সর্বশেষ
শনিবার ৫ই কার্তিক ১৪২৫ | ২০ অক্টোবর ২০১৮

বাল্যবিয়ের শিকার পিয়ারী ২ যুগ ধরে শিকলে বাঁধা

সোমবার, জুন ১১, ২০১৮

7eab661ad89a8ecbc99670dbf67edf72-57ed082522049_4.jpg
সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে :

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ২ যুগ ধরে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন পিয়ারী খাতুন। উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের জন্তিহার গ্রামের মৃত নওসের আলীর বড় মেয়ে পিয়ারী খাতুন (৪৫)। পৈতৃক বসতঘরের সঙ্গে লাগানো ছোট্ট একটি ঝুপরি ঘরে শিকলে বাধা পিয়ারী খাতুনের জীবন।

৩০ বছর আগে সুস্থ, সুন্দর এক জীবন ছিলো পিয়ারী খাতুনের। কিশোরী বয়সে বাবা নওসের আলী গ্রামের যুবক সোনাউল্লার সাথে বিয়ে দেন মেয়ে পিয়ারী খাতুনের।

পিয়ারীর বড় ভাই আব্দুল খালেক জানান, একদিকে কিশোরী বয়সে বয়সন্ধিকালের ঝামেলা অন্যদিকে স্বামীর সংসারের উৎপাতে মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকে মেয়েটি। পরবর্তীতে মানসিক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে অস্বীকৃতি জানায় সোনাবুল্লাহ। ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ।

বিচ্ছেদের এ ধাক্কা সামলাতে না পেরে মেয়েটি পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। দরিদ্রতার কারণে বাবা-মা করাতে পারেননি উন্নত চিকিৎসা। মানসিক অসুস্থতার কারণে দুরদুরান্তে ছুটে চলে যেত মেয়ে। কোথায় চলে যেত হদিস পাওয়া খুব কঠিন ছিল। এজন্য মেয়েকে বাঁচাতে করেন শিকল বন্দী। পরে বাবা-মা মারা গেলেও ২ যুগ ধরে সেই শিকলে বাধা জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন পিয়ারী খাতুন। কেউ কাছে গেলে কামরে ধরে কান্না-কাটি করে সে। তাই দুর থেকে থালায় করে খাবার দেয়া হয় তাকে। হয়তো বা কোনো মানসিক হাসপাতালে রেখে উন্নত চিকিৎসা দিলে সমাজের আরো দশজন মানুষের মতো সুস্থ-সুন্দর জীবন ফিরে পেতে পারে পিয়ারী।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, শিকলে বাঁধা পিয়ারীর কথা তিনি এই প্রথম জানলেন। পিয়ারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর উদ্দ্যোগ নেয়া হবে দ্রুত।


ঢাকা, সোমবার, জুন ১১, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৭৭১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন