সর্বশেষ
শনিবার ৩রা ভাদ্র ১৪২৫ | ১৮ আগস্ট ২০১৮

চুনারুঘাটে জনপ্রিয় হচ্ছে আম ও লটকন চাষ

বুধবার, জুন ১৩, ২০১৮

ড়ড়ড়.jpg
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

আকাশে-বাতাসে মৌ মৌ করছে আমের টক-মিষ্টি গন্ধ। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পুরোপুরি পাকতে শুরু করবে সুস্বাদু হরেক জাতের আম। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গাজীপুর ইউনিয়নের কেদারাকোটে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ২’শত ৪৬শতক জমির ওপর বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আম বাগান। রাজশাহীর আমের অবিকল স্বাদ, ফরমালিনমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বাগানের আম।

নিজ উদ্যোগে বছর পাঁচেক আগে, নিজ জমির ওপর প্রায় ১২’শত আম ও লটকনসহ বিভিন্ন ফল গাছের চারা রোপণ করেন জালাল উদ্দিন খান। নিবিড় পরিচর্যা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে প্রতিটি গাছই নুইয়ে পড়েছে আম ও লটকনসহ বিভিন্ন ফলের ভারে। আম্রপালি, ফজলি, হীম সাগর, লেংড়া, হাড়ী ভাঙ্গা, বাড়ী ওয়ান, আশিনা, মল্লিকা, জালি কুমরা ও ক্ষিরসাসহ ১০ থেকে ১২ জাতের আম ও লটকনসহ বিভিন্ন ফলের সমারোহ ঘটেছে বাগানটিতে। জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এরই মধ্যে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আম ও লটকনসহ বিভিন্ন ফল যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
 
বাগান মালিক জালাল উদ্দিন খান বলেন, 'রাজশাহী অঞ্চলে এই জাতীয় আম আমরা খেতাম। সেটা এই অঞ্চলে আনার জন্য ছোটবেলা থেকেই আমার একটা স্বপ্ন ছিল। এখন এই ২’শত ৪৬ একর জমির উপরে আমি যাত্রা শুরু করি। তিনি আরো বলেন অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তার ছেয়ে বেশি আম ও লটকনসহ বিভিন্ন ফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বেশ লাভবানও হব।

ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এই আম ও লটকনসহ বিভিন্ন ফল কিনতে বাগানে আসছেন দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা। এ উদ্যোগের কারণে আম ও লটকনের যোগানের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানের। এখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন' লোক কাজ করে।'

পাশাপাশি প্রতি বছরে বাড়ছে বাগানে লটকন চাষের সংখ্যাও। দেশের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত লটকন রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন স্থান সহ দেশ-বিদেশে। লটকন চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ঔষধিগুণসম্পন্ন সুস্বাদু লটকন বাগান করে চোখে দেখার মতো। এলাকার মানুষের কাছে লটকন অন্যতম অর্থকরী ফসল। যে কোনো মাঠ ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় লটকন বাগান গড়তে আগ্রহ বেড়েছে অন্যান্য কৃষকদেরও।

আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১শ থেকে ১শ ৫০’মণ ও লটকণ ১শ থেকে ১শ ৫০’মণ এবং সাথে রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের ফল। যার উভয়ের বাজার মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা হবে।

বাণিজ্যিকভাবে আম ও লটকনসহ বিভিন্ন প্রকার ফল চাষের প্রসার ঘটাতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জালাল উদ্দিন সরকার।

এম এস জিলানী আখনজী
চুনারুঘাট প্রতিনিধি


ঢাকা, বুধবার, জুন ১৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৯৩১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন