সর্বশেষ
বুধবার ৩রা শ্রাবণ ১৪২৫ | ১৮ জুলাই ২০১৮

সন্তানের উন্নয়নে পরিবেশের গুরুত্ব এবং আমাদের করণীয়

সোমবার, মার্চ ১৯, ২০১৮

9.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আমাদের প্রতিটি সন্তান, আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য, যা প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে বয়ে আনে অনেক আনন্দ! তবে প্রকৃত আনন্দ তখনই আসে, যখন আমাদের সন্তানরা শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়ে সুন্দর ভাবে গড়ে উঠে, তাদের জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ভাল মানুষ হেসেবে গড়ে উঠে। ছেলে মেয়েদের এই শারীরিক ও মানসিক ভাবে উন্নয়নে আমাদের প্রত্যেকের ঘরে একটি সুন্দর পরিবেশ থাকা অত্যন্ত জরুরি।

শিশুরা যা দেখে তাই শিখে:
আমরা প্রত্যেকে যৌথ পরিবারে বা পৃথকভাবে বসবাস করি। শিশুর উন্নয়নে আমাদের ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের মন ভিডিওর মত 'আমরা যা বলি বা করি তা তাদের মনের মাঝে একইভাবে প্রতিফলিত হয়', এমনকি পিতা মাতার ব্যবহার, তার স্বভাব-চরিত্র এবং চারপাশের খারাপ শব্দও।

আমরা অনেক সময় লক্ষ্য করে থাকি যে, 'একটি শিশু রেগে হঠাৎ করে বকা দিয়ে উঠল', এই ৪-৫ বছর বয়সের একটি শিশু আদো কি জানে তার সেই বকার অর্থ কি? না তা সে জানে না, তারপরও যখনই সে রেগে যায় তখনই সে বকা দিয়ে উঠে। কারণ সে এই খারাপ শব্দগুলো শুনেছে তার চারপাশের কারো কাছ থেকে। সে দেখেছে তার পাশের কেউ, যখনই রেগেছে তখনই এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছে| আমাদের প্রতিটি পিতামাতাকে এই বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া অনেক জরুরি।

পিতা-মাতার সম্পর্ক:
পরিবারে পিতা-মাতার আন্তরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। যে পরিবারে বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভালো, যেখানে পিতামাতারা একে অপরকে শ্রদ্ধা করে, একে অপরের সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করে, নম্রতা ও ভদ্রতা বজায় রাখে, তাদের সন্তানরা খুব ভাল ও ভদ্র হয় এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নও সুন্দর ভাবে গড়ে উঠে।

যে পরিবারে বাবা-মার মাঝে সারাক্ষণ ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে, সে পরিবারের সন্তানরা সঠিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। তাদের শারীরিক ও মানসিক অনেক সমস্যা দেখা দেয়। তারা হয়ে ওঠে অবাধ্য, নিষ্ঠুর, এমন কি মাদকাসক্ত এবং জড়িয়ে পরে খারাপ কিছুতে। বাবা-মার মাঝে ঝগড়া-বিবাদ সন্তানদের বিষন্নতার একটা বড় কারণ। তাই প্রতিটি পরিবারে পিতামাতার মাঝে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে সুখ-শান্তি-সাফল্য এবং সন্তানের মঙ্গল ও উন্নয়নের জন্য।

পিতা-মাতার লাইফ স্টাইল:
পিতামাতার লাইফ স্টাইল সন্তানের জীবনে প্রভাব ফেলে। যে সমস্ত পিতা মাতার লাইফস্টাইলে শৃঙ্খল নয় এবং যারা বেশির ভাগ সময় পার্টি, স্টার মুভি, টিভি সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের সন্তানরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠে না, তাদের আচরণে দেখা দেয় অনেক সমস্যা। বিশেষ করে তারা কিছুটা অলস প্রকৃতির এবং লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে থাকে, যার মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়ে শিক্ষাজীবনে। তাই সন্তানের উন্নয়নের জন্য পিতা-মাতার লাইফ স্টাইলে  শৃঙ্খলতা আনা জরুরি। আমরা একটু লক্ষ করলেই দেখতে পাব, যে সমস্ত ছেলে মেয়েরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করছে তাদের পিতা-মাতারা সন্তানের ব্যাপারে সচেতন।

পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা:
পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা একদিকে যেমন আমাদের মন ও স্বাস্থ্য ভাল থাকে, অন্যদিকে তা শিশুদের ব্যক্তিগত আচরণেও অনেক প্রভাব পরে। শিশুরা তাদের নিজের কক্ষ এবং পড়ার টেবিল খুব ভালোবাসে এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বাবা-মার কাছ থেকে শেখে।

যে সমস্ত শিশুরা তাদের নিজের কক্ষ, পড়ার টেবিল এবং তার লেখাপড়ার সামগ্রী- বই, নোট বই, কপি বই, কলম, পেন্সিল, পোশাক, জুতা এবং খেলনা সন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখতে শেখে, সে শিশুর ব্যক্তিগত জীবনেও সুন্দরভাবে গড়ে উঠে।

পিতা-মাতাই সন্তানের আদর্শ:
প্রতিটি পিতা-মাতাকে তাদের শিশুদের কাছে আদর্শ হওয়া একান্ত জরুরিI যদি কোনো বাবা-মা চান, যে তার সন্তান মিথ্যা কথা বলবে না, তাহলে সেই বাবা-মা কে প্রথমে তা অনুশীলন করা জরুরি। তাই সন্তানদের দিয়ে আমরা যদি ভালো কিছু করাতে চাই, সেই ভালো কাজটি পিতা-মাতা হিসেবে আমাদেরকে প্রথমে করতে হবে, তাহলেই আমাদের সন্তানরা তা করবে, অন্যথায় নয়।

ধর্মীয় শিক্ষা ও সচেতনতা:
শিশুদের মন খুব নরম। বাবা-মায়ের দায়িত্ব প্রতিটি শিশুর মনের ধর্মীয় শিক্ষা স্মরণ করে দেয়া। কোন শিশু যদি অন্যায় করে, তখন তাকে আল্লাহর শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং প্রত্যেক ভালো কাজের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে শিশুরা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং ভালো কাজ করতে উৎসাহী হবে, কারণ শিশুরা সবসময় পুরস্কার পেতে পছন্দ করে এবং বাবা মাকে খুশি রাখতে সচেষ্ট থাকে।

ফারুক আহমেদ


ঢাকা, সোমবার, মার্চ ১৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১০৩৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন