সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৩রা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'ই-ব্যাংকিংয়ের মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে চাই'

শনিবার, মে ২৬, ২০১৮

5.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

একটি সরকারি ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন মুস্তাফিজ মুনীর। এছাড়াও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট(বিম), সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, আশা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বিটিভিতে সাংবাদিকতা দিয়ে। পাঁচ বছর লন্ডনে পড়ালেখা শেষে ফিরে এসে কাজ উচ্চপদে করছেন একটি অন্যতম সরকারি ব্যাংকে।

অর্থনীতি বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে, লন্ডন থেকে এমবিএ (মানব সম্পদ উন্নয়ন) এবং এমএসসি (আর্থিক ব্যবস্থাপনা) করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছেন ই-ব্যাংকিং সেবা নিয়ে। ই-ব্যাংকিং নিয়ে গবেষণার দিক থেকে তিনি বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি।

বাংলাদেশে ই-ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন বিষয় এবং নিজের সম্পর্কে বিডিলাইভের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যদি শুরুটা করি।
মুস্তাফিজ মুনীর: বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে আমি ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, সন্দ্বীপ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, দিনাজপুরের স্কুলে পড়ি। পরে ঢাকা কলেজ থেকে পাশ করে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করে ঢাকায় এসে কয়েক বছর কাজ করি।

তারপর এমবিএ করতে লন্ডনে যাই। তার মাঝে আইটিতে ডিপ্লোমা করি, এরপরে এমএসসি করি। ২০০৭ এ দেশে ফিরে এসে আবার কাজ শুরু করি। ২০১০ এ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগে পিএইচডিতে ভর্তি হই। এটা চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিচার্স মেথডলজি নিয়ে একটা কোর্সও সম্পন্ন করি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইকনমিক্সে ই-ব্যাংকিং বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে যাচ্ছেন কেমন লাগছে?
মুস্তাফিজ মুনীর: ভাল। এ বিষয়টি সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যিালয়ের অর্থনীতি বিভাগ আমাকে এ গবেষণার অনুমতি দেয়। আমার সুপারভাইজারেরা আমাকে সাহায্য করেছেন কাজটা সম্পন্ন করার জন্য। আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় এটি অনুমোদন হবে আশা করি। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: আসলে ই-ব্যাংকিং সেবা বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন?
মুস্তাফিজ মুনীর: আসলে ব্যাংকের সেবা প্রযুক্তির মাধ্যমে দেয়াটাকে ই-ব্যাংকিং সেবা বলা যায়। এখন আমাদের এখানে অনেক সমস্যা আছে। যেমন ধরেন আমি ব্যাংকে গিয়েছি একটা একাউন্ট খুলতে আমাকে একতা ফর্ম দেয়া হল এটা আমি পূরণ করে আরো কিছু দরকারী কাগজ দেবার পরে ব্যাংক যাচাই করে আমাকে তাদের গ্রাহক করে নেবে। এই তো বিষয়? এখানে সমস্যাটা বলি, সেই বড় ফর্ম দেখে গ্রাহক ব্যাংকে নাও আসতে পারেন, এটা পূরণ করার পরে ব্যাংকার এটাকে আবার কম্পিউটরে এন্ট্রি করে, তারপরে একটা একাউন্ট খোলা যায় বা যাবে না। আবার এত বড় ফর্মকে প্রিন্ট/ছাপাতে করতে ব্যাঙ্কের খরচ হয়। এখানে সময় ২ বার নষ্ট হয়। একবার লিখতে হচ্ছে সেটা আবার এন্ট্রি দিয়ে হচ্ছে। যদি এটাকে আপনি একবারে কম্পিউটরে এন্ট্রির ব্যবস্থা করেন, তারপরে ২ কপি প্রিন্ট করে গ্রাহকের দস্তখত নিয়ে একটা ব্যাংক রেখে দেবে আর এক কপি গ্রাহক নিয়ে যাবেন, এটা এক ধরনের ই-ব্যাংকিং সেবা হতে পারে। আবার ওয়েব সাইটে থাকবে সেখান থেকে গ্রাহক পূরণ করে জমা দিতে পারে ব্যাংকে। তাহলে গ্রাহককে একবার ফর্ম আনতে আর একবার ফর্ম জমা দিয়ে যেতে হবে না। দু’পক্ষের সময় ও খরচ বেঁচে যাবে। এরকম অনেক বিষয় আছে।

প্রশ্ন: কেন এটাকে গবেষণার জন্য বেছে নিলেন?
মুস্তাফিজ মুনীর: লন্ডনে গিয়ে ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টে এমএসসি করি ইনিভার্সিটি অব ইষ্ট লন্ডন থেকে এবং সেসময় এ বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হই। আমি ফ্রান্স, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ইতালী, সুইজ্যারল্যান্ডে, ইন্ডিয়াসহ কিছু দেশে ভ্রমণ করি। তাদের ব্যাংকিং সিস্টেম দেখে, তাদের সেবার মান দেখে এ বিষয়টি নিয়ে পড়ালেখা করি এবং পরে পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নিই।

প্রশ্ন: ব্যাংকে কাজ করে সময় কিভাবে পেলেন? কারা আপনাকে সাহায্য করেছে?
মুস্তাফিজ মুনীর: ২৪ ঘণ্টা কিন্তু অনেক সময় আপনি চাইলে এটাকে ব্যবহার করতে পারেন। এটা আপনাকে বের করে নিতে হবে কিভাবে কাজটা করবেন। আমার পরিবার, আমার শিক্ষক, আমার অফিসের সহকর্মী অনেক অনেক সহযোগিতার হাত না বাড়ালে আমি হয়তো এ কাজটা করতে পারতাম না।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ই-ব্যাংকিংয়ের অবস্থান কেমন?
মুস্তাফিজ মুনীর: বাংলাদেশে প্রচলিত ই-ব্যাংকিয়ের সেবার মান অনেক নিচে। আমি গবেষণা করার জন্য আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি শহরে/গ্রামে গিয়ে দেখেছি অনেকেই জানেই না ই-ব্যাংকিং সেবা কি? সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবার উচিত এটাকে নার্সিং করা।
বিশ্বাস স্থাপন একটা বড় ভূমিকা রাখে এই সেবার জন্য। আমাদের দেশে ব্যাংকের সেবার মান বৃদ্ধির চাইতে মুনাফা বৃদ্ধির দিকে মনযোগ বেশি। আইটিখাতে আমাদের দেশে বাজেটও কম বরাদ্ধ থাকে। তবে ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে তাদের বাজেট আরেকটু বাড়ালে এবং অবাকাঠামোগত কিছু উন্নয়ণ করলে এক্ষেত্রে অনেক ভালো করা সম্ভব। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা অনেক ব্যাংক এখন চালু করতে পারেনি। আমরা এখনো শিশু বলা যায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ই-ব্যাংকিং এর সুবিধা এবং অসুবিধা কি?
মুস্তাফিজ মুনীর: সুবিধাগুলো হলো, আপনাকে ব্যাংকে যেতে হবে না, লাইনে দাঁড়াতে হবে না, উনি নেই আজ না কাল আসেন, এই ধরনের কথা শুনতে হবে না আবার খুব দ্রুত কাজ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা যায়। এত অল্প পরিসরে বলা মুশকিল। অসুবিধা, সার্ভার ডাউন থাকে, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন নেই, আমাদের শিখতে না চাওয়ার মন মানসিকতা ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশের ইন্টারনেটের গতিও ই-ব্যাংকিং ভালোভাবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্তরায়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও উন্নতি দরকার। অনেক গ্রাহক ই-ব্যাংকিং সম্পর্কে জানে না অনেক কিছুই। মানসিকতা ও সচেতনতাও অনেকাংশে অন্তরায়। আমাদের দেশে ২০১০ সালে ই-ব্যাংকিং সুবিধা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাংলাদেশে ই-ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রটি এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়। লিগ্যাল রিস্ক, অপারেশনাল রিস্ক, অবকাঠামোগত ঝুঁকি, এছাড়াও আরো কিছু ঝুঁকি আছে এখানে।

প্রশ্ন: ই-ব্যাংকিং সিস্টেমকে দেশে আরও জনপ্রিয় করতে কি করতে হবে?
মুস্তাফিজ মুনীর: আমাদের ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে আরো মানসিকভাবে আধুনিক হতে হবে। পলিসিগত দিক দিয়ে এবং অবকাঠামোগত যেসব দুর্বলতা আছে তা ঠিক করতে হবে। এছাড়া আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ ব্যাংকমুখী হতে চায় না। তাদেরকে সচেতন করে তুলতে হবে। বিশেষ করে মহিলারা। সেবার মান বাড়াতে হবে। ই-ব্যাংকিং সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে সেবার মান বাড়াতে হবে। কার্যকর সেবা দিতে হবে। 'ইথিক্স ইন ই-ব্যাংকিং' নিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রশ্ন: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মুস্তাফিজ মুনীর: আমার কিছু গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এক সময় দেশের পত্রিকাতে লেখালেখি করেছি। সামনে আরো কিছু লেখার কাজ শুরু করতে চাই। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আরো পড়াশুনা করতে চাই। ডেটা প্রোটেকশন নিয়ে ভাবছি কিছু করা যায় কিনা। বিহেবিরিয়াল অর্থনীতি নিয়ে আরো পড়তে চাই। সেবার মান নিয়ে কাজ করতে চাই। ‘ই-ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে ২০১১ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর উপযোগী করে নতুন একটি বই তৈরির কাজ করছি। কেউ গবেষণার পরামর্শ নিতে চাইলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। গ্রাহককে সচেতন করার জন্য বা সেবার মান বাড়ানোর জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হলে আমি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব।

আমার কনসেপ্ট নিয়ে, আমার অর্থায়নে আমি আমার বন্ধু পরিচালক পাভেল একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মান করছি। সব ঠিক থাকলে এ বছর জুন/জুলাই মাসে রিলিজ দেব। এখন এডিটিং এর কাজ চলছে। সবাইকে দেখার আমন্ত্রন জানাই।

ধন্যবাদ বিডিলাইভকে সময় দেয়ার জন্য।
আপনাকে এবং বিডিলাইভকেও ধন্যবাদ।


ঢাকা, শনিবার, মে ২৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ১২৫৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন