সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ | ২৪ মে ২০১৮

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে রেনু পোনা ধরার উৎসব

বৃহস্পতিবার, মে ১৭, ২০১৮

93f1efb982150ce0da5cbc5e140b36b9.jpg
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে অবাধে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ি ধরা ও বিক্রির মহাউৎসব। এতে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে মেঘনায় দিন দিন অস্থিত্বের সংকটে পড়েছে গলদা-বাগদা, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতের মাছের পোনা। এতে করে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র।

জেলেরা প্রকাশ্যে গলদা-বাগদা চিংড়ি পোনা আহরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুর সদরের বুড়ির ঘাট এলাকা থেকে কমলনগরে মতিরহাট, সাহেবের হাট, লুধুয়া ঘাট এলাকাসহ ও রায়পুরের পানিরঘাট, হাজীমারা, পুরানবেড়ি, মেঘনা বাজার, টুনুরচর, মিয়ারবাজার, মেঘনাবাজার, রামগতি উপজেলার চরগজারিয়ায় উচখালী, মেঘনার চররমনীমহন, নদীর বিস্তৃর্ন এলাকা জুড়ে এভাবেই চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ি পোনা ধরার মহাউৎসব। এ পোনা অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় তা ধরতে যে জাল ব্যবহার করা হয় তাতে ধ্বংস হয় বিভিন্ন প্রজাতের পোনাও।

এ জন্য নদীতে চিংড়ি পোনা শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার। তবে সে নিষেধাজ্ঞা মানছে না জেলেরা। বাজারে প্রতিটি গলদা-বাগদা চিংড়ি পোনা বিক্রি হয় ১/২ টাকা করে। এক এক জেলে প্রতিদিন বিক্রি করছে ৩শ’ থেকে ৪শ’ পোনা। মহাজনরা অগ্রিম ঋন দেয়ায় পোনা শিকারে উৎসাহী হয়ে উঠছে জেলেরা। পোনা বিক্রয়ে স্থানীয় কথিত রাজনৈতিক নেতা ও কতিপয় অসৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজসের সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, নদীতে চিংড়ি রেনু পোনা শিকার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা এ চিংড়ি ধরতে গিয়ে হাজারো প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পোনা নিধন করছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে মেঘনায় দিন দিন অস্থিত্বের সংকটে পড়েছে গলদা-বাগদা, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতের মাছের পোনা।

রেনু পোনা শিকারীরা জানান, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় নিষেধাজ্ঞা সত্বেও পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রেনু পোনা শিকার করতে হচ্ছে। বছরের এ সময়ে তারা সরকারীভাবে বিজিএফ দেয়ার দাবী করেন।

রেনু ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেদেরে কাছ থেকে তারা এক টাকা ধরে রেনু পোনা কিনে খুলনা, আলায়পুর ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন জেলার গলদা ও বাগদা চিংড়ির ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, পোনা নিধন ও বিক্রয়ে সরকারী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের উপকুলীয় এলাকায় মাছের পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অনেক সময় আমরা সঠিক সময়ে পুলিশের সহযোগীতা পাইনা। তিনি পোনা নিধন ও বিক্রয় থেকে দূরে থাকতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অবাধে গলদা পোনা ধরার কথা স্বীকার করে বলেন, মেঘনার অভয়াশ্রমে চিংড়ি পোনা শিকারিদের নিভৃত করার জন্য ঝটিকা অভিযান-সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এসব রেনু পোনা রক্ষায় মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারী জোরদার করা হলে নদী ও সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে তেমনি গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি।


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মে ১৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ২৭৩ বার পড়া হয়েছে