সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সেই রাজকীয় বিয়ে

শনিবার, মে ১৯, ২০১৮

93f1efb982150ce0da5cbc5e140b36b9.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সেই মহা প্রতীক্ষার বিয়ে। হ্যারি এবং মেগানের চার হাত এক হবে। বিয়ের আসর বসছে উইন্ডসর প্রাসাদের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে। তা নিয়ে ব্রিটেনজুড়ে উন্মাদনা চলছে।

সকল প্রস্তুতি শেষের দিকে। এরই মধ্যে একটা ছোট্ট সমস্যা তৈরি হয়েছিল। রাজকীয় বিয়র রীতি অনুযায়ী বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের পাশে হেঁটে আসেন তার বাবা। সেই মতো ব্রিটেনের যুবরাজ প্রিন্স চার্লস এবং মেগান মার্কেলের বিয়েতে মেয়ের পাশে হেঁটে অনুষ্ঠানে ঢোকার কথা ছিল বাবা টমাস মার্কেলের। কিন্তু শারীরিক কারণের জন্য এই বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। শেষ মুহূর্তে তবে কে হাঁটবে মেগান মার্কেলের পাশে?

তুঙ্গে ওঠে জল্পনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন খোদ কনে। সোজা চলে যান হবু শ্বশুরের কাছে। বিয়ের দিন তার পাশে হাঁটার জন্য যুবরাজ চার্লসকে অনুরোধ করেন। মেগানের সেই অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন যুবরাজ চার্লসও। শুক্রবার কেনসিংটন প্রাসাদ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। তাই এ বিয়েতে এ ধরনের ঘটনা প্রথম ঘটছে।

উইন্ডসর প্রাসাদে হ্যারি ও মেগান মার্কেলের বিয়েতে সাবেক মার্কিন অভিনেত্রীর বাবা টমাস মার্কেল উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বাবার অনুপস্থিতির কথা ঘোষণা করেন মেগান নিজেই। জানান, শারীরিক অসুস্থতার জন্য এই বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না টমাস। এখন তার বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন।

এদিন রাজপরিবারের তরফে এই ঘোষণার আগে মনে করা হচ্ছিল, বিয়ের দিন গাড়ি থেকে নেমে চ্যাপেলে ঢোকার সময় মেগান মার্কেলের পাশে হয়তো তার মা ডোরিয়া রাডলান হাঁটবেন। তবে রাজপরিবারের ভাবী পুত্রবধূ পাশে কাকে নিয়ে হাঁটবেন, তা নিয়ে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই বলে জানা গেছে।

আফ্রিকান-আমেরিকান ডোরিয়া রোডলান পেশায় একজন যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক ও সমাজকর্মী। মেগান যখন খুবই ছোট, তখনই থমাসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার। মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে গত সপ্তাহেই লন্ডনে উড়ে এসেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই যুবরাজ চার্লস ও ক্যামেলিয়া এবং যুবরাজ উইলিয়াম ও কেটের সঙ্গে ক্ল্যারেন্স হাউজে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। দেখা হয়েছে খুদে জর্জ ও শার্লটের সঙ্গেও। শুক্রবার উইন্ডসর প্রাসাদে ডোরিয়ার সঙ্গে দেখা হবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে।

বিয়ের পর জুড়িগাড়িতে করে ওয়েস্টমিনিস্টার থেকে উইন্ডসর ক্যাসেলে ফিরবেন নবদম্পতি। দুটি সাদা ঘোড়া সেই গাড়িটিকে টানবে। দিনটি রৌদ্রজ্জল থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই হুটখোলা জুড়িগাড়িতে বসে অভ্যাগতদের অভিনন্দন গ্রহণ করতে পারবেন তারা। এই বিয়েতে গান গাইবার কথা রয়েছে কিংবদন্তী সংগীত শিল্পি ও হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়নার বন্ধু এলটন জন। প্রিন্সেস ডায়নার শেষকৃত্যেও ‘ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড’ শিরোনামের গান গেয়েছিলেন তিনি।

এই বিয়েটি যে বেশ ব্যায়বহুল হতে যাচ্ছে তা বলাই যায়। শুধু নিরাপত্তার পেছনেই ব্যায় হবে ৩ কোটি পাউন্ড। যেই ব্যয় পুরোপুরি নির্বাহ হবে জনগনের করের টাকায়। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান বাবদ ঠিক কতো খরচ হবে কেনসিংটন প্যালেস থেকে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

যুক্তরাজ্যে ব্রাইডবুক নামে একটি ওয়েবসাইটের হিসেব হচ্ছে- বিয়েতে খরচ হতে পারে প্রায় সোয়া তিন কোটি পাউন্ড, নিরাপত্তার খরচসহ। তারা বলছে, কেকের পেছনে খরচ হবে ৫০ হাজার, ফুলের পেছনে এক লাখ ১০ হাজার, খাওয়া দাওয়া বাবদ প্রায় তিন লাখ পাউন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। এই হিসেবে কীভাবে করা হলো জানতে চাইলে কোম্পানিটির প্রধান বলেছেন, বিয়ে উপলক্ষে রাজপরিবার যেসব জিনিস কেনাকাটা করেছে, সেগুলোর বাজারদর ধরে এই অর্থ হিসেব করা হয়েছে। তাতে খরচ দাঁড়িয়েছে সোয়া তিন কোটি পাউন্ড।


ঢাকা, শনিবার, মে ১৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৬৮০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন