সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৪ঠা পৌষ ১৪২৫ | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

জিএসসি নির্বাচন: লন্ডনে মাহবুব-মকিস-রানা প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৮

10.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রোববার ওল্ডহ্যামে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল (জিএসসি) এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত নির্বাচনে ৩৫টি পদে ২টি প্যানেলে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন ৭০জন প্রার্থী। নির্বাচনে মাহবুব-মকিস-রানা পরিষদ চেয়ার প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্যানেলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় উক্ত প্যানেলের প্রার্থী ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ার প্রতিকের প্রার্থীরা তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মকিস মনছুর আহমদ, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরদেন সভাপতি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মাহবুব, মুক্তিযোদ্ধা এম এ মন্নান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম কায়ছার, নিজাম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কায়ছার সৈয়দ, ড. মুজিবুর রহমান, আশরাফ মিয়া, শেখ শাহজাহান তারফদার, হেলেনা ইসলামসহ অনেকে।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, বেলাল হোসেন, আব্দুর রহিম রঞ্জু, আব্দুল বাছিত রফি, আছকর আলী, লিয়াকত আলী, কদর উদ্দিন, আবুল হাসনাত, নুরুল ইসলাম, সাবিনা চৌধুরী, সুফিয়া খানম, ফারুক মিয়া, সৈয়দ মিসবাউল করিম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যা বলা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার আমাদের প্রতিদ্বন্ধি প্যানেলের (আতা-খসরু-সালেহ পরিষদের) পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রচারিত একটি লিফলেটে কিছু বিষয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অসত্য তথ্য প্রদান করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা সাংগঠনিক ফোরামের বাইরে বক্তব্য প্রদান করতে চাই নাই। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের পক্ষ থেকে যেসব বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য আমাদের সম্মানিত সদস্যদের কাছে তুলে না ধরলে বিভ্রান্তি ও গুজব আরো বেশি ছড়ানো হবে বলেই সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য আমরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করি।

গঠনতন্ত্র মোতাবেক দুই বছর পর পর নির্বাচনের বিধান রয়েছে। এ কথা সত্য। কিন্তু এই বিধান শুধু এবারই ছিল না সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে তা ছিল। আমরা যদি বিগত দিনের কমিটিগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখবো জনাব মনছব আলী, জনাব আতাউর রহমান এবং জনাব আসহাব বেগের সময়কার তিনটি কমিটি ছয় বছর মেয়াদের পরিবর্তে দশ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন। তাদের সময়কার দুটি কমিটিতে কোনো প্রত্যক্ষ নির্বাচন হয় নাই এবং কেউ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন নাই। এরপরেও তারা তিনটি কমিটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি সময় দায়িত্বে ছিলেন। আমাদের প্রশ্ন, এ ব্যাপারে তাদের কোনো ব্যাখ্যা সাংবাদিক সম্মেলনে দেয়া হলো না কেন? আমাদের অনেকেই সেই সময় কার্যকরী কমিটিতে ছিলেন এবং সাংগঠনিক ফোরামে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলাম। আমরা সাংবাদিক সম্মেলন করে কোনো বক্তব্য দেই নাই।

জনাব আতাউর রহমান এবং জনাব আসহাব বেগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যখন দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন ফকস্টোনে সংগঠনের একটি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্টিত হয়েছিল। তারা তখন বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ পর্যন্ত সদস্যদের কাছে প্রেরণ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। জনাব আতাউর রহমান চেয়ার একশনের নামে জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন রিজিওনে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে ডিভাইড এন্ড রুলের থিওরি ফলো করতে চেয়েছিলেন। সাংগঠনিক ফোরামে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আলোচনা ও প্রতিবাদ করেছিলাম কিন্তু সংগঠনের ঐক্যের লক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করে বক্তব্য দেই নাই।

জিএসসি’র সবচেয়ে বৃহৎ রিজিওন হচ্ছে সাউথ ইস্ট রিজিওন। সাউথ ইস্ট রিজিওনের নির্বাচনের তফসিল এবং মনোনয়ন দাখিল ও প্রত্যাহারের পর নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সদস্য দ্বারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন স্থগিত করা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং পরবর্তীতে ডেলিগেট নির্বাচন নিয়ে বিরোধ নিষ্পন্ন করতে এক বছরের অধিক সময় চলে যায়। এই সময়ের মধ্যে ইচ্ছা করলেও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কারণ রিজিওন থেকে যারা ডেলিগেট নির্বাচিত হয়ে আসেন তারাই কেন্দ্রীয় কমিটির ভোটার। তাই রিজিওন থেকে ভোটার লিস্ট তথা ডেলিগেট লিস্ট চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এখানে উল্লেখ্য যে, সাউথ ইস্ট রিজিওনের জটিলতা নিরসনে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে বর্তমান কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের সাথে জনাব মনছব আলী এবং জনাব আসহাব বেগসহ আরো কিছু সদস্য ছিলেন। সমস্যা নিষ্পত্তি না করে কারা দেশ বিদেশ ঘুরে এসেছিলেন এবং সময় ক্ষেপন করেছিলেন অনেকেই তা জানেন।

জিএসসির ফান্ডে শুধুমাত্র সদস্যদের মেম্বারশিপ ফি ১০ পাউন্ড থেকে রেজিওনের অংশ দেয়ার পর একটা অংশ কেন্দ্রীয় কমিটি পায়, যা খুবই নগন্য। বর্তমানে প্রজেক্টের মাধ্যমে যে ফান্ড আসে তা শুধু নির্ধারিত কাজেই ব্যবহার করতে হয়। এর পরেও জিএসসি’র বৃহত্তর সিলেট কমিটিসমূহের মাধ্যমে বর্তমান কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম মাহবুবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের নামে কিছু প্রজেক্ট বাংলাদেশে সম্পন্ন করা হয়।

১) মহিলাদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করে প্রায় ত্রিশজন মহিলার জন্য কাজের সুবিধা সৃষ্টি হযয়েছে।
২) একটি ভ্যান ক্রয় করে একটি অসহায় পরিবারকে দেয়া হয়।
৩) গরিব ও মেধাবী ছাত্রীদেরকে এডমিশন ফি এবং অন্যান্য খরচ বাবদ গ্রান্ট দেয়া হয়েছে।
৪) মৌলভীবাজার সদর পৌরসভায় ময়লা আবর্জনা এক জায়গায় ফেলার জন্য ডাস্ট বিন সরবরাহ করা হয়েছে।
৫) বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় গরিব ও অসহায় মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র ও মশারি বিতরণ করা হয়।
৬) সুনামগঞ্জের মোল্লা পাড়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে দুই লক্ষ্য টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
৭) হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলাতে বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে এক লক্ষ্য টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
৮) মৌলভীবাজারে বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে দুই লক্ষ্য টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
৯) বরিশালের মুলাদী এবং রূপ নগর এলাকায় প্রতি রমজানে গরিব ও অসহায় মানুষদেরকে ইফতারের জন্য এবং কোরবানির ঈদে দুটি করে গরুর টাকা হেড ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নুরুল ইসলাম মাহবুবের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে গ্রেটার সিলেটের ব্যানারে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।

এছাড়াও নুরুল ইসলাম মাহবুব বিভিন্ন সময়ে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের ব্যানারে সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গরিব ও দরিদ্রদের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন।

জিএসসিতে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এবং জিএসসিকে কমিউনিটির সকলের জন্য একটি বৃহত্তম প্লাটফর্ম তৈরী করতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আমরা জিএসসির সম্মানিত ডেলিগেট সদস্যবৃন্দকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মাহবুব-মকিস-রানা পরিষদকে চেয়ার মার্কায় মূল্যবান ভোট প্রদানের অনুরোধ করছি।


ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৮৪৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন