সর্বশেষ
রবিবার ১৩ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৭ মে ২০১৮

প্রত্যেককেই ইসলামের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়া উচিৎ

প্রসঙ্গ: নববর্ষ

মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৮

31285127_2045359349066200_2008618189860110336_n.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আমি নিজে এবং আমরা প্রায় সকলেই বাণী বিবৃতির মধ্যে আমাদের ঈমান আমলকে দুনিয়াতে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। আখিরাত সম্পর্কে আমরা বড়ই উদাসীন। বেশিরভাগ ভুল কাজ গুলো আমরা জেনে শুনে করে থাকি-এর উল্লেখযোগ্য একটি কারণ, আমাদের ঈমান আমল বড়ই দুর্বল।

ইসলামে হিজরী নববর্ষ পালনের কোনো প্রকার নির্দেশ দেয়া হয়নি। না কোরআনে এর কোনো নির্দেশ এসেছে, না হাদীসে এর প্রতি কোনো উৎসাহ দেয়া হয়েছে, না সাহাবীগণ এরূপ কোনো উৎসব পালন করেছেন। একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। যার সাথে কথা বলে অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয়েছে আপনি টের পাইলে আমি সত্যি দুঃখিত। তবে টের না পাওয়ারই সম্ভবনাই বেশি। যদি টের পেয়েই যান ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি-আপনাকে নিয়ে আমার উদ্দেশ্য খারাপ না।

যাক, বছর দু -এক আগে আমার পরিচিত এক ভদ্রলোকের সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল। সালাম দিয়ে -হাই হেলো বলেই প্রাসঙ্গিক আলোচনা শুরু করতে না করতেই আমার আলোচ্য বিষয়কে ডিঙিয়ে তিনি অন্য এক ভদ্রলোককে নিয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে নেগেটিভ সমালোচনা শুরু করলেন। আলোচনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার মতলবে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কোথায়? বললেন গাড়ি পার্ক করে আছরের নামাজটা পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়েই গাড়িতে যাচ্ছি আর আপনার সাথে কথা বলছি।

আমি মনে মনে বললাম হে আল্লাহ আপনি ঐ ভদ্রলোককে হেদায়েত করুন যিনি সবে মাত্র নামাজ সেরে মসজিদ থেকে বের হয়েছেন। পরনিন্দা পর সমালোচনা উনার মুখে খৈ ফুটানোর মত একটা অবস্থা। ইসলাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান বড়ই সম্যক। যারা ইসলাম নিয়ে যুক্তি তর্ক করে আমি প্রায়ই নীরব থেকে শুনি আর জানার চেষ্টা করি। নিজেরে বড়ই মূর্খ মনে হয়- এত তথ্য ভান্ডার থাকা স্বত্তেও সময় নিয়ে একটু পড়াশুনা করে যথাযত ইসলামিক জ্ঞান আরোহন করছিনা। তবে একে বারে যে জানার চেষ্টা করছিনা তা ঠিক না। বড়ই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি যখন দেখি -পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, ইসলাম নিয়ে বাণী বিবৃতি দেন, হালাল, হারাম, হজ্ব, জাকাত নিয়ে কথা বলেন। এমন ব্যক্তি জেনে শুনে শিরক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

বাংলা নববর্ষ নিয়ে বাঙালিদের বাঙালিয়ানা নতুন কিছু নয়। ইলিশ মাছ শুটকি পান্তা ভাত শুভেচ্ছা বিনিময় রঙিন পাঞ্জাবি শাড়ী পরিধান গান বাজনা থাকডুম থাকডুম ৱ্যালি এ যেন এক বিরাট আয়োজন।

নতুন বছর নতুন কল্যাণ বয়ে আনে, দূরীভূত হয় পুরোনো কষ্ট ও ব্যর্থতার গ্লানি – এ ধরনের কোনো তত্ত্ব ইসলামে আদৌ সমর্থিত নয়, বরং নতুন বছরের সাথে কল্যাণের শুভাগমনের ধারণা আদিযুগের প্রকৃতি-পুজারী মানুষের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণার অবশিষ্টাংশ। ইসলামে এ ধরনের কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। বরং মুসলিমের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই পরম মূল্যবান হীরকখন্ড হয় সে যে মুহূর্তকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে, আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয় করবে, নতুবা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে শাস্তির যোগ্য হয়ে উঠবে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে বছরের প্রথম দিনের কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই। আর তাই তো ইসলামে হিজরী নববর্ষ পালনের কোনো প্রকার নির্দেশ দেয়া হয়নি। না কোরআনে এর কোনো নির্দেশ এসেছে, না হাদীসে এর প্রতি কোনো উৎসাহ দেয়া হয়েছে, না সাহাবীগণ এরূপ কোনো উৎসব পালন করেছেন। এমনকি পয়লা মু্হাররামকে নববর্ষের সূচনা হিসেবে গণনা করা শুরুই হয় নবীজীর (সা.) মৃত্যুর বহু পরে, উমার ইবনুল খাত্তাবের (রা.) আমলে।

এ থেকে বোঝা যায় যে, নববর্ষ ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা তাৎপর্যহীন। এর সাথে জীবনে কল্যাণ-অকল্যাণের গতিপ্রবাহের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই, আর সেক্ষেত্রে বাংলা নববর্ষের কিই বা তাৎপর্য থাকতে পারে ইসলামে?

কেউ যদি এই ধারণা পোষণ করে যে, নববর্ষের প্রারম্ভের সাথে কল্যাণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে, তবে সে শিরকে লিপ্ত হল, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করল। যদি সে মনে করে যে আল্লাহ এই উপলক্ষের দ্বারা মানবজীবনে কল্যাণ বর্ষণ করেন, তবে সে ছোট শিরকে লিপ্ত হল। আর কেউ যদি মনে করে যে নববর্ষের আগমনের এই ক্ষণটি নিজে থেকেই কোনো কল্যাণের অধিকারী, তবে সে বড় শিরকে লিপ্ত হল, যা তাকে ইসলামের গন্ডীর বাইরে নিয়ে গেল। আর এই শিরক এমন অপরাধ যে, শিরকের ওপর কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে চিরতরে হারাম করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন:

“নিশ্চয়ই যে কেউই আল্লাহর অংশীদার স্থির করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন, আর তার বাসস্থান হবে অগ্নি। এবং যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (কুর’আন, ৫:৭২)

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সাথে মঙ্গলময়তার এই ধারণার সম্পর্ক রয়েছে বলে কোনো কোনো সূত্রে দাবি করা হয় ,যা কিনা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। মুসলিমদেরকে এ ধরনের কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলে ইসলামের যা মূলতত্ত্ব: সেই তাওহীদ বা একত্ববাদের ওপর পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

নজরুল ইসলাম
ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস লন্ডন,
মেম্বার, দি ন্যাশনাল অটিষ্টিক সোসাইটি ইউনাইটেড কিংডম
আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।
trade.zoon@yahoo.com


ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে