সর্বশেষ
শনিবার ৫ই কার্তিক ১৪২৫ | ২০ অক্টোবর ২০১৮

কৃষিবিদ তৈরির আঁতুরঘরে সন্তানদের পুনর্মিলনী

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮

ggg.jpg
বাকৃবি প্রতিনিধি :

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। বাংলা অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কৃষিশিক্ষার সূত্রপাতের ইতিহাস টানতে গেলে তাঁর নামটি চলে আসে। এমনকি তাঁর রাজনৈতিক দলের নাম ছিল কৃষক-প্রজা পার্টি। অবিভক্ত বাংলার মূখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো একটি কৃষি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় তিনি বেঙ্গল কৃষি ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এখানেই তৎকালীন শিক্ষার্থীরা কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেছিলেন। তবে কৃষিশিক্ষার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করতে থাকেন সেই সময়ের কৃষি শিক্ষার্থীরা।

১৯৫৮ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এএফও) থেকে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। তারা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে সবুজ বনানীর মাঝে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬১ সালে কৃষি ও ভেটেরিনারি নামের দুটি অনুষদ নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম। এর কয়েক মাস পরেই পশুপালন অনুষদের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয় কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ। পরের বছর যুক্ত হয় কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ। ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ যুক্ত হয়।

১ হাজার ২৫০ একরের এই বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়টি অনুষদের আওতায় ৪৩টি শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় আটাশ হাজার স্নাতক, আঠারো হাজার জন এমএসসি/ এমএস এবং সাড়ে ছয়শত জন পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।

বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফসল ও প্রাণীর রোগ-বালাই দমন পদ্ধতি, ভ্যাকসিন, শস্য ও মাছের নতুন জাত উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। উদ্ভাবিত শস্যের জাতের মধ্যে বাউকুল,বাউধান-২, সম্পদ ও সম্বল, বাউ-এম/৩৯৫, বাউ-এম/৩৯৬ নামের ৪টি উফশী জাতের ধান, ডেভিস, ব্যার্গ, সোহাগ, জি-২ ও বিএস-৪ নামে ৫টি সয়াবিন, আলুর মধ্যে কমলাসুন্দরি ও তৃপ্তি ইত্যাদি।

উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত পশুখাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি, চালের কুঁড়াকে ফার্মেন্টেশনের মাধমে খাদ্যমান বৃদ্ধি প্রযুক্তি, কৃত্রিমভাবে মহিশের ভ্রুণ তৈরির প্রযুক্তি, রাইবোবিয়াম জৈব সার উৎপাদন প্রযুক্তি, সয়েল টেস্টিং প্রযুক্তি, বীজের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সহজ প্রযুক্তি, অ্যারোবিক পদ্ধতিতে ধান চাষ প্রযুক্তি, শুকনো পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ প্রযুক্তি, পশুখাদ্য হিসেবে ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধির কলাকৌশল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

গবেষণা ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে এত ব্যাপক অবদান রাখায় ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ওয়েবমেট্রিকস র‌্যাঙ্কিং অব দি ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সাফল্য ও গৌরবের ৫৭ বছর উদযাপন উপলক্ষে ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অ্যালামনাই পুনর্মিলনী হতে যাচ্ছে। একই দিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দেশে প্রথমবারের মতো হাওর ও চর উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন। অ্যালামনাই পুনর্মিলনীকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নতুনরপে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অ্যালামনাই বাস্তবায়ন কমিটি পুনর্মিলনীকে সুন্দর ও স্বার্থক করে তোলার জন্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারও অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন ঘরের সন্তানগুলো ঘরে ফিরে আসবে।


ঢাকা, শনিবার, জুলাই ২১, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৫৫৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন