সর্বশেষ
শনিবার ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৭ নভেম্বর ২০১৮

স্থানীয়দের ধারণা, এই দীঘিতে কোন ‘দানব’ আছে

দীঘিতে চার শিশু নিহত

বুধবার, জুন ৬, ২০১৮

dscn-5b16bcae723a4.jpg ছবি উৎস : প্রতীকী ছবি
বিডিলাইভ ডেস্ক :

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার বৈষ্টব বাড়ির দীঘিতে চার শিশু নিহতের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতে কাউকে দীঘিতে না নামার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিযুক্ত করা হয়েছে আনসার সদস্যদের। সতর্কবার্তা সম্বলিত ব্যানার সাঁটানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ পদক্ষেপ গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৪টা থেকে ওই দিঘিতে অস্বাভাবিক ঘটনা দেখতে পায় এলাকাবাসী। দীঘির পাড় থেকে ২০-২৫ ফুট দূরে কিছুক্ষণ পরপর ৮-১০ ফুট জায়গায় অনবরত প্রথমে পানিতে বুদ বুদ সৃষ্টি হচ্ছে। এরপর সেখানে ঘূর্ণিপাক দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ধারণা, এই দীঘিতে কোন ‘দানব’ আছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ দিঘির পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন।

পরে সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী, হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই দীঘিটির পানি সম্পর্ণূভাবে সাধারণ মানুষের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং যানমালের নিরাপত্তার জন্য পুকুরের পাড়ে আনছার মোতায়েন করা হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দা হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সি মোহাম্মদ মনির বলেন, দীঘির পানির আচরণ অস্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। এ কারণে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে নানা কুসংস্কারমূলক গুজব।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, বিকেল থেকে দীঘিতে কিছু ঘূর্ণি দেখছিল স্থানীয় লোকজন। পরে আমাদেরকে বিষয়টি জানানো হলে আমরা ওই এলাকা ভিজিট করি।

তিনি বলেন, খালি চোখে আপাতত সন্দেহ দীঘির তলদেশ থেকে গ্যাস লিক হচ্ছে। এ কারণে এ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। জনস্বার্থে আমরা আজ রাতের জন্য যাতে কেউ পুকুরে না নামে এবং পুকুরের পানি যেন কেউ ব্যবহার না করে সেই নির্দেশনা দিয়েছি। তাছাড়া ওই এলাকায় সন্ধ্যা থেকে আনসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অন্যান্য দিনের মতো বৈষ্টব বাড়ির দিঘীতে এক সঙ্গে গোসল করতে নামে ওই বাড়ির ওয়াসিমের দুই ছেলে রাহুল (১১) ও শামীম (১০), একই বাড়ির আহসানের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রায়হান (১০), নজরুলের ছেলে লিয়ন (৯)। তারপর আর উঠে আসেনি তারা। পরে অনেক খোঁজাখুজি করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে মঙ্গলবার সকালে তাদের মৃতদেহ পানিতে ভেসে উঠে। -সমকাল


ঢাকা, বুধবার, জুন ৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১১৫৭০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন