সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

বারো আনা বিশ্বকাপে চার আনা রাজনীতি

সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮

7.JPG
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বিশ্বকাপ এমনই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকরন ভিআইপি বক্সের আসন ছেড়ে হাত ছুঁড়ে উদযাপন করতে থাকেন। দুই আসন দূরে বসা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাততালির ভাবার্থ বোঝা দায়, ঠিক ‘পুতিনীয়’ বলে ধরে নেওয়াটাই শ্রেয়।

ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাভার-কিতারোভিচ আলিঙ্গনে বাঁধলেন ম্যাকরনকে, নিজে রানার্স-আপ হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে তো অভিবাদন জানাতেই হয়।

বেশ একটা বিরতির পর তিনজনই নেমে এলেন মাঠে বানানো মঞ্চে, সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফানতিনো ও পুরষ্কার বাকি বিতরণীর অতিথিরা। মস্কোর আকাশ গুমোট হয়ে ছিল আগে থেকেই, বজ্রপাতও বারকয়েক হুমকি দিয়ে গেছে ঝড়-বৃষ্টির। সেটা নামলো ওই পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময়ই। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ভিজতে লাগলেন, ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভিজতে লাগলেন- তবে তাদের যে তাতে খুব আপত্তি ছিল সেটা বুঝার উপায় নেই অবশ্য।

তারা জাতিভেদ ভুলে খেলোয়াড়দের আলিঙ্গনে বাঁধতে ব্যস্ত, সেসব আলিঙ্গনে মিশে আছে অভিবাদন বা সান্ত্বনা। ভ্লাদিমির পুতিনের মাথার ওপর একটা ছাতা উঠে এল- পেছন থেকে কোনও সহকারি উঁচিয়ে ধরেছেন সেটা। রোমাঞ্চকর বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালের পর সব নজর যেন কাড়লো সেটাই।

রাশিয়া বিশ্বকাপটাও এমনই। বৃষ্টির মতো করেই শুরু থেকেই ছিল রাজনীতি, বৈরিতা, বিদ্রোহ, বিদ্বেষের শঙ্কা। পুতিন বা রাশিয়া সেসব থেকে রক্ষা পেয়েছে নিরাপত্তার, আতিথেয়তার ছাতা তুলে ধরেই।অথবা চেষ্টা করেছে সেভাবে। মাঠের ফুটবলের রোমাঞ্চ, ঘটন-অঘটন, ভিএআর- সব পসরা সাজিয়ে হাজির হওয়া বিশ্বকাপ সেসব শঙ্কাকে কাটিয়ে গেছে।

ছিঁটেফোঁটার মতো করে গায়ে লেগেছে অবশ্য বেশকিছু ‘রাজনৈতিক’ ব্যাপার। আর ছাতা ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকার মতো করে রেখে গেছে একটা প্রভাব। ফাইনালে ‘পুসি রায়ট’ নামের ব্যান্ডের চারজন দল মাঠে ঢুকে গেলেন ওই বৃষ্টির মতো করেই, নিরাপত্তার চাদর বা ছাতা ভেদ করে।

ফুটবল বিশ্বকাপ যখন ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’, তখন বৈশ্বিক বা দেশীয় রাজনীতির প্রভাব এতে থাকবে না, সেটা ভাবা বেশ কঠিনই।

সূত্র: প্যাভিলিয়ন


ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৪০০৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন