিকে। সেখানেও রয়েছে মাছের আদলে তৈরি 'মাছ মিষ্টি'।

মেলায় আড়াইমণ ওজনের বাঘাইর মাছের বিক্রেতা ভোলা মিয়া জানান, মাছটি পদ্মা নদীর মাছ, বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাছটি কিনে তিনি মেলায় বিক্রি করছেন। প্রতি বছরই তিনি এমন বড় সাইজের মাছ মেলায় তোলেন বলেও জানান।

মিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ জানান, তিনি এবার ৫ কেজি ওজনের মিষ্টি তৈরি করেছেন। প্রতি বছর মেলা উপলক্ষে এ ধরনের মিষ্টি তৈরি করেন।

এলাকার প্রবীণদের মধ্যে মোখলেছুর রহমান জানান, পোড়াদহ এলাকায় ইছামতি নদীর তীরে ছিল একটি বিশাল বটবৃক্ষ। এক সময় গাছটি মরে যায়। সেখানে একদিন এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব ঘটে। পরে সেখানে আশ্রম তৈরি করেন সন্ন্যাসীরা। কথিত আছে সেখানে সন্যাসীদো সাধনার ফলে মৃত বটগাছটি জীবিত হয়। পরে স্থানটি পূণ্যস্থানে পরিণত হয় হিন্দু সল্ফপ্রদায়ের মানুষের কাছে। সেই থেকে প্রতি বছর মাঘের মেষ বুধবার সেখানে মেলা বসে।

পোড়াদহ মেলার সন্যাসী পূজার কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ননী গোপাল বলেন, সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী বুধবার ছিল মাঘের শেষ বুধবার। তাই মেলার দিনক্ষণ ঠিক আছে।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি স্থানীয় মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলার মূল জায়গার একটু দূরে মেলার আয়োজন করা হলেও প্রচুর লোকসমাগম ছিল।


ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৪৮২ বার পড়া হয়েছে