সর্বশেষ
বুধবার ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

সাতক্ষীরায় বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ, দিশেহারা কৃষক

সোমবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

rrr.jpg
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরায় হঠাৎ করে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলার কৃষকরা। ধান কাটার সময় হঠাৎ এমন রোগ দেখা দেওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। জেলায় এবার ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেছিল চাষিরা। কিন্তু ধান পাকা শুরু হলে ব্লাস্ট রোগের কারণে ধান চিটে হয়ে যাওয়ার কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৭৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৫০ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু ব্লাস্ট রোগে ধানে আক্রমণের কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের নূর হোসেন বোরো চাষ করেছেন চার বিঘা জমিতে। বিঘা প্রতি আট হাজার টাকা করে লীজের টাকা দিতে হয়েছে তাকে। জমি চাষ, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকদের মজুরি বাবদ খরচ করেছেন বিঘা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৫২ হাজার টাকা খরচ হলেও ১০ হাজার টাকার ধান পাবেন না বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি।


পাশ্ববর্তী উপজেলা তালায় ব্লাস্ট ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয় ধানে। এ খবর তার কাছে পৌঁছানোর এক দিন যেতে না যেতেই তার ক্ষেতেও ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। এতে ফলন্ত ধানের শীষগুলো দিনে পর দিন শুকিয়ে চিটে হয়ে গেছে ক্ষেতের ধান। কৃষি বিভাগের কোন পরামর্শই তাদের কাজে লাগছে না।

খোরদ্দ গ্রামের বাবর আলী, দেয়াড়া গ্রামের কুদ্দুস জানান, ধান লাগানোর কিছুদিন পর পাতায় এক ধরণের চোখ দেখা দেয়। চোখের পাশে কয়েকটি সাদা দাগও তারা লক্ষ্য করেন। এটাকে পাতা ব্লাস্ট বলা হয়। কয়েকদিন যেতে না যেতেই ধানের ফুল আসার সাথে সাথে শীষের নীচের গীট শুকিয়ে যেতে দেখেছেন। এটাকে ধানের নেক ব্লাস্ট বলা হয়। তবে পাতা ব্লাস্ট ও নেক ব্লাস্টে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি তাদের এলাকায়। তবে দু’সপ্তাহ আগে থেকে গীট ব্লাস্টের (ধানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাওয়া) রোগ যেভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তাতে শুধু দেয়াড়া ইউনিয়ন নয়, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে। ছত্রাকনাশক নাটিবো, টাটাবো ও টু-ওভার স্প্রে করেও মাঠের পর মাঠ সাদা হয়ে যাচ্ছে।

তালা সদর ইউপি চেয়াম্যান সরদার জাকির জানান, প্রায় একমাস আগে থেকে কপোতাক্ষের দু’তীরের কৃষকদের ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়। বিষয়টি তারা ইউনিয়ন সহকারি কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে জানিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, ব্লাস্ট একটি ছত্রাকজনিত রোগ। ধানে দানা বাঁধা শুরু হলে ছত্রাকজনিত এই ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। কৃষকদের ছত্রাকনাশক স্প্রে, জমিতে পানি ধরে রাখা ও কখনো জমিতে ইউরিয়া ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কৃষকদের মাঝে লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকরা অনুসরণ করলে উৎপাদনে খুব একটা বেশি অসুবিধা হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩২২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন