সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৫ | ১৯ জুলাই ২০১৮

আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়, বাস সংকট

শুক্রবার, জুন ২২, ২০১৮

lll.jpg
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থল মুখী যাত্রীদের প্রচন্ড ভিড় আরিচা পাটুরিয়া ঘাটে। শুক্রবার দিন ব্যাপী উভয় ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে শত শত যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগ পোহায়। দ্বিগুণ/তিনগুণ/চারগুণ ভাড়া পরিশোধ করে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌছানোর জন্য বাস, ট্রাক, পিকআপ, লেগুনায় উঠতে বাধ্য হয়।  নারী-শিশুসহ দরিদ্র শ্রেণীর যাত্রীদের কষ্টের সীমা ছিল না। কম ভাড়ায় তারা ট্রাকে গাদাগাদি করে গন্তব্যে পৌছানোর চেষ্টা করে।

শুক্রবার আরিচা পাটুরিয়া ঘাট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাস সংকটের কারণে যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একটি বাস আসার সাথে সাথে বাসে উঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে যাত্রীরা। সুযোগ বুঝে বাস শ্রমিকরা ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত ৫০০ ভাড়া টাকা দাবি করছে। ওই ভাড়ার দাবি মেনেই পাল্লাপাল্লি করে বাসে উঠছে যাত্রীরা। সময় ভেদে ঢাকা,গুলিস্থান, গাবতলী, গাজীপুর, টুঙ্গি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা , সাভার, নবীনগর, আশুলিয়া, বাইপেল পর্যন্ত বাস, পিকাআপ-লেগুনায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে ৩০০ টাকা, ট্রাকে এবং বাসের ছাদে ১০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

অপরদিকে, মানিকগঞ্জসহ নিকট দুরত্বে যাত্রীরা যানবাহন সংকটে বিপাকে পড়ে। বাধ্য হয়ে পিকআপ - লেগুনাতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করে গন্তব্যে পৌছানোর চেষ্টা করে।

দরিদ্র শ্রেণীর যাত্রীদের কম ভাড়ার আশায় গাড়ির অপেক্ষায় সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতে দেখা যায়।

সাভারে গার্মেন্টেস কর্মরত আলেয়া জানান, বেতন বোনাসসহ সামান্য টাকা নিয়ে দেশের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছিলাম।বাবা-মা, ভাই-বোনের সাথে ঈদ করতে গিয়ে টাকা প্রায় ফুরিয়ে গেছে। কর্মস্থলে পৌছাতে এতো টাকা ভাড়া পরিশোধের সাধ্য নেই বিধায় কম ভাড়ার গাড়ির অপেক্ষায় রয়েছি।

নবীনগরগামী আযাহার মিয়া জানান, আমি বউ ছেলে মেয়ে নবীনগর যামু। এখন ঘাটে এসে দেহি গাড়িও কম। আর ভাড়া এত বেশি যে আমার পক্ষে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এহন দেহি কিভাবে যাওয়া যায়!!!

এছাড়া, আরিচা পাটুরিয়া ঘাটে পৌছানো দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা জানান, লঞ্চ,স্পীড বোট ও ইঞ্জিন চালিত নৌকায় দ্বিগুন/তিনগুন ভাড়া দিতে হয়েছে। অপরপারেও যানবাহনে তাদের দ্বিগুন /তিনগুন ভাড়া দিতে হয়েছে।

অপরদিকে, আরিচা পাটুরিয়ার যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পেয়ে ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচলরত দ্বিতল বাসসহ অন্যান্য পাবলিক বাস এসে যাত্রি পরিবহন করতে দেখা যায়।সুযোগ বুঝে উভয় ঘাটে নামধারী মালিক শ্রমিক সংগঠনের স্থানীয় নেতারা যানবাহন প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা চাদা আদায় করে বলে যানবাহনের চালক-শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে অনেক যাত্রিকে বাসে উঠার জন্য ঘাট এলাকা থেকে ১ কিলমিটার এর অধিক রাস্তা পায়ে হেটে অথবা রিক্সা/ভ্যানে করে যেতে দেখা যায়।


ঢাকা, শুক্রবার, জুন ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন