সর্বশেষ
শুক্রবার ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৫ মে ২০১৮

রাজীবের শেষ লেখা: জ্বলছি নিভে যাব বলে...

শুক্রবার, এপ্রিল ২০, ২০১৮

hhh.jpg
পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

রাজীব চলে গেছে আর ফিরে আসবেনা, সাংবাদিকরা আর আমাদের প্রিয় রাজীবকে নিয়ে আর লিখবেনা, টিভিতে পত্রিকায় আর রাজীবের ইতিহাস তুলে ধরবেনা, সরকারের আর রাজীবের চিকিৎস্যার ব্যয়ভার বহন করতে হবেনা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজীবের ফেসবুক আইডির শেষ লেখাগুলো এ প্রতিনিধিকে দেখাতে দেখাতে  উচ্চস্বরে আবেগ আপ্লুত কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন খালা জাহানারা বেগম।

রাজীব তার জীবন নিয়ে লেখা “জ্বলছি নিভে যাব বলে” গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭:১০ মিনিটের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে এমই একটি পোস্ট দিয়েছিল। হতে পারে এটা তার মায়ের কাছে চলে যাবার জন্যই লেখা। আর সেই লেখার  কয়েক মাস যেতে না যেতেই প্রাণ দিতে হল ঘাতক বাসের চাপায়।  

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা হাইকোর্ট মাঠে  প্রথম জানাজা শেষে রাজিবের মরদেহ পটুয়াখালীর বাউফলে আসলে এলাকাবাসী সহ সর্বস্তরের মানুষ একনজর দেখার জন্য রাজীবের মরদেহের পাশে ভীর জমায়। এ সময় প্রতিবেশীদের কান্নার শব্দে এলাকার আকাশ বাতাস ভাড়ী হয়ে ওঠে। গত বুধবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের সময় বাউফল পাবলিক মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা এবং ১০ টার সময় দাশপাড়া গ্রামে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে ছোট হতে বেড়ে উঠা নানা বাড়ির নানা নানু ও মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

পাবলিক মাঠের জানাজা নামাজে সরকার দলীয় চীফ হুইপ আসম ফিরোজ (এমপি), জেলা প্রশাসক ডা. মাছুমুর রহমান ও পুলিশ সুপার মইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী তিনটি দপ্তর থেকে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা সহযোগীতা দেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। ৩য় জানাজা নামাজে উপস্থিত হয়ে বাউফল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান বাউফল সদরের মূল সড়ক থেকে রাজিবের নানা বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা সড়কটি দ্রুত নির্মান করে শহিদ রাজীব সড়ক নামে নাম করণ সহ একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পিছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন সরকারী তিতুমীর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনরগায়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে  অতিক্রম করে। এসময় দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাতের কনুয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পরে রাজীব। এতে তার প্রচন্ড মাথায় আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে শমরিত হাসপাতালে ও পরে ঢামেক হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার ১০ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্টে ভর্তি করা হয় এবং ১৬ এপ্রিল  সোমবার দিবাগত রাত ১২ টায় হাসপাতালে মারা যায় রাজীব।

মোঃ শফিকুল ইসলাম
বাউফল (পটুয়াখালী)  প্রতিনিধি


ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২০, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৪০১ বার পড়া হয়েছে