সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই ভাদ্র ১৪২৫ | ২১ আগস্ট ২০১৮

মির্জাপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধে ইউএনও'র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সোমবার, জুন ৪, ২০১৮

c77dba70a6c6e14cb9870095e28a52c5_3.jpg
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

মির্জাপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন। “বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করি, সুখী জীবন গড়ি, বিয়ের আইনানুগ বয়স: পুরুষ-২১, মেয়ে-১৮ বছর নির্ধারণ করে বাল্য বিবাহকে না বলুন, আপনার সন্তানকে মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিন এই শ্লোগান সম্বলিত স্টিকার বিভিন্ন যানবাহনে নিজ হাতে লাগিয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের কার্যক্রম চালিয়েছেন। ইউএনও ইসরাত সাদমীনের নেতৃত্বে বাল্য বিবাহ বন্ধে মির্জাপুরে একের পর এক চলছে নানা সচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ড।

আজ রোববার সকাল থেকে মির্জাপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিনি বাল্যবিয়ে বন্ধে তার অফিস সহকারিদের নিয়ে সিএনজি চালিত অটো রিক্সা ইজিবাইকসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চালাচলরত যানবাহনে বাল্যবিয়ে বিরোধী সচেতনামূলক এই স্টিকার লাগানো শুরু করেছেন। এ সময় ওইসব যানবাহনের চালক, হেলপার ও যাত্রীদের সঙ্গেও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের নানা বিষয় নিয়ে সচেতনামূলক আলোচনা করেন।

এছাড়া তিনি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া শিবনাথ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে কিশোরী ক্লাবের উদ্যোগে বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং সম্পর্কে সচেতনামূলক সভা করেন। পরে তিনি কিশোরী ক্লাবের দক্ষ সদস্যদের মাঝে ছাতা ও মগ বিতরণ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ইউএনও ইসরাত সাদমীন গত ১৭ মাস আগে মির্জাপুরে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি তার প্রচেষ্টায় মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সচেতন করে তুলেছেন। গত ১৭ মাসে তিনি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত বাল্য বিয়ে রোধ করেছেন।

এছাড়া তার উদ্যোগে উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সচেতনতামূলক সভা, কাজী ও পুরোহিতদের নিয়ে কর্মশালা, উদ্বুদ্ধকরণ সভা, কিশোরী ক্লাব গঠন, ছাত্রীদের নিয়ে ফুটবল খেলা, লিফলেট বিতরণ, কুংফু ক্যারাতে প্রশিক্ষণ ও মাইকিং করাসহ তার গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ-মুক্ত উপজেলা করতেই তার এই প্রচেষ্টা বলে ইউএনও ইসরাত সাদমীন জানিয়েছেন।

মির্জাপুর সদরের সওদাগড়পাড়া এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী পলি আক্তারের সাথে বিয়ে হচ্ছিল ফরহাদ মিয়া নামে এক যুবকের। ইউএনও খবর পেয়ে ওই বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অবহিত করলে ওই মেয়ে বিয়েতে অনিহা প্রকাশ করে।

ইউএনও ইসরাত সাদমীন বলেন, প্রত্যেক শিশুর একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ রয়েছে। পরিবারের পাশাপাশি তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সকলের। একটি কন্যাশিশুর জীবন বাল্যবিয়ের মাধ্যমে শেষ হবে তা মেনে নেয়া যায় না। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মা জন্ম দিতে পারেন সুস্থ সুন্দর সবল শিশু। যে শিশু হবে উন্নত বাংলাদেশের সুনাগরিক।

মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউএনও ইসরাত সাদমীনের সোয়া এক বছরের কর্মকালে সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ জেনে গেছে যেখানেই বাল্য বিয়ে সেখানেই এই নীতিবান কর্মকর্তার কঠোর হস্তক্ষেপ।

ইউএনও ইসরাত সাদমীনের উদ্যোগে হস্তক্ষেপে মির্জাপুরের অধিকাংশ জনগণ বাল্যবিয়ে সম্পর্কে এখন অনেক বেশি সচেতন বলে তিনি উল্লেখ করেন।


ঢাকা, সোমবার, জুন ৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন