সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

নতুন অভিযোগে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ফেসবুক

মঙ্গলবার, মার্চ ২০, ২০১৮

29386524_767958650068265_4581985817064374272_n.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বৃহত্তর সাইট ফেসবুক। ফেসবুক এর ওপর আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কারণ যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না ফেসবুক।

কিছু বছর আগেও মানুষের মধ্যে ফেসবুক নিয়ে ছিল উৎসাহ। বিশেষ করে তরুণ ব্যবসায়ীরা বেশি আসক্ত ছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের এই সাইটে। তারা নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করতেন। কিছুদিন আগেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা নিয়মিত ফেসবুকে ব্যবহার করতেন। কিন্তু ইদানিং বিশ্ব প্রচার মাধ্যমে ফেসবুকের বিভিন্ন কেলেঙ্কারি উঠে আসায় আস্থা হারাচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

এছাড়া ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার নতুন অভিযোগ ওঠার পর ওয়ালস্ট্রিটে নড়বড়ে হয়ে গেছে ফেসবুকের অবস্থান।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নতুন কেলেঙ্কারির কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা এখন ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা দোটানায় ভুগছেন। আর এর প্রভাব পড়বে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়।

জোর অভিযোগ উঠেছে, কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক। ওই অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। সেই তথ্য পরে ব্যবহার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের কাজে।

সম্প্রতি এ কাজের সঙ্গে জড়িত এক অধ্যাপক মুখ খোলায় প্রকাশ্যে এসেছে ফেসবুকের সবকিছু। আর পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদেরা। ইতিমধ্যে তদন্তও শুরু হয়ে গেছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল সোমবার (১৯ মার্চ) ফেসবুকের শেয়ারের দামে ধস নামে। প্রতি শেয়ারের দাম ১৭২ ডলার ৫৬ সেন্টে নেমে গেছে। এক দিনেই ফেসবুকের শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম এতটা কমে যাওয়া নজিরবিহীন।

ফেসবুকের এই কেলেঙ্কারিতে সরব হয়েছেন সরকার ও রাজনীতির ব্যক্তিরাও। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার লন্ডন কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোর অনুমতি চেয়েছে দেশটির তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

এমন সব ঘটনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় রাজনৈতিক দলের সিনেটররা তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে শুনানির ডাক দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুশার ও রিপাবলিকান-দলীয় জন কেনেডি বলেছেন, তারা শুনানিতে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান।

অভিযোগের মুখে গত শুক্রবার কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে বরখাস্ত করেছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নিয়মভঙ্গকারী একজন গবেষকের কাছ থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য পেয়েছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা। তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলেক্সান্ডার কোগানের তৈরি অ্যাপ্লিকেশন ‘দিসইজইওরডিজিটাললাইফ’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এর ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্য জোগাড় করার সুযোগ পান ওই অধ্যাপক। ওই অ্যাপ মূলত একটি ব্যক্তিত্ববিষয়ক পরীক্ষা চালাত। কিন্তু যেসব ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই অ্যাপ ডাউনলোড করতেন, তারা আলেক্সান্ডার কোগানকে নিজেদের বিভিন্ন তথ্য নেওয়ার অনুমতিও দিতেন। এর ফলে ব্যবহারকারীদের অবস্থান, তাদের বন্ধু ও যেসব পোস্টে তারা ‘লাইক’ দিতেন, সে সম্পর্কে জানতে পারতেন মনোবিজ্ঞানের ওই অধ্যাপক। ওই সময় ফেসবুকের নিয়মনীতির মধ্যেও এ কার্যক্রম অনুমোদিত ছিল।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের ওই তথ্যাবলি কোগান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে সরবরাহ করেন। ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করেই এ কাজ করেন তিনি। ফেসবুকের পাঁচ কোটির বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য এভাবে বেহাত হয়ে যায়। ওই সময় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ভোটারদের প্রভাবিত করা যাবে, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছিল।

তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ২০১৫ সালে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকাকে ওই সব তথ্য মুছে ফেলতে বলেছিল তারা। কিন্তু কয়েক দিন আগে জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান জানতে পারে, ওই তথ্যভান্ডারের সবটুকু মুছে ফেলা হয়নি।

এদিকে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে যে তথ্যের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরবরাহ করা হয়নি। তবে ট্রাম্প শিবিরকে সেবা দেওয়ার কথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা।

ফেসবুক নিয়ে এত শোরগোল কেন?
সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিতর্কে ফেসবুকের ব্যবসাপদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ফেসবুক যেভাবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাপ ডেভেলপার ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করে থাকে, সেটি তারা করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

জাকারবার্গের সামনে এখন অনেকগুলো প্রশ্ন অপেক্ষা করে আছে। ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই ব্যাপারে ফেসবুক কি ব্যবহারকারীদের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পেরেছে?

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষক ম্যালকম ন্যান্স বলেন, ‘এখন যদি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি প্রগতিশীল ব্যবহারকারী ফেসবুককে প্রত্যাখ্যান করেন, তখন কী হবে?

এদিকে সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো আলেক্সান্ডার কোগান যেভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, তা ফেসবুকের নীতিমালাতেই ছিল। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও তা স্বীকার করেছে। আবার অ্যাপ ডেভেলপার ও বিজ্ঞাপনদাতারা যাতে তৃতীয় পক্ষের কাছে তথ্য হস্তান্তর করতে না পারে, তার জন্য কোনো সুরক্ষাব্যবস্থাও ফেসবুকের নেই।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ একটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ওই সব পদক্ষেপ তথ্যের বেহাত হওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে যথেষ্ট নয়।

এত বিতর্কের মাঝেও চুপ করে রয়েছেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। এছাড়া মুখ খোলেননি তার ডেপুটি শেরিল স্যান্ডবার্গও। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের হয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন একজন আইনজীবী। প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কেউ উত্তর দিচ্ছেন না একটি প্রশ্নেরও। ২০১৫ সালে তথ্য বেহাত হওয়ার কথা জানার পরও কেন এত দিন মুখ বন্ধ করে ছিল প্রতিষ্ঠানটি?

সর্বশেষ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যত সমস্যার গোড়া ফেসবুকের ভেতরই।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো


ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ২০, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৬৩৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন