সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৫ই আষাঢ় ১৪২৫ | ১৯ জুন ২০১৮

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

মঙ্গলবার, জুন ১২, ২০১৮

c77dba70a6c6e14cb9870095e28a52c5_1.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত পবিত্র শবে কদর তথা মহিমান্বিত রজনী। যাকে আমরা লাইলাতুল কদরের রাত বলে থাকি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ রাত হাজার মাসের চেয়েও পুণ্যময়। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন এই লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়েছে। এই রাতে মহান আল্লাহ পাক মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করেন। তাই মুসলিম উম্মাহ’র নিকট শবে কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পূণ্যময় ও মহাসম্মানিত।

পবিত্র এই রজনীতে বেশি নেকীর আশায় দুঃস্থদের মাঝে ভালো খাবার বিতরণ করে থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। কেউ কেউ বিলিয়ে দেন টাকা পয়সা। মসজিদে মসজিদে মুসল্লির উপচে পড়া ভিড় থাকবে। জিকির আজকারের সুর আছড়ে পরবে সবখানে।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  পৃথক বাণী দেবেন। প্রতিবছরই নিজেদের বাণীতে পবিত্র রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

পবিত্র রমজানের এ রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে নিম্ন আকাশে মহাগ্রন্থ আল কোরআন অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’য়ালা সুরা ক্বদরে বলেন, ‘নিশ্চয় এ কোরআন আমি লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি।’ অন্য আয়াতে বলেন, ‘রমজান মাস, এ মাসেই কোরআন অবতীর্ণ হয়।’ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। এর অর্থ হলো, সাধারণ এক হাজার মাস তথা তিরাশি বছর চার মাস প্রতিরাত জাগ্রত থেকে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি নফল ইবাদত করলে যে সওয়াব হবে, এই এক রাতের ইবাদতে তার চেয়েও অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে।
 
শবে কদরকে আরবিতে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ‘আলফ’ তথা ‘হাজার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আলফ আরবি গণনার সর্বোচ্চ সংখ্যা। মুফাসসিররা বলেন, যদি এর চেয়ে বড় আরো কোনো সংখ্যা প্রচলিত থাকত, তাহলে আল্লাহ তায়ালা হয়তো তা-ই ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া, শবে কদরের ফজিলত তো আর হাজার মাসের মধ্যে সীমিত করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। তার সঠিক পরিমাণ কত, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এখানে সংখ্যার হিসাব মুখ্য নয়, আল্লাহর অশেষ দানটিই প্রধান হিসেবে প্রতিভাত হবে।
 
লাইলাতুল কদর উম্মতে মোহাম্মদীর একক সৌভাগ্য। আর কোনো নবীর উম্মতকে এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ কোনো রাত বা দিন দান করা হয়নি। এজন্য আল্লাহ তায়ালা তার বিশেষ দয়ায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের উম্মতকে মহিমান্বিত এ রাত দান করেছেন। যারা এ রাত ইবাদত করে কাটাবেন, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কারের ঘোষণা।


ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ১২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৬০৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন