সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১লা কার্তিক ১৪২৫ | ১৬ অক্টোবর ২০১৮

মার্কিন সাংবাদিক লিজার সঙ্গে প্রেম করতেন ফিদেল কাস্ত্রো

রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০১৮

chalbazz_1.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ষাটের দশকের গোড়ার দিকে কোনো এক ফেব্রুয়ারি মাসের রাত। হাভানার হোটেল রিভিয়েরার এক সুইটে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছিলেন লিজা হাওয়ার্ড। তরুণী মার্কিন সাংবাদিক। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ মেকআপ মুছে পোশাক পাল্টে শুতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এমন সময় হোটেলের ঘরের দরজায় টোকা। লিজা দেখলেন, যার সাক্ষাৎকার নিতে সুদূর আমেরিকা থেকে তিনি হাভানা এসেছেন, সেই ভদ্রলোক তার সামনে দাঁড়িয়ে। ৩৭ বছরের ফিদেল কাস্ত্রো। কয়েক বছর আগেই বিপ্লব এনে ফিদেল তখন কিউবার শীর্ষ পদে। লিজা সটান বলে বসেছিলেন, ‘আপনি দেশের শাসক হতে পারেন, আমিও গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক। আপনার সাহস হয় কী করে আমায় এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর?’

দু’জনের আলাপ পর্বের শুরুটা এমনই ছিল। সে রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে কথা হয়েছিল ফিদেল আর লিজার। মার্ক্সবাদ থেকে শুরু করে  কিউবায় রাজনৈতিক বন্দিদের অবস্থা, সব নিয়েই। আমেরিকা যতই শত্রু হোক, সুন্দরী ছিপছিপে মার্কিন সাংবাদিকের প্রেমে পড়তে কিন্তু বেশি সময় লাগেনি ফিদেলের। আরও কয়েক বার কিউবা গিয়েছিলেন লিজা। স্বীকার করেছিলেন, তিনিও বিপ্লবী নেতার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংগ্রহশালা থেকে সম্প্রতি লিজার হাতে লেখা কিছু ডায়েরি ও নোট প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকেই সামনে এসেছে ফিদেলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা। তবে এই দু’জনের রসায়ন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আগেও কম চর্চা হয়নি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন লিজা। পরে সংবাদ জগতে আসেন। কেনেডি ও জনসন সরকারের বার্তা ফিদেলের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ছিল লিজার উপর। আবার ফিদেলের বার্তাও হোয়াইট হাউসের কান পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন তিনি। পুরোটাই গোপনে। লিজা লিখেছেন, ‘তার সঙ্গে মেলামেশা করাটা যেন আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মূহূর্ত।’ কখনো বা লিখেছেন, ‘উনি আমায় গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন এক দিন। কিন্তু একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা আমায় প্রায়ই গ্রাস করত। নেতা কাস্ত্রো আর মানুষ কাস্ত্রো সম্পূর্ণ আলাদা বলে মনে হত আমার।’

লিজার কথায়, ‘আমার কাছে উনিই ছিলেন জর্জ বার্নার্ড শ-এর ‘স্পার্ক অব ডিভাইন ফায়ার’। গোটা দুনিয়া যে একনায়কের রূপ ওকে দিয়েছিল, উনি মোটেও তেমন ছিলেন না।’ হাভানার হোটেলেই লিজার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। ফিদেল একবার লিজাকে নিজের কাছে বসিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি আমার জন্য খুব বিপজ্জনক। তোমার মতো একটা মেয়েকে আমি খুব গভীর ভাবে ভালবাসতে পারি।’

শেষ পর্যন্ত কিউবা সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন লেখার অভিযোগে চাকরি যায় লিজার। তবে খুব বেশিদিন বাঁচেনওনি। ১৯৬৫-তে অতিরিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যু তার।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১২৫৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন