সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৫ | ১৯ জুলাই ২০১৮

বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ: যন্ত্রবিজ্ঞানী আমিরের অবাক করা আবিষ্কার

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

309810_128_0.jpg ছবি উৎস : যন্ত্রবিজ্ঞানী আমিরের আবিষ্কার
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বগুড়ায় জ্বালানিবিহীন গাড়ি, স্লো মোশন টাইম মেশিনসহ ২৫টি মেশিনের উদ্ভাবক যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেনের নতুন উদ্ভাবনা ‘বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন’। তার উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করে বিদেশেও রফতানি সম্ভব বলে তিনি দাবি করেছেন।

তার আবিষ্কৃত যন্ত্র শতভাগ সাফল্য আনতে পারে বলে বিজ্ঞানী আমির হোসেন দাবি করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রযুক্তিকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে আনতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা তার একার পক্ষে জোগান দেয়া সম্ভব নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে মানব জাতি ও দেশের জন্য তিনি সুফল বয়ে আনতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমির হোসেন তার গবেষণা থেকে যা পেয়েছেন তা হলো বজ্রপাতের উৎস শুরু হওয়ার মুহূর্তে সুউচ্চ টাওয়ারের মাধ্যমে সুপারহাই ফ্রিকোয়েন্সি মাইক্রোওয়েভ চুম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তড়িৎ শক্তিকে ধারণ করে আধুনিক প্রযুক্তিতে ধারণ করে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করার পরেও সারা বিশ্বে বিদ্যুৎ রফতানি করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

আমির তার গবেষণায় পেয়েছেন, পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য বজ্রপাত প্রাকৃতিক চার্জ হিসেবে কাজ করে। প্রাকৃতিকভাবে বাতাস যখন জোরে ছুটে আসে তখন তার মধ্যে উৎক্ষেপ থাকে। এ উৎক্ষেপ থেকে মেঘের ওপরের অংশে পজিটিভ বিদ্যুৎ আর নিচের দিকে নেগেটিভ বিদ্যুৎ জমতে থাকে। এই দুই বিদ্যুৎবাহী মেঘ কাছাকাছি এলেই একটির পজিটিভ অন্যটির নেগেটিভে মিশে যায়। তখন যে আলোর ঝলক দেখা যায়, এটাকে বলা হয় বিদ্যুৎ চমকানি। মেঘের নিচের স্তরে ঋণাত্মক চার্জ থাকে যা পৃথিবী পৃষ্ঠের ধনাত্মক চার্জে আকৃষ্ট হয়।

ফলে ভূপৃষ্ঠ ও মেঘ স্তরের মধ্যে বিপুল বিদ্যুৎ জমা হয়। পৃথিবী পৃষ্ঠের উঁচু টাওয়ার, দালান-কোঠা, গাছপালা, সুপরিবাহী বস্তু পেলেই মেঘের ঋণাত্মক চার্জ আকর্ষণ করে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে মাটিতে পড়ে। দুই চার্জের মিলনে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয় এবং প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়। এমনকি কখনো কখনো তাপ ৫০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়। বজ্রপাতের সাপটা দ্রুতগতিতে ভূপৃষ্ঠের দিকে ধাবিত হলে আশপাশের শীতল বাতাস প্রচণ্ড তাপে হালকা হয়ে তীব্রগতিতে দূরে সরে যায়। ফলে প্রচণ্ড শব্দ এবং বজ্রপাত হয়।

বজ্রপাতের শব্দ শোনার আগে আলোর ঝলকানি দেখার কারণ হচ্ছে বায়ুতে আলোর বেগ সেকেন্ডে প্রায় ৩ কোটি মিটার এবং শব্দের বেগ মাত্র ৩৩০ মিটার। শব্দ শোনার সময়কে ৩৩০ দিয়ে গুণ করলে বজ্রপাতের উৎসের দূরত্ব বের করা যায়। সাধারণত এক হাজার ৫০০ মিটার থেকে ১০ হাজার মিটার ওপরে বজ্রপাতের উৎস থাকে। প্রতি মুহূর্তে আবহাওয়া মণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ার অঞ্চলে এক হাজার ৮০০ কোটি বজ্রঝড় জন্ম নেয়। প্রতি সেকেন্ডে ছয় শত বার বজ্রঝড় ঘটে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় এক শ’র মতো বজ্রপাত পৃথিবীর সংস্পর্শে আসে। আবার জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হওয়ার সময় বায়ু ও অন্য জলীয় কণার সাথে ঘর্ষণের ফলেও প্রচুর স্থির বৈদ্যুৎতিক চার্জের আধারের মতো আচরণ করে। ওই মুহূর্তে ওই বিদ্যুৎ ক্যাপচারের সময় আমির হোসেনের বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল তড়িৎ শক্তিকে সংরক্ষণ করা যাবে।

বজ্রপাতের তাপমাত্রা প্রায় চার হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট। ঘণ্টায় প্রায় দুই লাখ দুই হাজার কিলোমিটার গতিবেগ থাকে। বজ্রপাতের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ১০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এতে ১০ কিলো থেকে এক কোটি পর্যন্ত ভোল্ট থাকে। বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে ৫০ থেকে ১৫০টি বজ্রপাত হয়। পৃথিবীর তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। পৃথিবীর উপরিতলের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এতে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বেড়েছে ৪০ শতাংশ। দেশে বজ্রপাতকে সরকার আমির হোসেনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিটি স্থাপনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করে কাজে লাগাতে পারলে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করে বিদেশে রফতানি করা যাবে ও প্রতি বছর বজ্রপাতে শত শত মানুষ অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে।

আমির হোসেনের এ প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি কাজ করা যায় তাহলে বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ ক্যাপচার করা সম্ভব। তার জন্য যা করতে হবে সারা বাংলাদেশে বিশেষ কিছু জায়গায় ভৌগোলিক অবস্থান ঠিক করে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট সুউচ্চ টাওয়ার বসাতে হবে। এ টাওয়ার তৈরি হবে বিশেষ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ধাতু দিয়ে।

হাই টেকনোলজির কাজ করা থাকবে যখন বজ্রপাতের উৎস শুরু হতে যাচ্ছে ঠিক ওই মুহূর্ত থেকে তড়িৎ শক্তি ট্রান্সমিশনের জন্য ব্যবহৃত হবে সুপার হাই ফ্রিকোয়েন্সি মাইক্রোওয়েভ চুম্বক তরঙ্গের মাধ্যমে টেনে নিয়ে তড়িৎ শক্তি ধারণ করে এর মাধ্যমে বিদ্যুতে পরিণত করা। -নয়া দিগন্ত


ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১৫৮২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন