সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়ি

মঙ্গলবার, মে ২২, ২০১৮

7.JPG ছবি উৎস : বিডিলাইভ২৪
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে দিনে দিনে জীর্ণ-শীর্ন টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়িগুলো।

প্রায় ২০০ বছর পূর্বে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার অলোয়া ভবানীতে সচী নাথ রায় চৌধুরী ১৩২শতাংশ ভূমির উপরে অলোয়া জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫০ সালে সচী রায় চৌধুরীর সর্বশেষ উত্তরাধিকার কনক লতা রায় চৌধুরী জমিদার প্রথা উচ্ছেদ হলে সপরিবারে ভারত চলে যান।

এরপর দীর্ঘ দিন এই জমিদারি বেহাত থাকার পর ১৯৮০ সালে সরকার এর দখল নিয়ে দেওজান ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠা করেন। একটি মাত্র কক্ষে সরকারি কার্যক্রম চলে। বিশাল ভবনের অন্যান্য কক্ষগুলো ব্যবহৃত না হওয়ায় ধ্বংশের পথে বাকি কক্ষগুলো। তবে জেলা প্রশাসক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

ব্যাপক পর্যটনের সম্ভবনা থাকা সত্ত্বেও কেবল মাত্র সরকারি উদ্যোগের অভাবে ধ্বংস হতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের অলোয়া ভবানীর জমিদার বাড়িটি। স্থানীয় জনগণ সরকারের কাছে জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

                       

অপরদিকে পৌর এলাকার সন্তোষে পাচঁআনি ও ছয়আনি জমিদার বাড়ি অবস্থিত। প্রায় ২০০ বছর পূর্বে মন্মথ রায় চৌধুরী সন্তোষ জমিদার বাড়ির গোড়া পত্তন করে। সর্বশেষ জমিদার গোলক নাথ চৌধুরী ১৯৫০ সালে জমিদার প্রথা উচ্ছেদের ফলে সপরিবারে ভারত চলে যান।

১৯৯৯ সালে সরকার সন্তোষ জমিদার বাড়িতে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য অধিকাংশ জমিদার বাড়ি ভেঙ্গে ফেলতে হয়। শুধু মাত্র স্থানীয় সন্তোষ ছয়আনি জমিদার বাড়িটি নন্দ গোবিন্দ গোপাল ও শিব মন্দির কমিটি আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে গোপাল ও শিব মন্দিরটি তাদের দখলে রাখে। বাংলা ১৩১১ বঙ্গাব্দে জমিদার কুমার হেমেন্দ্র নাথ রায় চৌধুরী এই মন্দির দুটি স্থাপন করেন।

বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলায় প্রাচীন গোপাল মন্দিরটি পরিত্যাক্ত হয়ে গেছে। শিব মন্দিরের বিভিন্ন কারুকার্য খসে পড়েছে। এই মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি গৌতম কুমার দেব প্রাচীন এই মন্দির দুটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রফেসর মোহাম্মদ হোসেনও এই দাবির সাথে একাগ্রতা পোষণ করেছেন।

টাঙ্গাইল থেকে,
মুক্তার হাসান


ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৯৫৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন