সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২২ মে ২০১৮

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু হচ্ছে আজ

সোমবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৮

2_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পুষ্টি উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০১৮। জনগণের খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্য পরিকল্পনায় পুষ্টির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার লক্ষ্যে এবছর পুষ্টি সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবুন’। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবছর পালিত হচ্ছে পুষ্টি সপ্তাহ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৩ এপ্রিল থেক ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই সপ্তাহ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় পুষ্টিনীতি ২০১৫’-কে অনুসরণ করে ‘দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (২০১৬- ২০২৫)’ এ জীবনব্যাপী পন্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে আছে ভ্রূণ অবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর ২৩ মাস বয়স পর্যন্ত শিশু, কিশোরী, গর্ভবতী ও দুগ্ধ-দানকারী মা, বয়স্ক জনগোষ্ঠী, শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।

প্রাক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের অপুষ্টির বিষয়টিও এই জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশের সবচেয়ে দুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ যাদের দারিদ্র্য ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার এবং যারা অতি প্রান্তিক এলাকায় বসবাস করে তাদেরও পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও যক্ষ্মা ও এইচআইভি ও এইডস রোগী এবং অপুষ্টিতে আμান্ত অন্যান্য জনগোষ্ঠীও অগ্রাধিকার পাবে।

২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপুষ্টি হ্রাস করতে ‘জাতীয় পুষ্টিনীতি ২০১৫’ ও অন্যান্য নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুসরণ করে দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনায় (২০১৬-২০২৫) কয়েকটি সূচক ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল নিউট্রিশন সার্ভিসের (এনএনএস) ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, এসব অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এবার ১৯ বছর পর দ্বিতীয়বার ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০১৮’ পালন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৩ এপ্রিল থেক ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের প্রথম দিনে পাশাপাশি মেলা ও র‌্যালির আয়োজন করা হবে। দ্বিতীয় দিনে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, তৃতীয় দিনে ৫ বছরের নিচে সব শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, চতুর্থ দিনে কিশোরী ও স্কুল পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, পঞ্চম দিনে বৃদ্ধদের পুষ্টি, ওয়াটার, স্যানিটেশন ও হাইজিন নিশ্চিতকরণ, ষষ্ঠ দিনে বহুপাক্ষিক অবহিতকরণ ও সমন্বয় এবং সমাপনী দিনে পুষ্টি বিষয়ে রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুষ্টি ক্ষেত্রে বিগত ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে ৫ বছরের নিচের শিশুদের খর্বতা হ্রাস পেয়েছে। শিশুদের জন্য ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইনের সাফল্যের কারণে এখন আর রাতকানা রোগ দৃশ্যমান নয়।

মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ওজন পরিবীবক্ষন ও কাউন্সেলিং-এর জন্য ‘গ্রোথ মনিটরিং এ্যান্ড প্রোমোশন কার্ড’ (জিএমপি) কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। মারাত্মক অপুষ্ট শিশুদের জন্য ২০২টি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘স্যাম’ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিশুদের পুষ্টি সেবার জন্য ৪২৪টি জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘আইএমসিআই ও পুষ্টি কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।

একই সময়ে মহিলাদের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ৪৮ কোটি আয়রন ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। পুষ্টি ও অন্যান্য অনুপুষ্টি বিষয়ে ৩৮ হাজার ৫৪১জন চিকিৎসক ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিমতেলবীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি খাদ্য বিতরণে অনুপুষ্টি সমৃদ্ধ চাল বরাদ্দ করা হচ্ছে।


ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৩১৫ বার পড়া হয়েছে