সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৫ নভেম্বর ২০১৮

তিন মামলায় খালেদার জামিন আবেদনে আদেশ সোমবার

রবিবার, মে ২৭, ২০১৮

6_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে করা দুটি এবং নড়াইলের মানহানির অপর একটিসহ মোট তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এর ওপর আগামীকাল (সোমবার) আদেশ দেবেন আদালত।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালত বলেছিলেন, রোববার শুনানি করে তিন মামলায় এক সঙ্গে আদেশ দেব। ২২, ২৩ ও ২৪ মে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন করেন।

কুমিল্লায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা:
২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও আশপাশের বেশকিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়।

মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ আমলে নেন আদালত। পরে গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত আবেদনটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখেন। এ অবস্থায় শুনানি না করে এই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়েছে।

এ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদনে ১৩টির মতো যুক্তি দেখিয়েছেন তার আইনজীবীরা। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তি হলো- মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) খালেদা জিয়ার নাম নেই। ঘটনাস্থলেও তিনি ছিলেন না। তিনি অসুস্থ। অন্য মামলায় জামিনে আছেন। তিনি বয়স্ক। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, হয়রানি করার করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন, তাই খালেদা জিয়াও জামিন পাওয়ার যোগ্য।

কুমিল্লায় হত্যা মামলা:
২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে প্রেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে সাত যাত্রী মারা যান। ২৫-২৬ জন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পরের দিন (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচারকালে দায়রা আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য রাখা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ মামলায় জামিন আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে- মামলার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউ জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। এছাড়া খালেদা জিয়া অসুস্থ ও বয়স্ক। তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় হাইকোর্টে তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

নড়াইলে মানহানির মামলা:
২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করা হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রায়হান ফারুকি ইমাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে- দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ এর অধীনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। কিন্তু এই তিন ধারার মামলা জামিনযোগ্য। তাছাড়া খালেদা জিয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্ক। সূত্র: রাইজিং বিডি


ঢাকা, রবিবার, মে ২৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৬১৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন