সর্বশেষ
বুধবার ৩রা শ্রাবণ ১৪২৫ | ১৮ জুলাই ২০১৮

তাড়াশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট, বারান্দায় পাঠদান

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১০, ২০১৮

Capture_7.JPG ছবি উৎস : বিডিলাইভ২৪
সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চরকুশাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বারান্দায় পাঠদান চলছে।জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে দোচালা টিনসেট ২টি কক্ষ নিয়ে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মান করে দেন। এরপরও শ্রেণিকক্ষ সংকটে বছরের পর বছর চলছে বিদ্যালয়ের বারান্দায় পাঠদান।

এছাড়াও ৪ শত ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে ৩ জন শিক্ষককে। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও একজন রয়েছেন প্রশিক্ষণে, অন্যজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।

সরজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির সরু বারান্দায় পাঠদান চলছে শিশু শ্রেণির ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীর। জায়গা স্বল্পতার কারণে দুই সারিতে গাদাগাদি করে বসে আছে কোমলমতী শিশু শিক্ষার্থীরা। মাঝখানে নিজেদের বই-খাতা রাখার জায়গা পর্যন্ত নেই। মুক্ত বারান্দায় প্রখর রোদে পুড়ছে শিশুরা। বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষের অবস্থা আরো শোচনীয়। একেবারে ছোট একটি কক্ষে পাঁচজন শিক্ষককে সঙ্কুচিত হয়ে বসতে হয়। কক্ষের ভেতরে হাঁটা-চলাও মুশকিল। স্থান সংকটে এলোমেলোভাবে রাখা হয়েছে বিদ্যালয়ের যাবতীয় উপকরণ।

শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদা খাতুন, ইসরাত পারভীন, মরিয়ম খাতুন, শাহানাজ পাভীন, হাবিব উল্লাহসহ অনেকে জানায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বছরের পর বছর ধরে তাদের বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে পড়তে হচ্ছে, কখনো রোদে পুড়ে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে। বৃষ্টির পানিতে বইখাতা নষ্ট হয়ে যায়। পরিধেয় পোশাকও ভিজে যায় কখনো কখনো। এভাবে পড়ালেখায় মনোযোগ নষ্ট হয়।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আমেনা পারভীন, বৃষ্টি খাতুন ও রিমা খাতুন জানায়, শ্রেণি কক্ষেও জায়গা স্বল্পতার কারণে এক বেঞ্চে ৫-৬ জন গাদাগাদি করে বসতে হয়। এভাবে মনযোগের অভাব ঘটে পড়ালেখায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, প্রতি বছরই বাড়ছে শিক্ষার্থী। বাড়ছে শিক্ষার মান। ফলাফলও ভালো হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিপাকে পড়েছি আমরা।

তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়টিতে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট আরো একটি ভবন হলে শিশু-শিক্ষার্থীরা সুন্দর ভাবে পড়া-লেখা করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে তাড়শ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিদ্যালয়টির শ্রেণি কক্ষ সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শিগগিরই ভবন নির্মানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ১০, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৮০৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন