সর্বশেষ
শনিবার ৬ই শ্রাবণ ১৪২৫ | ২১ জুলাই ২০১৮

জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বুধবার, মে ১৬, ২০১৮

61EDg1EZJaL._SL1296__2.jpg
রাজশাহী ব্যুরো :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বুধবার সকালে ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারগণের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই, আমাদের দেশের জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছে এবং এই লক্ষ্যে আমরা একটি চৌকষ, পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী একাডেমির অতিথি ভবন অরুনিমায় পৌঁছলে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নাজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদকও বিতরণ করেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্য বৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তবৃন্দ, উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী নতুন কর্মক্ষেত্রে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে উন্নয়নকে টেকসই করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, বাংলাদেশ পুলিশের নবীন কর্মকর্তাগণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণলদ্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরও তৎপর বিশেষ করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরো দক্ষ হবার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

১ জন মহিলাসহ মোট ১২৩ জন এএসপি এ কোর্স উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে মাহবুল হাসান ‘বেস্ট প্রবিশনার’, আসমা আক্তার সোনিয়া ‘বেস্ট একাডেমিক এ্যাওয়ার্ড’ ও সালমান ফার্সি ‘বেস্ট হর্সম্যানশীপ এ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। শিক্ষানবিস এএসপি সাইফুল ইসলাম রানা কুজকাওযাজ কমান্ডার ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের প্রত্যেক পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে দেশর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশের আধুনিকায়নে ৫০ হাজার জনবল সৃজনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে ইতোমধ্যে ৪৬ হাজার পদ সৃজন করা হয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন ইউনিট গঠন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে রংপুর আরআরএফ, ময়মনসিংহ রেঞ্জ, নারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ১২ আমর্ড পুলিশে ব্যাটলিয়ন গঠনসহ নতুন নতুন থানা, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইউনিট এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে অ্যান্টি টেরিরেজম ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট যেমন- পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং দুটি স্পেশাল সিকিউরিট অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়েছে। পুলিশের সেবা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ডিবি পুলিশ হেল্প লাইন ও অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে।'


ঢাকা, বুধবার, মে ১৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৬১০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন